,

মাধবদী প্রেসক্লাবের নৌকা ভ্রমন সম্পন্ন

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী)-

মাধবদী প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার মাধবদী প্রেসক্লাবের বাৎসরিক ২০১৭ইং নৌকা ভ্রমন সম্পন্ন হয়েছে।

প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার মাধবদী প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের নিয়ে মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমন করা হবে। ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ভিপি জসিমের সভাপতিত্বে এই ভ্রমনের যাত্রা শুরু করা হয় নির্দিস্ট দিনের সকাল সাড়ে ৮ টায়। নৌকা ভ্রমনের পূর্বে সকাল ৮ টায় ক্লাব হল রুমে সকল সদস্যদের নিয়ে সকালের নাস্তা খাওয়া শেষে সদস্যরা এক এক করে মাধবদী পৌর শহরের পাশের খিলগাঁও নৌকা ঘাটের উদ্দেশ্যে ক্লাব প্রাঙ্গন ত্যাগ করে। সকল সদস্য নৌকায় উপস্থিত হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সকল সদস্যদের অনুমতিক্রমে মেঘনার কড়াল গ্রাসে পতিত, নদী গর্ভে বিলিন হওয়া এলাকা নরসিংদী সদরের চরাঞ্চল করিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনগরের শুটকিকান্দা গ্রামের উদ্দেশ্যে মেঘনা নদীতে নৌকা ভাসানো হয়। প্রায় ঘন্টা খানেক পর করিমপুরের শ্রীনগরের কাছাকাছি এসে পৌছালে চোখে ভেসে উঠে নদী গর্ভে বিলিন হওয়া গ্রামের দৃশ্য। গত এক সপ্তাহে শুটকিকান্দা গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকায় কমবেশি শতাধিক বাড়ি ঘর মেঘনা গর্ভে তলিয়ে গেছে এবং শত শত মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে নৌকায় উপস্থিত সবার মাঝে এক নিস্তবধতা চলে আসে এ দৃশ্য দেখে প্রায় সবার চোখের কোনে জল চলে আসে। পরে নৌকার মাঝিকে বলা হলো শ্রীনগর বাজারে নৌকা নৌঙ্গর কারানোর জন্য। নৌকা থেকে শ্রীনগর বাজারে নেমে নদী ভাঙ্গনে অসহায়ের মাঝে সাহায্য করার সময় ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধ সবুর মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় তার জীবনে এ গ্রামটি এ নিয়ে তিন বার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে কিন্তু এবারের মতো এতা ভয়াবহ ভাঙ্গন সে আর কোন দিন দেখেনি। বৃদ্ধ সবুর আরো বলেন হঠাৎ করে সপ্তাহখানেক আগে ১০/২০টি করে বাড়ি ঘর নিয়ে কয়েক বিঘা জায়গা হঠাৎ নিচের দিকে ধ্বসে মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এইভাবে কয়েকটি বড় বড় ধ্বসের কারণে কয়েক ঘন্টার মধ্যে শতাধিক বাড়িঘর মেঘনার পানিতে তলিয়ে যায়। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে আরো কয়েকশত বাড়িঘর। ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করার জন্য গ্রামবাসীরা দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার চিত্রও দেখা গেছে। এই অবস্থায় গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা গেছে।

তবে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা দিয়ে এ ভাঙ্গন রক্ষার জোর চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসময় শ্রীনগর বাজার ঘুরে বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা হয়। সবাই ঐ এলাকার গরুর দুধের চা খেয়ে আবার নৌকায় উঠার পরে কোথায় যাওয়া হবে জানতে চাইলে অজানার উদ্দেশ্যে মেঘনা নদীতে তরি ভাসানো হলেও কেউ কোন শব্দ করেনি কারণ এ দৃশ্য সবার মনকে নাড়া দিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয় বিশনন্দী ফেরীঘাট যাওয়ার। এর কিছুক্ষন পর চলার পথে সভাপতির অনুমতি ক্রমে ফল খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ দুই/আড়াই ঘন্টা নৌকা চলার পর শেষ পর্যন্ত গন্তব্য বিশনন্দী ফেরীঘাটে নৌকা নোঙ্গর করে বেলা দেড়টায় সদস্যদের সবাই এক এক করে নেমে চলে যায় মেঘনা নদীর পানিতে গোসল করতে। আনন্দ ফুর্তির সহিত সবাই গোসল করার সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় মুশলধারে বৃষ্টি। গোসল শেষে কেউ কেউ অযু করে নৌকাতেই জোহরের নামাজ পড়তে দাড়িয়ে যায়। পরে নৌকাতেই সবাই তৃপ্তি সহকারে দুপুরের খাবার খেয়ে হাত পা ছড়িয়ে বসে বিশ্রাম নিতে থাকে। বৃষ্টি শেষে নৌকা ভাসিয়ে দেয়া হয় গন্তব্যে ফেরার জন্য। মাঝ পথে বিকেলে নৌকাকে ভিড়ানো হলো গোপালদীর মহারাজ্ঞীর আশ্রমে। আশ্রম ঘুরে নৌকায় ফিরে বিকালের নাস্তা শেষে। নৌকা চলতে থাকে গন্তব্যের দিকে। সূর্য ডুবু ডুবু অবস্থায় মাধবদী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা ফটো সেশনের আয়োজন করে। পরে নৌকা খিলগাঁও গ্রামের নৌকা ঘাটে এসে এর যাত্রা শেষ করে বিকেল ৫ টায় সেখান থেকে কেউ রিক্সায় কেউ অটো রিক্সা যোগে মাধবদী প্রেসক্লবে এসে ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ভূইয়া বার্ষিক নৌকা ভ্রমনের সমাপ্ত ঘোষনা করেন এবং বার্ষিক নৌকা ভ্রমনের পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ হোসেন আলী।

মতামত.........