,

শেষ হলো শিশুতোষ চলচ্চিত্র “সত্যযুগের” প্রথম পর্বের শুটিং

স্টাফ রিপোর্টার:

শিশুতোষ চলচ্চিত্র “সত্যযুগের” প্রথম পর্বের শুটিং কিছু দিন আগেই শেষ হলো । সিনিয়র শিল্পীদের কাজ দিয়ে শুরু হলো এই চলচ্চিত্রের কাজ। আশুলিয়ার কবিরপুর এলাকায় বাইদগাঁও গ্রামের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্যের চিত্রায়ন হয়।

প্রথম পর্বের শুটিং এ ফারজানা ছবি,শিমুল খান, আবু তাহের (তারা ভাই,এস আই ফারুক, উজ্জ্বল কবির হিমু, সেলিম রেজাসহ আরো অনেকে প্রথম পর্বের শুটিং এ অংশগ্রহন করেন। সত্যযুগের চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করছেন তপন আহমেদ।

“সত্যযুগে” চলচ্চিত্রে পর্যায়ক্রমে আরো সিনিয়রশিল্পী ও একজাক শিশু কিশোর এই অভিনয়ের কথা রয়েছে। বর্তমান সময়ের শিশুদের সামাজিক অবস্থান ও মানবিক বিকাশ উন্নয়নের বাস্তব চিত্র নিয়ে তিনি এই শিশুতোষ চলচ্চিত্রটি নির্মান করছেন।

গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে উঠা এক শিশুর জীবন চিত্র এই সত্যযুগ। শিশু বয়সের চিন্তা ও আসক্তিটা হয় নির্মল সুন্দর সত্য একটি স্বপ্ন। তখন অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে।

অনেক কিছু উৎসর্গ করে হলেও শিশু মনের ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে চায়, তার অনুরাগ, ইচ্ছের বহির্প্রকাশ করতে চায়। শিশু মনের সত্যাগ্রহী সেই সময়টাই সত্যযুগ বা গুলডেন এজ। শিশুদের উদ্দেশ্যে নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র শিশুদের মধ্যে বোঝাপড়া, মনস্তত্ব, কল্পনা ও ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রই শিশুতোষ চলচ্চিত্র।

সত্যযুগ চলচ্চিত্রের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ প্রথমবার চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেও তিনি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। নিজের লেখা কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্যে তিনি নিজেই এই চলচ্চিত্রের পরিচালনা করছেন। নির্মানাধীন শিশুতোষ চলচ্চিত্রের প্রযোজনা করছেন ইউ ইন মিডিয়া।

পরিচালক জানান, ঢাকাই সিনেমাতে শিশুতোষ চলচ্চিত্র উপেক্ষিত। শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মান ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি হতাশাজনক। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক শিশুদের মন ও চরিত্র গঠন উপযোগী চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য আরো সুযোগ সুবিধা ও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কিন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আশানুরূপ ভাবে দেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মান হচ্ছে না। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নে পুরো পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় চলে আসায় স্বভাবতই উন্নত বিশ্বের তৈরি হাইটেক শিশুতোষ চলচ্চিত্র শিশুদের এবং অভিভাবকদের এখন আকর্ষন করছে।

শিশুতোষ চলচ্চিত্রের ভেতরে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে সমাজের নানা ব্যবস্থার কথা। তাদের মনের ভেতরে ভাবনার একটা জায়গা সৃষ্টি করে নিতে পারে শিশুতোষ চলচ্চিত্র। দেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্রের সংখ্যা এতই কম যে গুনতে গেলে হাতের আঙ্গুল বেশি হয়ে যায়।তাই কি কারনে নির্মাতাদের শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মানে অনীহা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দেশের বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা নাজুক হলেও তা এক সময় ঘুরে দাঁড়াবে বলে তার বিশ্বাস। মোট কথা বাংলাদেশের সিনেমা জগতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।

শিশুতোষ চলচ্চিত্রেও তার ছোঁয়া লাগবে এটাই কাম্য। শিশুদের নিয়ে গল্প ও ভাবনা নিয়ে নির্মাতারা শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মানে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা করেন।

মতামত.........