,

মৃত্যুপুরীর পাশে আমিই দাঁড়িয়েছিলাম, আমিই পারব আসনটি উপহার দিতে: আমিনুল ইসলাম

দল মনোনয়ন দিলে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

একুশে পত্রিকা’র সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটা অংশ হচ্ছে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রায় সব রাজনীতিবিদেরই চাওয়া। যদি সেই প্রার্থীতা চাওয়ার প্রতিযোগিতায় বা প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব যদি মনে করে আমি যোগ্য, কিংবা আমার এলাকার মানুষ যদি মনে করে আমি যোগ্য সেক্ষেত্রে আমাকে নমিনেশন দিলে আমি নির্বাচন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রায় শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া একটা মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তখন আমিই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। মানুষ এটা ভুলে যায়নি। তাই তারা আমাকে চায়। আমি বিশ্বাস করি, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় মানুষের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগকে আমি আসনটি উপহার দিতে পারবো।

ধরুন, দল আপনাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দিলো- সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে, আপনি কি মেনে নেবেন?

এই প্রশ্নে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলামের জবাব- ‘দল আমাকে মনোনয়ন না দিলে মনোনয়নের আশায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করবো না। অথবা রাজনীতি ছেড়ে ঘরে বসে থাকবো না। রাজনীতি আমার কাছে ব্যবসা নয়। অথবা রাজনীতি আমার কাছে পিঠ বাঁচানোর, পেট চালানোর বাহন নয়। রাজনীতি আমার ব্রত। আমি দল করি। দল যে সিদ্ধান্ত নেয় সে সিদ্ধান্তের বাইরে আমার যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি বিপ্লবী নই। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। আমি যদি মন্ত্রী-এমপি, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতাম তাহলে সাতকানিয়ায় জন্মগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ কেন করবো? আমি বিএনপি করতাম, আমি জামায়াত করতাম! আমার কাছে মন্ত্রী-এমপিটা টার্গেট না। টার্গেট হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে এদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া।

এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, বলতে গেলে আমি মা’র পেট থেকে আওয়ামী লীগ করে আসছি। আমার বাবা আওয়ামী লীগ করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার ইমিডিয়েট ছোটভাইয়ের জন্ম। আমার বাবার কাছে শুনেছি, মা’র মুখে শুনেছি- সে বাবার কোলে বসেই আদো আদো গলায় ‘জয় বাংলা’ বলতো। তখন তার বয়স দেড় বছর। আমরা হলাম সেই পরিবারের সন্তান। আমি আওয়ামী লীগ করলে আওয়ামী লীগ আমাকে এমপি বানাবে, মন্ত্রী মানাবে, কেন্দ্রীয় নেতা বানাবে- সেই স্বপ্ন আমাদের কোনোদিন ছিল না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের ভালোবাসাটা সেরকমই। মৃত্যু পর্যন্ত সেই ভালোবাসা ধারণ করবো। আমরা যখন রাজনীতি করি কখনো ভাবিনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবে।

আমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ আমার মতো একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দু-দুবার মেম্বার একবার উপ-প্রচার সম্পাদক বানিয়েছেন। ওনারই স্নেহ ভালোবাসার কারণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে চারবার ছিলাম (একবার সিনিয়র সহ সভাপতি) সহ।

দলীয় প্রধান ও দলের সাধারণ সম্পাদক প্রায়ই বলেন, যাদের জনভিত্তি আছে, দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ এমন নেতাদেরকেই মনোনয়নের জন্য বাছাই করা হবে। কিন্তু নির্বাচন এলে দেখা যায়, ত্যাগী নেতার পরিবর্তে জামায়াত-সম্পৃক্ত অথবা জামায়াত ঘরানার লোকজনও আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের মনোনয়ন পান, এমপি হন। কেন এমন হয়?

আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ একটা গণসংগঠন। একটা মাল্টিক্লাস অর্গানাইজেশন। এখানে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ আছে। এরকম গণসংগঠনের চরিত্রের মধ্যে কখনো কখনো এমন প্রবণতা ঢুকে যেতে পারে। এটা হচ্ছে সামাজিক বাস্তবতা। আপনার সন্তান আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে প্রেম করে যদি বিয়ে করে ফেলে আপনি সেটা হয়তো মেনে নেবেন না। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে অনেক কারণে সেটা মেনে নিতে হবে। মাল্টিক্লাস অর্গানাইজেশনে এরকম হতে পারে। যদিও সেটা ভালো কিছু নয়। বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে যদি আওয়ামী লীগকে তুলনা করেন দেখবেন, আওয়ামী লীগের সেই প্রবণতা অনেক কম। আমাদের চেষ্টা আছে সামনের দিকে সেটাকে শূন্যে নামিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রী এ কারণেই বলেছেন, দলের ত্যাগী কর্মীরা অভিমানী হয় কিন্তু বেঈমান হয় না।’

এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম জানান, একটা সাংবাদিক সম্মেলনে একজন সিনিয়র সাংবাদিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনার যে ইমেজ আপনার দল সেভাবে আপনার সাথে তাল মিলাতে পারছে না। আপনার ইমেজ ও নেতৃত্বের সাথে যদি আপনার দল ফিফটি পারসেন্ট তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যেতো। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা কিন্তু গাছের ফল এবং ফুলটাই দেখেন। গাছ যে সুন্দর সুন্দর ফুল দেয়, ফল দেয় এর ভিত্তিমূল কিন্তু তার শেকড়। শেকড় যদি না থাকে তাহলে গাছে ফুলও ফোটে না, ফলও আসে না। আমার দলের শেকড় হচ্ছে তৃণমূল। আবারও বলছি, আওয়ামী লীগ গণসংগঠন, কোনো শ্রেণী সংগঠন নয়। তাই অনেক সময় বাস্তবতার কারণে মাঝে মাঝে এরকম ঘটে যায়।

-এই উদাহরণ কিন্তু আপনার এলাকাতেও আছে। শুরু থেকেই অভিযোগ, সাতকানিয়ার বর্তমান সংসদ সদস্য জামায়াতের একজন পৃষ্ঠপোষক। অথচ হুট করে এসে তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন, এমপি হলেন। এজন্য এখনো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদের মাঝে কষ্ট আছে, রক্তক্ষরণ হয়।

এ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত। মাঝে মাঝে ‘এরকম কিছু’ মিস ইনফরমেশনের কারণে হয়ে যেতে পারে। এরকম কিছু ভুল হতে পারে। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের যদি জামাত বা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী শক্তির সাথে ন্যূনতম সখ্যতার অভিপ্রায়ও থাকতো তাহলে বঙ্গবন্ধুকন্যা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতেন না। কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার আগের দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ফোন এসেছিল। জাতিসংঘের মহাসচিবের ফোন এসেছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা, নিজের জীবন কোনোকিছুকেই তোয়াক্কা করেননি। তিনি বাংলাদেশের মানুষের সাথে যে কমিটমেন্ট করেছিলেন আমি ক্ষমতায় যেতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো- এবং সেটি করেছেন। সে মানুষটির পক্ষে কখনোই এবং সেই দলের পক্ষে কখনোই জেনেশুনে এরকম কাউকে পেট্রোনাইজ করা বা শেল্টার দেওয়া সম্ভব নয়।

সুত্র: একুশে পত্রিকা

মতামত.........