,

মিতু হত্যায় অংশ নিয়েছিল ৭-৮ জন কিলার

index

সংবাদ সবসময় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় মোট সাত থেকে আট জন অংশ নিয়েছিল বলেও জানান। রোববার (২৬ জুন) দুপুরে সিএমপি কার্যালয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি বলেন, ‘মিতু হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়া দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন ওয়াসিম ও আনোয়ার। দুজনই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা। এরমধ্যে ওয়াসিম নিজে মিতুকে গুলি করে। আর আনোয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ব্যাকআপ হিসেবে।’ আদালতে দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৩২ মিনিটে যখন মিতু তার সন্তান মাহিরের হাত ধরে গলির মুখে এসে পৌঁছান। ঠিক এর ১৫ সেকেন্ড পর বিপরীত প্রান্তে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা এক যুবক মোবাইলে কথা বলতে বলতে তাকে অনুসরণ করে পেছন পেছন হাঁটতে থাকে।

এই যুবকই গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার বলে জানান সিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকা রেকি করেছিল আনোয়ার।’

এরপর ৬টা ৩২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে তিনি ওয়েল ফুডের সামনে পৌঁছানোর সাথে ১ সেকেন্ডের ব্যবধানে পেছন থেকে দৌড়ে মিতুর দিকে এগিয়ে যায় ঘাতক। ঠিক একই সময়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আগে থেকেই নিরিবিলি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবক মিতুর উপর হামলা করে। ওয়াসিম নামের যুবক ৭.১ বোরের পিস্তল দিয়ে মিতুকে দু’রাউন্ড গুলি করে।

এরপর ৬টা ৩৩ মিনিট ০৫ সেকেন্ডে খুনিরা মিশন শেষ করে মোটরসাইকেলে চেপে বসে। তবে মোটরসাইকেলটি চালু হতে সময় নেয় ১৯ সেকেন্ড। ৬টা ৩৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে তিন খুনি মোটর সাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। এই মোটর সাইকেলের পেছনে বসা যুবকই আটক ওয়াসিম বলে জানান সিএমপি কমিশনার। ওয়াসিম ভাড়াটে খুনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারা সংঘবদ্ধ চক্র মন্তব্য করে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে সব বলব না। ঘটনাটি টার্গেট কিলিং নিশ্চিত। তবে কারা ঘটিয়েছে- সেটা নিশ্চিত না হয়ে বলতে পারবো না।

বাকি কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্তকারীরা ‘মোটামুটি অবগত’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি তদন্ত শেষ না করে এবং বাকি যারা জড়িত তাদের পেলে তদন্ত করে জানাতে পারবো। ছয় থেকে সাতজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’ সবাইকে পেলে তদন্ত করে ঘটনার মোটিভ বলা যাবে বলেও যোগ করেন ইকবাল বাহার।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার তেমন কোনো ক্লু খুঁজে বের করতে পারেনি।

মতামত.........