,

মানবেতর জীবন যাপনে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

বেলাল আহমদ, উখিয়া-টেকনাফ থেকে ফিরে:

রবিবার সকাল ৭ টায় যাত্রা শুরু করলাম লামা পৌর মেয়রের নেতৃত্বে টানা সাড়ে তিন ঘন্টা পর উখিয়া টেকনাফ শরণার্থী ক্যাম্প গুলোতে বসে আছে রাস্তার দ্বারে, টিলা টঙ্করে ঝোপ জঙ্গলে, বন্ধ দোকানের বারান্দায়, জমিনের আলে,রাস্তার দুধারে খোলা আকাশের নীচে অসংখ্য নারী পুরুষ এদের বেশির ভাগই বৃদ্ধ ও শিশু।চোখে মুখে এক আতংক অনিশ্চয়তার চাপ ।একেকজন পোনেরোর্ধ বয়সের নারীর ৪ থেকে ৬টি সন্তান। সামান্য সাহায্য পাওয়ার আশায় অনেকে ছুটে আসে গাড়ির কাছে। কেউ কেউ আবার নির্বাক দৃষ্টিতে আনমনে বেল বেল করে তাকিয়ে আছে তাঁদের জম্মভূমি মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের দিকে।

রাক্ষ্যস রাজ্য বার্মায় রাখাইন প্রদেশে সেখানকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসা হোয়াক্ষ্যং পয়েন্টে গিয়ে সোমবার এ দৃশ্য চোখে পড়ে।কয়েক কিলোমিটার এলাকায় দেখাযায় বাংলাদেশ অভিমুখে নিপিড়ীত রোহিঙ্গাদের স্রোত। কবে কিভাবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের স্রোত থামবে এর জবাব নেই কারো কাছে। সোমবার দুপুর ৩টা নাগাদ নাফ নদীর ওপারে বলিবাজার এলাকায় তখনো চলছিল রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার। বাড়িঘর পোড়ানো, নারী ধর্ষন, শিশু হত্যা। কথাগুলো বলছিল টেকনাফের হোয়াক্ষ্যং বাজারের দক্ষিনে মাঠে বসে থাকা সকালে নাফনদী অতিক্রম করে আসা ইউনুছ নামের একজন।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঘোটা বাংলাদেশের মানুষ সহ কিছু কিছু দেশ। কিন্তুু বাংলাদেশের মানুষের এই মানবিকতা-মানবতা, সহানুভুতি রোহিঙ্গা জাতি কিভাবে মুল্যায়ন করবেন, সময় শুধু সেই উত্তর দিতে পারবে। পৃথিবীতে মানবাধিকার প্রশ্নে একমাত্র সচেতন জাতি থাকলে সেটা আমরা বাঙ্গালী জাতিই রয়েছি।

সোমবার দিনের সময় টুকু বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কাটিয়েছিলাম, কথা হয়েছিল কয়েকজন নারী পুরুষের সাথে। আনু মিয়া (৬০) জানায়, রাইখাইন প্রদেশে তারা বংশ পরম্পরায় বাস করে আসছে। সেখানে তাদের জন্য কোন রাষ্ট্রীয় সেবা নেই শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা , যোগাযোগ, কৃষি ও পশুপালন সহ রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার।

আছিয়া খাতুন বলেন, তাকে কয়েক দফা ধর্ষন করেছে সেখানকার কমিউনিষ্ট ভান্তের কয়েকজন মিলে। তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে অতপর বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। নরপশু রাক্ষ্যসদের এ ধরণের বিভৎস ঘটনা প্রকাশ করলেন আরো কয়েকজন নারী পুরুষ।

লামা থেকে অনেক বিড়ম্বনা এড়িয়ে সেখানে যেতে সময় লেগেছিল সাড়ে তিন ঘন্টার ও বেশি। কুতপালং এর কয়েক কিলোমিটার এলাকায় আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলা রোহিঙ্গা জনস্রোত অতিক্রম করতে বেশ সময় লেগে যায়। এর পর লামা পৌর মেয়র ও লামাবাসীর উদ্যোগে ৫০০ শত রোহিঙ্গাদের মাঝে চাল,ডাল, ঔষদ, শিশু খাদ্য, পুরাতন কাপড় সহ ত্রাণ সহায়তা করা হয়। সেখানে ত্রান প্রত্যাশি মানুষের সংখ্যায় আমাদের অংশীদারিত্ব ছিল এমনটি যেন ‘শুকিয়ে যাওয়া সাগরে একফোটা জল দেয়া’র মতো। তাঁদের পাশে দাড়ানো, কষ্টের কথা জানা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিলনা।

জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখা’ তিন লাখ’ উখিয়া টেকনাফের স্হানীয়দের মতে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারনা। এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঠিক নিব্ধধন করা সম্বব হবেনা বলে ধারনা করছেন উখিয়া টেকনাফের সাধারণ জনগন।

মতামত.........