,

বাল্যবিবাহ ঠেকালেন সাতকানিয়ার ওসি রফিকুল হোসেন

আবদুল আউয়াল জনি, সংবাদ সবসময়:

সাতকানিয়ার ওসি মো. রফিকুল হোসেন ঠেকালেন বাল্যবিবাহ। থানা এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতায় বাল্যবিয়ে আয়োজনের খবরটি তিনি পান। খবর পাওয়ার পর কালবিলম্ব না করে উভয় পরিবারের অভিভাবকসহ সৌদি প্রবাসী পাত্রকে জরুরি তলব করেন থানায়। অভিভাবকগণ সোমবার দুপুরে থানায় হাজির হলে বাল্যবিয়ের কুফল ও এর আইনগত অপরাধের বিষয়ে তাদের বোঝাতে সক্ষম হন ওসি।

এ সময় সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এনামুল কবির, কন্যার বাবা, ফুফাত ভাই ফরিদুল আলম, পাত্রের বাবা, চাচাত ভাই মো. রুবেলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সাতকানিয়ার ১৫ নম্বর ছদাহা ইউনিয়নের মোজাহের মিয়া তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে, কেওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হেনা তানিয়ার সঙ্গে সাতকানিয়া পৌরসভাধীন মধ্য রামপুরের সৌদি প্রবাসী পাত্র আহমেদ হোসেনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেনের (২৫) বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে। বিয়ে তারিখ ছিল ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায়। এ লক্ষ্যে পৌরসভা এলাকার পরশমণি কমিউনিটি সেন্টারও ভাড়া নেয়া হয়।
শেষপর্যন্ত বিয়ে বন্ধ করতে উভয় পরিবার সম্মত হওয়ায়, তারা বুকিং দেওয়া কমিউনিটি সেন্টার, বাবুর্চি ও বিয়ের আনুষাঙ্গিক কেনাকাটা বাতিল করে আত্মীয়স্বজনদের তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে স্থগিতের বিষয়টি জানিয়ে দেন।

ওসি মো. রফিকুল হোসেন বলেন, আমি খবর পাওয়ার পর কালবিলম্ব না করে উভয় পরিবারের অভিভাবকসহ সৌদি প্রবাসী পাত্রকে জরুরি তলব করি থানায়। তারা সোমবার দুপুরে থানায় হাজির হলে বাল্যবিয়ের কুফল ও এর আইনগত অপরাধের বিষয়ে তাদের বোঝাতে সক্ষম হই এবং এভাবেই বাল্য বিবাহটি বন্ধ করতে সক্ষম হই, আমি মনেকরি সবাই সচেতন হলে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ বিতাড়িত করতে পারব।

দেশের আইনকে সম্মান জানিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক কনেকে বিয়ে না করায় সৌদি প্রবাসী পাত্র মো. ইকবাল হোসেনকে ফুলের তোড়া উপহার দেন ওসি।

মতামত.........