99999999ওবায়েদ, মদিনা সৌদি আরব থেকে:

বেলা ১২টার দিকে হবে গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী যাচ্ছি প্রচন্ড জ্যাম গাড়ীর চাকা ঘোরা একদম ভুলে গেছে কিছুক্ষন পর চাকাটা একটা চক্কর দিয়ে আবার থেমে যায় সঙ্গে গা ফাটা সুর্যের তাপ.পিপাসাতে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, এই দিক ঐদিক করছি পানি বিক্রি করার লোক খুজছি।
চারিদিকে তাকাতেই হঠাত একটা ছোট মেয়ে বয়স আনুমানিক ৭/৮ বছর হবে,হাতে কিছু ফুল বিক্রির জন্য খুব তাড়াহুড়া করছে এ গাড়ী ও গাড়ী খুব তাড়াহুড়া করে যাচ্ছে। আমি মনে মনে ভাবছি যাক জ্যাম হওয়াতে মেয়েটার সুবিধা হলো আমার কষ্ট হলেও ও কিছু ফুল বিক্রি করতে পারবে। তবে ওর তাড়াহুড়া দেখে একটূ অবাক হয়ে গেলাম,আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলল ! চিন্তা করছি নিজের বাবার কাছে চাওয়া আবদার গুলো,ছোট থেকে আমি নাকি লেখা পড়ায় ভালএই সুবাদে বাবার কাছে বায়নাটা বরাবর বড় ছিল।

888888888
বাবা আমাকে কোন কিছু চাও্য়াতে না করেছে এমন আমার মনে নেই মায়ের ভালবাসা সেতো আর বর্ননা করা যায়না।মায়েরা যেমন হয়ে থাকে। যখন যা খেতে চাই আর অমনি রান্না করে হাজির।এই অর্জন গুলো আমাকে খুব মনে করিয়ে দিচ্ছে। একরকম সপ্নের সিড়িতে উঠতে লাগলাম,আর মেয়েটার গায়ের ছেড়া জামা,খালি পায়ের হাটার কষটের আওয়াজ,চুলের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়া ক্লান্তের নোনা পানির ঘাম,চোখে মুখে প্রচন্ড রকমের অভাবের অস্থিরতা,খুব কষ্ট দিল আমাকে।
একপর্যায় বলে ফেললাম এই মেয়ে এত তাড়াহুড়া করছ কেন? প্রথম ডাকে মেয়েটা শুনেনি হঠাত করে একটা রিকশায় ধাক্কা খেল সামান্য জন্য নিচে পড়েনি। রিকশার উপর বসা ভদ্রলোক রেগে গেলেন এই মেয়ে তুমি এমন করছ কেন? তুমি তো গাড়ীর নিচে পড়বে জ্যাম পড়লে আর হুশ থাকেনা! মেয়েটাকে একদম শাসিয়ে তোলল, মেয়েটা শুধু বলছে আংকেল একটা ফুল নেন আমি ১০ টাকায় বিক্রি করি আর এটা ২০ টাকায়,আমি ৮টাকায় দিবো একটা ফুল নেন,খুব আকুতি করছে উনি সাড়া না দেওয়ায় আবার দ্রুত গতিতে অন্য একটা কারের কাছে গেল,গাড়ীর ড্রাইভার গ্লাস আটকে দিলেন।
শুধু অবাকে তাকিয়ে দেখছি আমার ভিতর টা অস্থির লাগছে আমি ডাক দিলাম এই মেয়ে তুমি এত তাড়াহুড়া করছ কেন জ্যাম চলে গেলে আবার জ্যাম আসবে তখন বিক্রি করবে এত তাড়াহুড়া করনা। বলা শেষ না করতেই আমার কাছে আসল। বলছে স্যার একটা ফুল নেন না! আমার মা খুব অসুস্থ বলে কেদে দিল। এতক্ষন বিক্রির জন্য যে তাড়াহুড়া করল একটা ফুল বিক্রি করতে পারিনি আমি বললাম ঠিক আছে বল কোন টা নিবো? ও একটা ফুল ধরিয়ে দিয়ে বলল স্যার এটা নেন এটা আপনি নেন আপনার লাভার পছন্দ করবে।
আমি ভাবছি তোরা আবার এই ক্ষুধা পেটে এটাকেও অনুভব করছ! এটার দাম ২০ টাকা আমাকে ১৮ টাকা দিলেই হবে। আমি বললাম কেন ১৮ টাকা দিবো? ২০ টাকা নে ও মায়ার চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল। স্যার আপনি যদি না নেন তাই বলছি । আমি শুধু আল্লাহকে বললাম আল্লাহ তুমি এই মেয়েটাকে ভাল একটা রিজিকের ব্যাবস্থা করে দাও। ফুল টা দিয়ে ও আবার ফুল বিক্রিতে নেমে গেল। আমি ফুল টাকে সামনে বসা ছোট শিশুটাকে দিয়ে দিলাম।
জ্যাম কিছুটা কমে গাড়ী সামনে গেল মেয়েটাকে আর দেখছিনা। দাঁড়িয়ে সামনের দিকে দেখছি জ্যাম কেমন আছে।লম্বা জ্যাম দেখে ভাবছি একটু পায় হেটে চলে যাই। কেউ কেউ নামছেও আমি ও নেমে গেলাম।একটা মেডিসিনের দোকান খুজ্জি কিছু মেডিসিন কেনব।একটা ফার্মেসীতে ডুকতেই দেখি ঐ ফুল বিক্রি করা মেয়েটা।একটা ঔষধ নিবে ঔষধ টার দাম ৫০ টাকা ওর কাছে ৪৫ টাকা আছে আর টাকা নাই দোকানদার কে অনুরোধ করছে কিন্তু দোকানদার দিচ্ছেনা।
মেয়েটা মাথাটা ঘুরিয়ে আমার দিকে মায়ার চোখে তাকায়লো। আমি বললাম দোকানদার কে ভাই ঔষধ টা ওরে দেন আমি ৫ টাকা দিচ্ছি। ঔষধ টা পেয়ে খুব তাড়াহুড়া করে চলে গেল। আমি ঔষধ কিনছি টাকা পে করব এমন আবার মেয়েটা খুব হাপিয়ে হাপিয়ে আসছে। দোকানে ঢুকতেই বলল স্যার ঔষধ টা লাগবেনা। আমি বললাম কেন? বলে স্যার আমার মা মইরা গেছে, মানে? বলে স্যার আমার মার প্রেসার আছে এই ঔষধ টা খেলে একটু ভাল থাকে আজ সময়মত ঔষধ টা খাওয়াতে পারিনাই বলে হাউমাউ করে কেদে উঠছে।
দোকানদার বলছে এই কথা আমাকে আগে বলবিনা! মেয়ে চিতকার করে কাদছে আর বলছে এই গুলো বললে তো আপ্নারা বকা দেন। বলেন চালাকি করি দোকানদার খুব অনুতপ্ত হয়ে গেল। মেয়েটাকে শান্তনা দিলাম আর বলছি আহারে তোর তাড়াহুড়া করা গাড়ির নিচে পড়া সব উত্তর পেয়ে গেছি। মা আমাদের ক্ষমা করে দিস।লোকজন বলা বলি করছে ওর বাবা নেই মা আর ছোট একটা ভাই নিয়ে অদের সংসার সবাই আফসোস করছে। জানিনা মেয়েটা কেমন আছে। আল্লাহ যেন মেয়েটাকে ভাল রাখে এবং হেফাজত করে।
আমাদের ছেলে মেয়ের জন্য কত দামি দামি খেলনা কেনি বন্ধু বান্ধব নিয়ে কত টাকা খরছ করি।কিন্তু এই হতভাগা মেয়ে ছেলে গুলোর দিকে একটু নজর দিলে ওরাও ৫০ টকার একটা ঔষধ কিনে খাওয়াতে পারে।শুধু দরকার আমাদের মানুষিকতার পরিবর্তন।আসুন ভাই বোনেরা একটু চিন্তা একটূ অদের দিকে হাত বাড়াই।ইনশা আল্লাহ আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন।

আমিন।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্ত নিজস্ব মত,99999999 888888888 এর কোন দায়ভার সংবাদ সবসময় বহন করবেনা।

মুক্তমত: ওরাতো আমাদের মতই মানুষ, আমাদের কি করণীয়?

মতামত.........