,

২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর আশা: যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেট (টার্মস অব রেফারেন্স) চূড়ান্ত হয়।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেট স্বাক্ষর করেন। কোনও কমিটির টার্মস অব রেফারেন্স সাধারণত স্বাক্ষরিত হয় না কিন্তু দুই দেশের আলোচনা সাপেক্ষে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয় দেশ থেকে ১৫ জন করে সদস্য থাকবেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব এই নীতিনির্ধারণী কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

গত ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষর করা হয়। এতে বলা ছিল, দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে এর টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করা হবে।

স্বাক্ষরিত টার্মস অব রেফারেন্সে রোহিঙ্গাদের ‘বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের অধিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই কমিটি শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নয়, তাদের রাখাইনে বসবাসের ব্যবস্থা (রিসেটেলমেন্ট) এবং মিয়ানমার সমাজে একীভূত (রিইন্টিগ্রেশন) করার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত থাকবে।

এ বিষয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যাবাসনের সব ধরনের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে এই কমিটি। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বর্তমান প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে যেকোনও ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশ একটি ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এটি প্রস্তুত করবে এই কমিটি। কবে নাগাদ এটি চূড়ান্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ফেরত পাঠানো শুরু করতে হবে এবং এটি তার আগেই হবে বলে আশা করছি।

এই কমিটি সীমান্তের উভয় পাশে মাঠপর্যায়ের অবস্থা দেখার জন্য সফর করবে। তাদের সহায়তা করার জন্য যেকোনও ধরনের টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করতে পারবে। এই কমিটি যদি কোনও বিষয়ে একমত না হতে পারে তবে বিষয়টি সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং তিন মাসের মধ্যে এটি মীমাংসা করা হবে।

সরকারের আরেক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তার ২২তম মিটিং হওয়ার কথা ছিল ১৯৯৭ এর মার্চে। কিন্তু একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না–এই অজুহাত দেখিয়ে মিয়ানমার এই মিটিং তিন বছর পর ২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে আয়োজন করে।

তিনি বলেন, এই কারণে আমরা বলেছি যেকোনও ধরনের মতভিন্নতা তিন মাসের মধ্যে সমাধান করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের রিপ্যাট্রিয়েশন, রিসেটেলমেন্ট এবং রিইন্টিগ্রেশনের সব ধাপে জাতিসংঘের যেকোনও সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পার্টনারকে সংযুক্ত করা হবে বলে দুইপক্ষ একমত হয়েছে।

এই কমিটি জাতিসংঘের যেকোনও সংস্থার তথ্য ব্যবহার করতে পারবে এবং তিন মাস পরপর নিজ নিজ দেশের সরকারের কাছে বাস্তবায়ন ও অগগ্রতির রিপোর্ট দেবে।

প্রত্যাবাসন ও মিডিয়া

স্বাক্ষরিত টার্মস অব রেফারেন্সে মিডিয়ার ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই কমিটি মিডিয়াকে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য সরবরাহ করবে এবং যারা ফেরত যাবে তাদের সিদ্ধান্ত অবহিত করবে।

এছাড়া, রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার আগে ও পরে উভয় সীমান্তের দু’পাশে সরেজমিনে অবস্থা পর্যবেক্ষণে মিডিয়াকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বরাষ্ট্র, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হামলা ও নির্যাতনের ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর কয়েক মাসে ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিয়িন

মতামত.........