,

সাদুল্যাপুরে ঘাঘট নদীর ভাঙনে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ হুমকির মুখে

Sadullapur-Nodi Vanggon-1সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা (সদর) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কয়েকটি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে সাদুল্যাপুর-লক্ষীপুর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের পূরাণ লক্ষীপুর গ্রামের প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হলে শতাধিক বসতবাড়িসহ আবাদি জমি তলিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের পথ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাদুল্যাপুর কলেজ খেয়াঘাট হয়ে লক্ষীপুরের হিয়ালী বাঁধের মাথা পর্যন্ত ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বেশ কয়েটি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাদুল্যাপুর-লক্ষীপুর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কামারপাড়া ইউনিয়নের পূরাণ লক্ষীপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীর বাড়ির সামনে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
কয়েকদিন ধরে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে ইতোমধ্যে বাঁধের একপাশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যহত থাকলে বাঁধের বাকী অংশ যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলিন হবে। এছাড়া সাজু ও শহিদুলের বাড়ীর সামনের প্রায় ৩০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এলাকার লোকজন উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার্থে বাঁশের সাঁকো ও কাঠের খুঁটি বসিয়ে কোন রকম যাতাযাত করছেন।
পূরাণ লক্ষীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনছার আলী জানান, ভাঙন রোধে এখনেই ব্যবস্থা না নিলে দুই-তিন দিনের মধ্যে বাঁধটি সম্পন্ন ভেঙে যাবে। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে শতাধিক বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশস্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে পূরাণ লক্ষীপুর, নুরপুর, হিয়ালী, কামারপাড়া, কিশামত বাগচী, কিশামত বড়বাড়ী, লক্ষীপুর, স্কুলের বাজার ও কুপতলাসহ কয়েক ইউনিয়নের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবিসহ হাজার হাজার জনসাধরণের চলাচলের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
একই গ্রামের সাজু মিয়া ও শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধ ভাঙছে। কিন্তু ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এবছর বাঁধটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ভাঙন ঠেকাতে এখনেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা করতে হবে। ভাঙনের হাত থেকে বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে বাঁধের পশ্চিম ও উত্তর পাশের শতশত বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশস্কা রয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (সাদুল্যাপুর উপজেলার দায়িত্বরত) সহকারী প্রকৌশলী মো. আখলাকরুল জামিল সংবাদ সবসময়কে জানান, বাঁধের ভাঙনের বিষয়টি তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। ভাঙন রোধে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থায়ীভাবে ঘাঘট নদীর ভাঙনের হাত থেকে বাঁধ রক্ষার্থে নদীর লুপ কাটিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মতামত.........