,

বিজয়মেলায় লটারী ও জুয়া, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে লোহাগাড়ার ইউএনওকে নির্দেশ

আবদুল আউয়াল জনি, সংবাদ সবসময়:

cof

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, রণ সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা ও প্রামান্যচিত্র প্রদশর্নী সহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিশালতা ও গভিরতার বার্তা পৌছে দেওয়ার লক্ষে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে সারা দেশ ব্যাপি আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৭ইং চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শুরু হওয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা যেন জুয়ার টেবিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রির খেলা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা, প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনী না থাকলেও চলছে নানা ধরনের জুয়া খেলার ব্যবস্থা।

১ হাজার টাকায় ৬ হাজার টাকা পাওয়ার লোভ দেখিয়ে চলছে রমরমা জুয়ার আসর

গত ৪ঠা জানুয়ারী বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রকাশ্যে জুয়া ও লটারী বন্ধের দাবীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক হেফাজত উল্লাহ সিকদার এবং আবেদনকারীরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপার ও লোহাগাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবরে অনুলিপি প্রদান করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৫ই জানুয়ারী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্মারক নং: ০০,২০,১৫০০,০০৯,০০১,১৭,৭৪ মুলে পাটানো চিঠির মাধ্যমে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সরেজমিনে তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রঞ্জন চন্দ্র দে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাটানো অভিযোগ সহ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ এর কপি

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চিঠির ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব আলম সাংবাদিকদের জানান নির্দেশ পেয়েছি, তদন্তপূর্বক যথাযত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোটরসাইকেল, স্বর্ণ, মোবাইল সহ নানা প্রলোভনে বিক্রিত হচ্ছে লাকি কুপন

অভিযোগে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক হেফাজত উল্লাহ সিকদার বলেন গত ৩০শে ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা উদ্বোধন করা হয়। আজ পর্যন্ত মেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার নামে চলছে হরেক রকম জুয়া খেলা। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিদলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এছাড়াও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইকিং করে প্রচার করায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুয়া ও লটারীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এমনকি প্রবাসী পরিবারের সন্তানেরা বাজারের টাকা দিয়ে ক্রয় করছে লটারি, এতে যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আকৃষ্ট হচ্ছে জুয়ার প্রতি।

এছাড়াও বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক আয়োজনসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মত আয়োজন করার জোর দাবী জানান তারা।

মতামত.........