,

হল ছেড়েছে কুবির শিক্ষার্থীরা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

2016_08_01_13_04_09_JdPiJH2Hvk42x4C3BxTdHsL2ukbIe2_originalমো: আরিফুর রহমান মজুমদার, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব হলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাস গেট, হল গেট, ভিসি বাংলোসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরাও সতর্ক পাহারায় আছেন।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক ছাত্রদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। হঠাৎ করে হল ছাড়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ অবস্থান নিচ্ছেন পার্শ্ববর্তী মেসবাসাগুলোতে।

2016_08_01_13_04_09_JdPiJH2Hvk42x4C3BxTdHsL2ukbIe2_originalদুপুরের দিকে আবাসিক হলগুলোতে পুলিশ ও ডিবি তল্লাশি চালিয়েছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল থেকে একটি পিস্তল, বেশকিছু রড, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মাহবুব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তার পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন পুলিশ সুপার আবিদ হোসেন।

এর আগে সিন্ডিকেটের এক জরুরি বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে। তবে বিশ্ববদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মুজিবুর রহমান।

এদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার প্রফেসর কুণ্ডু গোপী দাসকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব প্রক্টর আইনুল হক ও সদস্য ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. আহসান উল্লাহ।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু হলে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়, আহত হয় কমপক্ষে ৬ জন। নিহত ছাত্র খালেদ সাইফুল্লাহ কবি নজরুল হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সস্পাদক এবং মার্কেটিং ৭ম ব্যাচের ছাত্র।  আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

খালেদা সাইফুল্লাহর ‘হত্যাকারীদের’ বিচার দাবি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার সহপাঠীরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আইনুল হক সংবাদ সবসময়কে  জানান, রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি আলিফ গ্রুপের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস সবুজ গ্রুপের  বাক-বিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে মাঝরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ইলিয়াস সবুজ গ্রুপের খালেদ সাইফুল্লাহসহ ৫ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ খালেদ সাইফুল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

মতামত.........