,

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে গোপালগঞ্জ -১ আসনে এগিয়ে আছেন যারা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া, টুঙ্গীপাড়া ও গোপালগঞ্জ সদরসহ ৫টি উপজেলা নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা গঠিত। এ জেলায় রয়েছে ৩টি সংসদীয় আসন। গোপালগঞ্জ-৩ কোটালীপাড়া ও টুঙ্গীপাড়া আসনে বাংলাদেশ আওয়ালীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গোপালগঞ্জ-২ আসন গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং গোপালগঞ্জ-১ মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান দীর্ঘ দিন যাবত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোপালগঞ্জ জেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় এ জেলার অধিকাংশ মানুষ আওয়ামীলীগ তথা নৌকার পাগল। এই ৩টি আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে যিনি নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন তিনিই বরাবর বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করে আসছেন প্রতিটি নির্বাচনে। আগামী নির্বাচনেও বিএনপি একক ভাবে আওয়ামীলীগকে ছেড়ে দেবে না।

আগামী নির্বাচনে সম্মান জনক ভোট পাওয়ার জন্য চলছে দলের নানা পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতি। গণসংযোগ, সদস্য সংগ্রহসহ নানা কার্যক্রম। বিএনপি দলের মধ্যে এই নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য অনেকেই আগ্রহী। এ আসনে আগামী নির্বাচনে সেলিমুজ্জামান সেলিম, এফ.ই. শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহের নাম শোনা যাচ্ছে মাঠে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আইনজীবী পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জাতীয় কৃষক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপা মজুমদার বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জাতীয় কৃষক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপা মজুমদার সম্ভাব্য দলীয় মনোনয়ন পাবে বলে মাঠ পর্যায়ে শোনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দীপা মজুমদার ও মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দল মনোনয়ন দিলে তারা স্ব স্ব দল থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বলে জানান।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ- ১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। মুকসুদপুর কাশিয়ানী এলাকার তৃনমুলের বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃকত থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন সেলিমুজ্জামান সেলিম।

এ ব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান লিপু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি তরিকুর ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম মুন্সী এবং কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শংকর কুমার মিত্র, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে আলাপ কালে তারা জানান ১/১১ এর পূর্বে থেকে এ যাবত মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় প্রতিটি কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করেছেন। অন্য কোন প্রার্থীদের মাঠে পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান। বর্তমান বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা সেলিমুজ্জামান সেলিমের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সেলিমুজ্জামান সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ছাত্র জীবন হতে আজও পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনে আমাকে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন বলে তিনি জানান।

অপর দিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণা ও উপদেশে গোপালগঞ্জে জাগদল প্রতিষ্ঠায় এফ.ই. শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীর সংসদ নির্বাচনে এফ.ই. শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গোপালগঞ্জ-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি জেলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি সভাপতি থাকা কালে ১৯৯৫ সালে জানুয়ারীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গোপালগঞ্জ সফরে আসেন হরিদাশপুর ব্রীজ ও ঘাঘর ব্রীজ নির্মানের উদ্ধোধন ও গোপালগঞ্জ জেলাকে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী ও বর্তমানে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ হরিদাশপুর ব্রীজ নির্মানের উদ্বোধন করে ছিলেন। এফ,ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি থাকাকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কলেজে পরপর দুই বার, কোটালিপাড়া শেখ লুৎফর রহমান কলেজ, রামদিয়া এস.কে কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে ছাত্রদল থেকে ভি.পি নির্বাচিত হয়েছিল বলে তিনি জানান। গোপালগঞ্জ-১ আসনের তৃনমূল পর্যায়ে জনগনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং সর্ম্পক ভাল বিধায় এ আসনে মনোনয়ন দিলে সম্মান জনক ভোট পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে জানান। দলের সভানেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দলে আমার অবদান সর্ম্পকে তাদের দৃষ্টিতে অবগত আছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করতে ইচ্ছুক বলে তিনি জানান। তবে দলের নের্তৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি মেনে নিবেন বলেও জানান।

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ভাবড়াসুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের পীর বাড়ীর সন্তান এ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৭ সালে ফরিদপুর সরকারী রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির পর হতে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে তিনি জানান। জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবীর ফোরাম ঢাকা ইউনিটের যুগ্ম সম্পাদক। তার দাদা মরহুম সৈয়দ মোবারক আলী এবং পিতা মরহুম সৈয়দ মোকারম হোসেন একজন প্রখ্যাত আলেম ও পীর সাহেব ছিলেন। চাচা মরহুম প্রখ্যাত আইনজীবী সৈয়দ মোশারফ হোসেন ১৯৭০ সালে নির্বাচনে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিবি) থেকে মুকসুদপুর আসনে সংসদ নির্বাচন করে ছিলেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে দলীয় মামলা ও কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন ঢাকা বারে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করার পরে বিএনপির দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে ১/১১ সরকার আসার পরে বিএনপি ও চার দলীয় ঐক্য জোটের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তারের পর যতদূর সম্ভব তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করছেন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী এ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান এর অধিনে ১/১১ সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন, বিএনপি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের সকল মামলায় সহায়তা করছেন। বিএনপির অন্যতম আইনজীবী ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সরাসরি সিনিয়র এবং সিনিয়রের সাথে বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপদেষ্টা এবং সম্পাদক মন্ডলি ও অঙ্গ সংগঠনসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের অধিকাংশ রাজনৈতিক মামলায় অদ্যবধি আইনি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ- ১ আসনে ২০ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ধানের শীর্ষ প্রতিকে এই আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান। এখন বিএনপি ও অংগসংঠনের নের্তৃবৃন্দ এবং সাধারন মানুষের সর্বত্র জলনা কল্পনা গোপালগঞ্জ-১ আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন।

 

মতামত.........