মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি:

মাধবদী থানা এলাকার বস্ত্র শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রং সুতা সহ কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচের সাথে বিপণণ মুল্যের সমন্বয়হীনতায় দীর্ঘদিন লোকসান গুনে ইতোমধ্যেই অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়াও মাধবদীর নিম্নঞ্চলের অনেক কারখানায় বর্ষার পানি ঢুকে পড়ায় বেশ কিছু কারখানা বাধ্য হয়েই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রায় দু’মাসের বেশী সময় এ অবস্থা চলতে থাকায় এ অঞ্চলের লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। যতই দিন যাচ্ছে বন্ধ কারখানা এবং বেকার শ্রমিকের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে যে সব কারখানা ব্যাংক ঋনের ওপর নির্ভরশীল সেগুলো দেউলিয়া ঘোষনা করায় কর্মরত শ্রমিকদের সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে।

উল্লেখ্য মাধবদী থানা এলাকার ৮টি ইউনিয়নে বিক্ষিপ্ত ভাবে গড়ে উঠা হাজার হাজার শিল্প কারখানায় উৎপাদিত বস্ত্র সারাদেশের বস্ত্র চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ তৈরি হয় এখানে। শুধু দেশে নয় উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি কাপড় সারাদেশে এবং বর্হিবিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সমাদ্রিত হয়ে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু পাওয়ারলোম ও গার্মেন্টস সেক্টরে চাঁদাবাজি, জাহাজীকরণ ও এয়ারে সময় মতো বুকিং সমস্যার কথা জানালেন শিল্প মালিকরা। তারা বলেন দেশীয় বাজারে তৈরি পোষাক ও কাপড় বিক্রিতে সমস্যার মূল কারণ অবৈধ পথে ভারত, চীন, পাকিস্তান থেকে আসা বিদেশী কাপড় টেক্স ফাঁকি দিয়ে আসার কারনে কম মূল্যে বিক্রি করতে পারছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা দেশীয় কাপড় বেশী মূল্য দিয়ে ক্রয় করছেনা। ফলে উৎপাদিত কাপড়ে লোকসান দিয়ে স্টক করতে হচ্ছে এ কারনে নিয়মিত শ্রমিক বিল পরিশোধ করা যাচ্ছেনা। এ ভাবে চলতে থাকলে এক সময় যে সব কারখানা এখনো চালু রয়েছে তাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

অপরদিকে এখানকার কোন শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র নেই যে কারনে যখন তখন শ্রমিক ছাটাই বা কারখানা থেকে বের করে দেয়া কিংবা কারখানা বন্ধ করে দিলেও শ্রমিকদের কিছুই বলার থাকেনা। তা ছাড়া কারখানা আইনের ১২ থেকে ৪৮ ধারাতে শ্রমিকদের যেসব সুবিধা দেয়া হয়েছে তা কোন কারখানাতেই পালিত হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে কারখানা মালিকদের সমস্যা সমাধানে সরকারী পৃষ্টপোষকতা ও শ্রমজীবিদের কল্যানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি জরুরী হয়ে পড়েছে।

মাধবদীতে অনেক বস্ত্র কারখানা বন্ধ দীর্ঘ হচ্ছে বেকার শ্রমিকের তালিকা

মতামত.........