,

বোমা শনাক্ত করতে ব্যর্থ ব্রিটিশ শনাক্তকরণ যন্ত্র, বাগদাদ হামলায় নিহত বেড়ে অন্তত ২১৫

34ca9088de9c7e51ee5321a8479e4b0e-577b766224673আন্তর্জাতিক ডেস্ক,সংবাদ সবসময় :

বাগদাদের মধ্যাঞ্চলে গাড়িবোমা হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর আবারও সামনে এলো ওই যন্ত্রের ব্যর্থতার প্রশ্ন। সোচ্চার হলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। ইরাকের বিভিন্ন চেকপোস্ট থেকে ‘ভুয়া’ শনাক্তকরণ যন্ত্রটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ খবরটি নিশ্চিত করেছে।

২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত গত ৯ বছরে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বোমা হামলায়। নিরাপত্তারক্ষীদের তল্লাশি চৌকি সংলগ্ন এলাকাতেই এসব হামলার অধিকাংশ সংঘটিত হয়েছে। তল্লাশি চৌকিগুলোতে যুক্তরাজ্যে নির্মিত বোমা শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও ওই যন্ত্রকে ফাঁকি দিয়েই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। সবমিলে ৯ বছর ধরে বোমা শনাক্তে কেবল ব্যর্থতারই প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তারাজ্যে নির্মিত ওই যন্ত্র। সবাই তাই কমবেশি জেনে গেছেন, যুক্তরাজ্যে নির্মিত ওই যন্ত্র আসলে অকার্যকর।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, কনমান জেমস ম্যাককরমিক নামের এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ইরাকে এডিই ৬৫১ নামের বোমা শনাক্তকরণ ডিভাইসগুলো বিক্রি করতেন। গলফ বল শনাক্তকারীর মতো করে তৈরি এ বোমা শনাক্তকারী যন্ত্রটি ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করতেন তিনি। জাতিসংঘও কিনতো এসব যন্ত্র। পরে যন্ত্রগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। ২০১৩ সালে ভুয়া ডিভাইসগুলো বিক্রির কারণে তিন বছর আগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

মুনাফা লাভের আশায় মানুষের জীবনকে হুমকিতে ফেলার অপরাধে জেমস ম্যাককরমিকের বিরুদ্ধে এ সাজা ঘোষণা করা হয়। অথচ গত তিন বছরেও এ যন্ত্র বিক্রি বন্ধ করা হয়নি।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জেমস ম্যাককরমিক ইরাকে এ পর্যন্ত ৬ হাজারের মতো ভুয়া ডিভাইস বিক্রি করেছেন বলে ধারণা করা হয়। এগুলোর প্রত্যেকটির মূল্য ২৭ হাজার পাউন্ড করে।

সরকারের দুর্নীতি ও নিরাপত্তা স্বল্পতার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ চাপের মুখে রয়েছেন হায়দার আল আবাদি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী হায়দার আবাদি শিয়া অধ্যুষিত কেন্দ্রীয় বাগদাদের বোমা বিধবস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে তার বহর আটকে দেয় বিক্ষুব্ধ জনগণ।

গত মাসে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ফালুজার নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকে ইরাকের রাজধানীকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে আইএস। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৫ জুলাই) ইরাকের বাগদাদে জোড়া বোমা হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় ওখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এরইমধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ নিয়ে বাগদাদে চলতি মাসে বড় ধরনের তৃতীয় হামলা চালানো হলো।

রবিবার চালানো হামলা দুটির প্রথমটি ছিল আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা। প্রথম হামলাটি চালানো হয় বাগদাদের কেন্দ্রীয় এলাকা কারাদার একটি ব্যস্ত এলাকায়। দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে একটি শিয়া এলাকার আল শাব নামের একটি বাজারে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য গার্ডিয়ান

 

মতামত.........