,

সরকারও পেতে পারে বহুগুণ বেশী রাজস্ব, বিদেশী ড্রাগন ফল চাষে লাভবান নরসিংদীর চাষীরা

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা :

বিদেশী ড্রাগন ফলের চাষবাদ করে লাভবান হচ্ছে নরসিংদীর চাষীরা। থাইল্যান্ডের সুস্বাদু এ ড্রাগন ফল এখন সারা বিশ্বে সুপরিচিত ও বিশ্বখ্যাত। অল্প জায়গায় স্বল্প খরচেই এ ড্রাগন ফলের বাগানের চাষ করা যায়। অতিথি আপ্যায়নে পুষ্টিগুণে ভরা ওষুধি ড্রাগন ফলের খ্যাতি রয়েছে নরসিংদী সহ সারাদেশে। সেই সাথে ড্রাগন ফল মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সুখ্যাতি অর্জনের পর বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তারই ধারাবাহীকতায় মাধবদীর উত্তর শিলমান্দী, নরসিংদীর শিবপুর, রায়পুরাতে ড্রাগন ফল চাষে পাওয়া গেছে সফলতার বেশ ক’টি মূখ।

নরসিংদীতে ২-৩ বছর আগেও ড্রাগন ফল পরিচিত ছিল না। এখন এটি বেশ পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ গুণ থাকায় এ ফলের গাছটি রায়পুরার প্রায় বাড়ির আঙ্গিনা ও ছাদে চাষ করা হচ্ছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। শুধু একটু পরিচর্যা করলেই ড্রাগন গাছে ফল ধরে। তাই ড্রাগন ফলের চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে এখানকার চাষী ও জনসাধারনরা।

মাধবদী থানার শীলমান্দি গ্রামের ড্রাগন ফল চাষি সালাম জানান, ৫শতাংশ ফসলি জমিতে ১০০টির বেশি ড্রাগন গাছ লাগিয়ে ছিলেন। প্রত্যেকটি গাছই এখন ফুলে ফলে ভরে আছে। ইতোমধ্যে তিনি ৪৫০টাকা দরে এক মণের বেশি ফল বিক্রিও করেছেন। আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি। অনান্য ফসলের পাশাপাশি ড্রাগন চাষ অধিক লাভজনক বলে জানান তিনি।

নরসিংদীর রায়পুরার চর মরজালের সৌখিন ড্রাগন ফল চাষি রহিম বলেন, ‘প্রথমে ঢাকার একটি ফলের দোকান থেকে ড্রাগন ফল কিনে খাওয়ার পর থেকে নার্সারী থেকে গাছ সংগ্রহ করতে থাকি পরে বাড়ির ছাদেই এর চাষাবাদ শুরু করি। এ বছর বেশ কিছু ফল ধরেছে। বাড়ির ছাদে টবে বা ড্রামের মধ্যে জৈব সারের মাটি ফেলে তাতে ড্রাগন চারা পুতে দিলেই হয়। ড্রাগন গাছ তিন ফুট উঁচু হলেই একটি শক্ত চিকন খুঁটির সঙ্গে সাইকেলের পুরাতন টায়ার ঝুঁলিয়ে দিলেই তাতে ডালপালা বিস্তার করে লতা ছড়াতে থাকে গাছটি। কয়েক মাস পরে ফুল ফোটে এবং ফল আসে। ড্রাগন ফল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

’কৃৃষি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, এ বিদেশি জাতের ড্রাগন ফলের চাষাবাদে চাষীদের সাফল্য দেখিয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতাধীন নরসিংদীর শিবপুর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্র। নরসিংদীর মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন এখানকার গবেষকরা। তাই যুব উন্নয়নের আর্থিক সহায়তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্তৃক ড্রাগন চাষে আগ্রহী চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মাধ্যে প্রায় বেশ কিছু ড্রাগন ফলের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

গবেষণাকেন্দ্রের সূত্র মতে, ড্রাগন ফল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণমন্ডলীয় এলাকার ফল। এটি ক্যাকটাস জাতীয় ফলের অন্তর্ভুক্ত। ড্রাগন ফলের গাছ লতানো ইউফোরবিয়া গোত্রের ক্যাকটাসের মতো। ২০১৩ সাল থেকে নরসিংদীতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষের জন্য প্রয়োজন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বছরে একটি ড্রাগন গাছ থেকে প্রায় ৩/৪ কেজীর মত ফল পাওয়া যায়। এসব ফল আকার ভেদে ৪৫০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। উল্লেখ্য যে নরসিংদী ও মাধবদীতে ড্রাগন ফল চাষী উদোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে বিদ্যমান সমস্যা গুলো চিহিৃত করে এ সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারলেই এখানকার উৎপাদিত ড্রগন ফল দেশের চাহিদা পূরন করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারবে এবং শুধু ড্রাগন ফল চাষীরাই নয় সরকারও এ থেকে রাজস্ব পাবে বহুগুণ বেশী।

এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথযত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক উদ্যোক্তারা।

মতামত.........