,

৮/৯ বছরে বিএসএফের গুলিতে বিধবা বালিয়াডাঙ্গীর ১৮০ নারী: শিশুরা অসহায়

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

প্রায় ৯ বছরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৮টি গ্রামের প্রায় ১৮০ জন গরিব কৃষক ও দিনমজুর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত হয়েছেন । নিহতদের পরিবার গুলো নিদারুন দু:খ-কষ্টে দিন যাপন করছে এবং ওই সব পরিবারের শিশুরা লেখা-পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচেছ ।

বিজিবি ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে ,এই উপজেলার আমজানখোর ইউপি’র পশ্চিশ হরিণমারী ঠকবস্তী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ৫বছর আগে রতœাই সীমান্তে বিএসএফে’র গুলিতে নিহত হন । তার স্ত্রী সমেনা বেগম(৩৮) খোলা কাগজ’কে বলেন স্বামী হারিয়ে তিনি ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন পার করছেন।

ওই বিধবা নারী বলেন একমাত্র ছেলে আক্কেল আলী ৫ম শ্রেণী ওঠার আগে স্কুল যাওয়া ছেড়ে দিয়ে সংসারের হাল ধরেছে । বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অভাবের কারণে মেঝো মেয়ে আনিকা ঝিয়ের কাজ করছে ঢাকায় । ছোট মেয়ে আরফিনার লেখাপড়া বন্ধ । একই গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী মজিরুল ইসলাম কেঁদে বলেন তার ২২বছরের ছেলে মোস্তফাও বিএসএফে’র গুলিতে মারা গেছে ।

পাশের গ্রাম বারসার প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী মিম দূঃখ করে বলে মোর(আমার) কেহ নাই! ওই শিশুর বাবা মজিবর রহমান ৭-৮বছর আগে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। এ পর তার মা রুমা বেগম তাকে ফেলে চলে যায় অন্যের সংসারে। ওই শিশুটির দাদি ছাড়া আর কেউ নেই। শিশুটির দাদি মর্জিনা খাতুন(৫৮) দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলেন,স্বামী ও ছেলে হারিয়ে মুই(আমি) নিঃস্ব। মুই যাওয়ার পর এই শিশুটিকে কে দেখবে? এই বলে তিনি মূর্ছা যান।

মর্জিনার মত অসহায়ও মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই ইউনিয়নের তারাঞ্জু বাড়ি বাঁশবাড়ি, লক্ষীডাঙ্গী, উদয়পুর তালবস্তি, শুটকি বস্তি, ঝাপর টুলি, ঠুকর বস্তি, কাশিবাড়ি, রতœাই, চড়ইগেদীসহ বড়পলাশ বাড়ি, ধনতলা ও পাড়িয়া ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের ১৮০ নারী। বারসা গ্রামের জাহানারা বেগম অভিযোগ গুলিতে তার স্বামী আশরাফুলের মৃত্যু হয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার ৯-১০ পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। ঘুষ দিয়েও জোটেনি বিধবা কার্ড । এমন অভিযোগ বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বামীহারা নারীদের ।

আমজান খোর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আকালু বলেন,তার ইউনিয়ন সহ পাশের এলাকার ১৮০ জন নারীর স্বামী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে ৮-৯ বছরে ।

মতামত.........