সৈয়দ খায়রুল আলম, নড়াইল প্রতিনিধিঃ

নড়াইল-১ নড়াইল সদর, কালিয়া উপজেলা ও নড়াগাতি থানা নিয়ে ৯৩ সংসদিয় আসন। কালিয়া আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পেলেও অভান্তরীণ বিরোধে চির ধরতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারছে না বিএনপি বা অন্য কোনো বিরোধী দল। সাংগঠনিক দৈন্যদশায় হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপি।

নড়াইল আওয়ামী লীগের কোন্দল নতুন নয়। নিয়ন্ত্রণহীন এ কোন্দলের কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগ এখন দুটি ধারায় বিভক্ত। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, দলের জেলা সভাপতি এড. সুবাস চন্দ্র বোস ও কবিরুল হক মুক্তি এমপি। অন্যটির নেতৃত্বে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নড়াইল পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান জিন্নাহ ও সহসভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক। ইতিমধ্যে বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি ও দলের কালিয়া উপজেলা সাবেক সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইছেন। তাদের মধ্যে বনিবনা নেই। দু’জনেই ব্যস্ত পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও রয়েছেন বর্তমান এমপি কবিরুল হক মুক্তি, কালিয়া উপজেলা সাবেক সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক, সংরক্ষিত নারী আসনে দু’বারের এমপি নড়াইলের পুত্রবধূ এড.ফজিলাতুন নেছা বাপ্পি, নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি  ও কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, জনাব কায়েস মাহমুদ , নড়াগাতি থানা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি হাজি মফিজ ।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটও এ আসনের মনোনয়ন সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। কারণ জাসদের (আম্বিয়া) কেন্দ্রীয় সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া এ আসনে জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বেশ আশাবাদী। আবার ওয়ার্কার্স পার্টিরও দৃষ্টি রয়েছে এ আসনে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি এবারও ১৪ দলের মনোনয়ন চাইবেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে তিনি সামান্য ভোটে হেরেছিলেন দলের পলিটব্যুরোর এ সদস্য, তিনি মনে করেন এবার জনমত জরিপে তার অবস্থান অনেক ভালো।

অন্যদিকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন নেই বলে এ দলের নেতাকর্মীরা নিষ্কিয়। ২০০৯ সালের পর এ জেলায়  বিএনপির কোন সম্মেলন হয়নি। দলীয় কর্মসূচিও পালিত হয় না অনেক দিন। সর্বোপরি কোন্দলে জড়িয়ে স্পষ্টত দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

দলের জেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান জানিয়েছেন, এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্বন্দ্ব-বিরোধ মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অফিসে বৈঠক হয়। সেখানে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। জেলা সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকরা এ হামলা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে দলের প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহারুজ্জামান মর্তুজা, সাবেক  কালিয়া উপজেলার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান দানবীর জনাব মুন্সী লাল মিয়ার পুত্র ১৯৯১ সালের তুখোড় ছাত্রনেতা এড. মুন্সী আনিচুর রহমান। তিনি তার বাবার সুনাম কে পুজি করে তরুনদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।এই আসনে ভোটের রাজনীতিতে জনাব মুন্সী লাল মিয়া একজন বড় ফ্যাক্ট বলে স্থানীয়রা মনে করেন।এখানকার হিন্দু এবং সাধারন মানুষের মাঝে মুন্সী পরিবারের রয়েছে অনেক গ্রহণযোগ্যতা।

এছাড়া ১৯৯১সালে মুন্সী আনিচুর রহমান নড়াইল জিলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে  মুন্সী আনিচুর রহমানই তিনার বাবা মরহুম জনাব মুন্সী লাল মিয়া সাহেবকে বি এন পি তে যোগদান করানোর ফলে দলকে শক্তিশালী করেন।এটা বিবেচনা করে কেন্দ্রিয় ভাবে মুন্সী আনিচ কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তার সাথে কথা বলে জানা গেছে। সাধারন মানুষ বলছে যোগ্যতার ভিত্তিতে সৎ ও ত্যাগি নেতাদের এই আসনে এমপি  হিসাবে দেখতে চান।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এই আসনে বিএনপির অন্য প্রার্থী নড়াইল জেলার  কৃষক দলের সভাপতি হেমায়েত হোসেন ফারুক। এর মধ্যে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম দলের একটি গ্রুপের বিরোধিতার মুখেও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে বেশিরভাগ নেতাকর্মী মনে করছেন তিনিই নাকি দলকে  সংগঠিত করেছেন- এমন দাবি জানিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে শাহারুজ্জামান মর্তুজা বলেন, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম দুইবার মনোনয়ন পেয়েও জয়ী হতে পারেননি। তিনি নিজের ইউনিয়নেই হেরেছেন। তার পক্ষে আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়া অসম্ভব। শাহারুজ্জামান মর্তুজা দলের মনোনয়ন পেলে জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি শরীফ মুনির হোসেন, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিপ্লব বিশ্বাস, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি কারি আইয়ুব হোসেন মিনা, জেলা মুজাহিদ কমিটির সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ খবিরুদ্দিনও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভোটের হিসাব-নিকাশ চলছে নড়াইল ১ আসনে

One thought on “ভোটের হিসাব-নিকাশ চলছে নড়াইল ১ আসনে

মতামত.........