,

হাতুড়ে ডাক্তারের রমরমা ব্যবসা বাঁশখালীতে, যেন দেখার কেউ নেই !

Doctor_Graphicমুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিভিন্ন হাট-বাজারে একশ্রেণীর হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। হাতুড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসার নামে প্রতারণার মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিং কর্মকর্তারা নীরবতা পালন করছে।

এসমস্ত হাতুড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রতি বৃদ্ধঙ্গলী দেখিয়ে রাতারাতি ডাক্তার সেজে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলা সদরসহ প্রত্যক অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য হাতুড়ে ডাক্তারসহ এল.এম.এফ প্রশিক্ষণপ্ত, এ্যালোপোথিক, হোমিওপ্যাথিক, কবিরাজ, হারবাল ও ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার।

এছাড়াও ইদানিং বাঁশখালী উপজেলা সদরে গড়ে উঠেছে অসংখ্যা লাইন্সেন বিহীন ল্যাব। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কবিরাজী ব্যবস্থ্যা এক সময় জনপ্রিয় ছিল কিন্তু এখন বিলুপ্তির পথে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ডিগ্রিহীন লোক নিজেকে হাকিম, কবিরাজ ও হারবাল চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছে। বিভিন্ন লতা-পাতা দিয়ে ওষুধ তৈরী করে। এসব ওষুধতো স্বাস্থ্যসম্মত নয়ই বরং এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীর অবস্থা দিন দিন জটিল থেকে জটিল হয়ে পড়ছে। এই ধরণের ওষুধ ক্রয় করে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। অনেক সময় স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিতে সব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে সহজ-সরল লোকজনের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করে এসব চিকিৎসক প্রবল দাপটের সাথে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। doctor_17190

অনেক সময় দেখা যায় হাতুড়ে ডাক্তার বা কবিরাজরা পোষ্টার, ষ্টীকার, ডিজিটাল ব্যানার মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গান-বাজনার মাধ্যমে লোক সমবেত করে তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নে প্রাপ্ত গাছ-গাছলায় তৈরি হালুয়া, সালসা, ট্যাবলেট, মলম ইত্যাদি বিক্রি করে থাকে। আর হাতুড়ে ডাক্তাররা মাইকযোগে যৌন রোগের যে অশ্লীল বর্ণনা দেয় তা শুনে ভদ্রলোকজনের মুখ ঢাকতে হয়।  ঐ সব ওষুধে রোগ ভাল হয়ে গেছে এমন সাক্ষীও হাজির করানো হয়। মাঝে মাঝে রোগীদের আস্থাভাজনের জন্য কাঁচের ফ্রেমে নকল সরকারী লাইসেন্স ও প্রশংসাপত্র দেখানো হয়। দাঁতের চিকিৎসায় চলছে আরেক অরাজকতা ।

এসব সার্টিফিকেট বিহীন ডাক্তার তাদের নামের শেষে জি.ডি এইচ.টি.টি.এস.ডি.সি (বাংলাদেশ ডেন্টাল সার্জন) ইত্যাদি যুক্ত করে। সুন্দর ডেকোরেশনে চাকচিক্যময় গ্লাস ঘেরা কক্ষে এসব ডাক্তার ওঁৎ পেতে রোগীর পাশে বসে থাকে। রোগী আসলে ভিতরে নিয়ে রোগীর হাতমুখ দেখে নিজেকে বড় ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা করে। দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা থাকে এখানে অতিযত্ন সহকারে দাঁত তোলাসহ স্বর্ণ ও রুপার ক্যাপ লাগানো হয়। এটি দাঁত ও মুখের নির্ভরযোগ্য আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র। a0d80212988ae22e2a735e90718d17a6-1

বাংলাদেশে দাতের চিকিৎসার জন্য বি.ডি.এস.ও ডি.এম.ভি ডেন্টাল দুটি ডিগ্রি রয়েছে। এসব রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ডাক্তারের সংখ্যা হাতে গোনা। অথচ ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে সেখানে ডেন্টিষ্টদের অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন মাত্রা যেখানে যোগ করেছে। কিন্তু একশ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ড্রাগ ইনফরমেশন এ্যান্ড মনিটরিং সেলের কথিপয় অসাধু ব্যাক্তির মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর সিরাপ তৈরি করে থাকে। এই সিরাপ জীবন বাঁচাতে নয়, ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সরকারী-বেসরকারী/এল.এম.এফ প্রশিক্ষণটি ওষুধ ফার্মেসী ব্যবসা করা জন্য চালু করছে সরকার। কিন্তু তা না করে বড় বড় ডাক্তার সেজে চেম্বার করে ১০০ থেকে ৫০০ টাকার প্রর্যন্ত ভিজিট হাতিয়ে নিচ্ছে হাতুড়ে ডাক্তার। তাদের নামের শেষে এম.বি.বি.এস (কলকাতা), এম.বি.বি.এস (ইউনাইটেট বিশ্ববিদ্যালয়), বি.ইউ.এম. (ডি.ইউ), ডি.এম.এফ (কলকতা) ইত্যাদি যুক্ত করে। বিপদে পড়েছে বহু সাধারণ মানুষ।

বাঁশখালীসহ প্রতিটি উপজেলায় ডিগ্রিহীন বা হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করা হলে কেউ আর এসব করার সহস পাবে না বলে মনে করেন ভুক্তভুগীরা। সুতরাং উল্লিখিত সমস্যাটি সমাধানকল্পে বিশেষ জনদের দৃষ্টি দান আবশ্যক বলে ভুক্তভোগী জনসাধারণ মনে করেন।

মতামত.........