,

বিপদজনক হয়ে পড়েছে চাম্বল বাজারের ব্রীজটি: বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাঁশখালীর যোগাযোগ

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিকল্প চলাচলের অন্যতম পথ বাঁশখালীর প্রধান সড়কের একমাত্র চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোন সময় বাঁশখালীর প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এই সড়ক দিয়ে কুতুবদিয়া,মহেশখালী, পেকুয়া, মগনামা, চকরিয়াসহ কক্সবাজারের লক্ষাধিক লোক যাতায়াত করে। বর্তমানে বেইলী ব্রীজটির পাটাতন ভেঙ্গে যাওয়ার কারণেওই এলাকায় প্রতিদিন অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের ফলে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

জানা যায়,বাঁশখালীর প্রধান সড়কে বিগত দিনে ৫টি বেইলী ব্রীজ থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধান সড়ক সংস্কারের পর পর বৈলছড়ি ব্রীজ, টাইম বাজার ব্রীজ, নাপোড়া ব্রীজ ও প্রেম বাজার ব্রীজটি নতুন করে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শেষ করলেও চাম্বল বাজার ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে এই বেইলী ব্রীজটি বিগত দিনে বেশ কয়েকবার পাটাতন নষ্ট হয়ে এবং গাড়ী উল্টে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।তারপরেও এই ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি।

অথচ পুরো দক্ষিণ বাঁঁশখালী জুড়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ড প্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের দিন জামায়াত শিবির কর্মীরা এই ব্রিজের পাটাতন খুলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। সেই থেকে এই ব্রিজের বেহাল দশা এবং যে কোন হরতালের সময় উক্ত ব্রীজটির পাটাতন তুলে যোগাযোগ ব্যবস্হা বন্ধ করে দেয়।ফলে দক্ষিণ বাঁঁশখালী জুড়ো পিকেটারেররা নিজস্ব রাজত্ব কায়েম করে। এমন কি মিনি পাকিস্তান নামে রুপ নিয়েছিল বিগত হরতাল গুলো তে। ব্রীজের পাটাতন খুলে ফেললে সেইদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি কোন সদস্য ডুকতে পারে না।

বর্তমানে চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গাড়ী দিয়ে যাতায়াত ছাড়াও সাধারণ ভাবে চলাচলেও নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীও চরম ভাবে বেকায়দায় পড়ে এই ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করতে। কেন বা কি কারন উক্ত ব্রীজটি পূর্ননির্মান হতে এত সময় লাগে সাধারন মানুষের একটাই প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

চাম্বল ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ বেলাল উদ্দীন জানান, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ড প্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের দিন জামায়াত শিবির কর্মীরা এই ব্রিজের পাটাতন খুলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলী ব্রীজটি পারাপারে যানবাহনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও ঝটলা হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রীজটি সংস্কার করা না হলে যেকোন সময় প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অপর দিকে বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙে পড়ছে। অপরদিকে ৮-১০টি দোকান প্রধান সড়কের উপর প্রতিদিন বসায় ফলে তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে। বিশেষ করে পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল, সাধনপুর, বৈলছড়ি বাজার, উপজেলা সদর জলদী ও মিয়ার বাজার, শীলকূপ টাইম বাজার ও চাম্বল বাজার। পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল ও চাম্বল বাজারের অসহনীয় যানজট দীর্ঘদিন যাবৎ এই যানজট নিরসনে কার্যকর সভা সমাবেশ ও মিটিং করলেও প্রতিকার পায়নি জনগণ।বাঁশখালীর প্রধান সড়কের চাম্বল বাজারের বেইলী ব্রীজ সংস্কার ও প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন এই প্রত্যাশা জনগণের।

এদিকে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বর্তমান যে গর্ত গুলো হয়েছে এবং দুই পাশের মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে । বাঁশখালীর প্রধান সড়ক সম্প্রসারনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে উদ্ভোধন করেছেন । যার কাজ অল্পদিনের মধ্যে শুরু হবে । চাম্বল বাজার ব্রীজ নির্মানের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে তার কাজ ও শুরু হবে । বাশঁখালী বাসী যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল খুব শীঘ্রই উপভোগ করতে পারবে।

মতামত.........