,

ময়নার জন্য বাগেরহাটে ২৫ দিন ধরে বাউল শিল্পী জুহুরের অনশন

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস :‘

এ জীবন আর রাখবনা আমি! আমার ময়নাকে যারা নিয়ে গেছে তাদের যেন বিচার হয় আল¬াহ, তুমি ছাড়া আমার কথা শোনবার মতো আর কেউ নেই। ময়নাকে যদি কাছে না পাই তাহলে আমি আর কিছুই মুখে তুলব না। এভাবে যদি আমার মরণ হয় সেও ভালো’। স্ত্রী’র জন্য বুক চাপড়িয়ে এভাবে বিলাপ করছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আদিখালী গ্রামের মৃত সোহরাব  মোল্লা পুত্র জুহুর   মোল্লা(৪৫)।

বুধবার চিতলমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্ত্রী ময়নার জন্য এভাবে বিলাপ করতে দেখা যায় জুহুরকে। এ সময় কান্না জড়িত কণ্ঠে জুহুর জানান, তিনি মাস দুয়েক আগে উপজেলার আড়–য়াবর্ণি গ্রামের মৃত মুনসুর মল্লিøকের কন্যা ময়না আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটছিলো। নিজের কোন বাড়ি-ঘর না থাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী’কে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু একটু ভুলের কারণে ময়না আজ তাকে ছেড়ে চলে গেছে। নিজের ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করেন জুহুর। কিছুদিন আগে চুলায় রান্না পুড়ে গেলে সে ময়নাকে খুব মারপিট করে। মেয়েকে মারধর করবার খবর পেয়ে ময়নাকে নিয়ে গেছেন তার মা। এর পর থেকে জুহুর এখন পথে পথে ঘুরছে আর কান্নায় ভেঙে পড়ছে। যাকে পাচ্ছেন তাকে জড়িয়ে ধরে বলছেন আমার ময়নাকে এনে দেন। সে আর কখনো ময়নার গায়ে হাত তুলবেনা বলেও প্রতিজ্ঞা করেন। নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন ময়নাকে বলেও জানান তিনি। ময়নাকে না পেলে সে আর  কোন আহার করবেনা বলেও আক্ষেভের কথা জানান। গত ২৫দিন ধরে তিনি ভাত মুখে তোলেননি। সামন্য পাউরুটি খেয়ে এখনো বেঁচে আছেন বলেও জানান তিনি।

জুহুর  ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, তিনি একজন ভালো বাউল শিল্পী। এ পর্যন্ত ৪টি বিয়ে করেছেন কিন্তু আগের স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ময়নাই ছিলো তার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ।  সে যখন চলে গেছে এখন আর বাঁচার কোন ইচ্ছা নেই।

আড়–য়াবণি গ্রামের ময়নার এক প্রতিবেশি মো. জাফর শেখ জানান, জুহুরকে নিয়ে তিনি গত সোমবার ময়নাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন কিন্তু ময়নার পরিবারের লোকজন কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। জুহুর অনাহারে থাকায় তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে কোন খাবার খেতে চাইছে না।

মতামত.........