indexএস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলা জেলার আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষকরা এই কোচিং সেন্টারগুলোর সাথে জড়িত থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোচিং ও প্রাইভেট বানিজ্যের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাশ করার চেয়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাশে আগ্রহী বেশী।
জানা গেছে, এক শ্রেনীর সুবিধাভোগী শিক্ষক সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কলেজের অধ্যক্ষরাও কোচিং বানিজ্যের দিকে ঝুকে পড়েছে। এসব কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না আদৌ প্রকৃত শিক্ষা প্রদানে কোচিং সেন্টার গুলো অবদান রাখছে কিনা। শিক্ষার্থীদের এসব কোচিং সেন্টারে প্লে শ্রেণি হতে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কোচিং করানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে নিজেই পরিচালক ও শিক্ষক সেজে বসে আছেন অনেকেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ না থাকলেও রয়েছে মোটা অংকের ফি। কিন্ডার গার্ডেন থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকরাও এ সকল কোচিং সেন্টারের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন বলে জানা যায়। আবার শিক্ষার্থী ধরার জন্য (ভর্তি করার জন্য) ব্যবহার করা হয় ছাড়ের ফাঁদ। নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেয় বিভিন্ন ধরনের ডিসকাউন্ট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তবে শিক্ষা প্রদানে তাদের কোন আগ্রহ নেই বলে তিনি জানান। শিক্ষা নয় অর্থ উপার্জনই তাদের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এরই ধরাবাহিকতায় কোচিং সেন্টারের এক শিক্ষকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরাতো শিক্ষিত বেকার! আমাদের এই শিক্ষা গ্রহনের মূল্য কোথায়? ছাত্রজীবন শেষ করার পরেও বেকার জীবন যাপন করছি। সার্টিফিকেট আছে কিন্তু টাকা ছাড়া চাকুরি হয়না। তাই বাধ্য হয়ে এই কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নিচ্ছি।
শিক্ষা সচেতন মহলরা মনে করেন, শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন না করেও কোচিং সেন্টারগুলো যদি পরীক্ষায় পাস করার গ্যরান্টি দেয় তাহলে স্কুল কলেজের প্রয়োজন কি? সুষ্ঠু নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নজরদারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় তাহলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা প্রতারিত হবেন না। শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত না হলে তার ব্যর্থতার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে ।

ভোলায় কোচিং সেন্টারের নামে চলছে রমরমা বানিজ্য

মতামত.........