,

রাজুর চাকুরীচ্যুতির প্রতিবাদে ২৮শে এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

২৪ ঘন্টার সংবাদ ভিত্তিক টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন থেকে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ)র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর মুহিদুল ইসলাম রাজুকে কোন প্রকার কারণদর্শানো ছাড়া অন্যায় ভাবে চাকুরীচ্যুত করায় এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সিইও শামসুর রহমান মোমেন এর নির্দেশে ও হেড অব নিউজ মামুন আবদুল্লাহর যোগসাজশে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া ও অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত সকল সাংবাদিকদের চাকুরীতে পূর্ণবহালের দাবীতে ২৮শে এপ্রিল দুপুর ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসুচি পালন করবেন তার সাবেক সহকর্মীরা।

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারী আচরণ এবং যখন-তখন চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক কর্মীরা।ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মুহিদুল ইসলাম রাজুর সাবেক সহকর্মীরা এই ঘোষনা দেন। ২৮শে এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসুচিতে গনমাধ্যম কর্মীদের অংশ নেওয়ার আহবান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ২০১১ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশী সংবাদকর্মীকে নানা অযুহাতে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে এবং অনেককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

মুহিদুল ইসলাম রাজুকে চাকুরিচ্যুত করার চিঠি

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাবেক সংবাদকর্মী শিবব্রত বর্মন, নঈম তারেক, জাকির হোসেন, শাওন হাসনাত, রহমান মিজান, রুবায়েত ইফতেখার, ওবায়েদ মাসুম, আমিরুল ইসলাম মিঠু, ফয়সাল সিদ্দিকী শুভবর্ণ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর কর্মী শিবব্রত বর্মণ বলেন, ‘মহিদুল ইসলাম রাজু একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সাংবাদিক। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে তিনি সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। দৈনিক সংবাদে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো যে কারো জন্য অনুকরণীয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’

এ রকম একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে গত ১৮ এপ্রিল যেভাবে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, তা এ পেশার সঙ্গে জড়িত যে কাউকে আহত ও উদ্বিগ্ন করবে।’

‘কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া, কোনোরকম আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আকস্মিকভাবে তাঁর হাতে অব্যাহতিপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি ওই টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারী ও অপেশাদারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

শিবব্রত বলেন, আমরা মনে করি, এই ঘটনা পুরো গণমাধ্যম শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকল সাংবাদিকের জন্য একটি অশনিসংকেত। ২০১১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের ৬০ জনের বেশি সাংবাদিককে নানা অজুহাতে চাকুরিচ্যুত বা চাকরি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, পেশাজীবনে তারা অহেতুক অবমাননার শিকার হয়েছেন। অসহায়ভাবে তারা তা মেনে নিয়েছেন। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ও চাকুরিচ্যুতি একটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিন্তু ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে যেভাবে তা করা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক, তা অসুস্থতার লক্ষণবাহী।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গুটিকয়েক প্রভাবশালীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে কথায় কথায় সাংবাদিকদের অমর্যাদাকরভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

আমরা এর প্রতিবিধান চাই দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এটি কেবল একজন সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর অবিচারের প্রতিকারের প্রশ্ন নয়, এটি পুরো গণমাধ্যম শিল্পে পেশাদারিত্বের পরিবেশ টিকে থাকা না থাকার প্রশ্ন।

সাংবাদিকের মর্যাদা না থাকলে কী করে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা টিকিয়ে রাখা সম্ভব?

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে কোন প্রকার কারণদর্শানো ছাড়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া ও অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুতির ঘটনা সবচেয়ে বেশী এতে সাংবাদিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, চাকুরিবিধির সব নিয়মকানুন ভঙ্গ করে কোন পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়া এ ধরনের চাকুরীচ্যুতি কোনভাবে মেনে নেওয়া যায়না, আমরা এ ধরনের ঘটনার গভীর নিন্দা জানাচ্ছি, অবিলম্বে মুহিদুল ইসলাম রাজু সহ পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া ও অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত সকল সাংবাদিকদের চাকুরীতে পূর্ণবহাল করা না হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।

উল্লেখ্য নিউজরুমে একটি নিউজের বিষয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মামুন আবদুল্লাহর সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে মুহিদুল ইসলাম রাজুকে পদত্যাগ করতে বলা হয়, তিনি পদত্যাগ না করায় সিইও শামসুর রহমান মোমেন এর নির্দেশে ও হেড অব নিউজ মামুন আবদুল্লাহর যোগসাজশে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত চাকুরীচ্যুত করার একটি চিঠির মাধ্যমে কোন প্রকার কারণদর্শানো ছাড়া অন্যায় ভাবে মুহিদুল ইসলাম রাজুকে চাকুরীচ্যুত করা হয় বলে জানান মুহিদুল ইসলাম রাজু।

মুহিদুল ইসলাম রাজুকে চাকুরীচ্যুত করায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, এছাড়াও উক্ত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ১৮ই এপ্রিল বুধবার বিকেলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উক্ত নিন্দা জানানো হয়।

মতামত.........