,

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সিলেট শাখায় লোক বল সংকটে চরম আকার ধারন করেছে

সিলেট প্রতিনিধি-
সিলেট ডাক বিভাগের লোকবল সংকট চরম আকার ধারন করেছে। বলতে গেলে ৭৫% লোকবল সংকটের মাঝেই পড়ে আছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ অফিস। সব মিলিয়ে প্রায় অধিকাংশ পদে দীর্ঘদিন থেকে কোনো লোকবল না থাকায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের জনগুরুত্বপূর্ণ ডাক বিভাগে। ভয়াবহ লোকবল সংকটের কারনে সম্ভাবনায় এ ডাক বিভাগের সিলেট অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অচলবস্থা।
সমস্যার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি দেওয়ার পরও সকল সমাধান আশ্বাসের মাঝেই পড়ে আছে। এ অবস্থায় বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ডাক বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এছাড়া তাদের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
লোকবল সংকটের কারণে মানুষকে স্বাভাবিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না স্বীকার করে সিলেটের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘১০ জনের কাজ তো ৩ জনের দ্বারা করা কোনোভাবেই সম্ভব না। লোকবল না থাকায় এই কাজ নিচের পোস্টের মানুষ দিয়ে করানো হচ্ছে, যারা এ কাজের জন্য ফিট না।’ উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘মনে করেন ক্লাস টু থেকে থ্রিতে উঠবে, কিন্তু এখানে এক লাফে ক্লাস ফাইবে উঠে যাচ্ছে। এতে করে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ।’
ওমর ফারুক আরো বলেন, ‘২০জন লোক থাকলে কাজ করতে সময় লাগবে কয়েক মিনিট, সেখানে ৩জন থাকলে লাগবে ১ঘন্টা। অনেক সময় কাজ শেষ করতে না পারলে গ্রাহকদেরকে পরের দিন আবার আসতে হচ্ছে। জনগণের টাকার অপচয় হচ্ছে, সময়ের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া কষ্ট হচ্ছে দায়িত্বরতদেরও। অনেক সময় ৫টার মধ্যে কাজ শেষ করতে না পেরে রাতে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।’
বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে ডাক বিভাগ এখন শুধুমাত্র চিঠি চালাচালিতে নেই। চিঠি কিংবা ডকুমেন্ট আদান-প্রদানের পাশাপাশি তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আরো নানা কার্যক্রম। এতে আরো বিপুল সংখ্যক লোকবল প্রয়োজন থাকলেও পূর্বের শূন্যস্থানই পূরণ করতে পারছে না ডাক বিভাগ।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে তাদের ৪৭৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭৫ জন। আর বাকি ২০০ পদেই কোনো লোকবল নেই। যা দীর্ঘদিন থেকেই শূন্য পড়ে আছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৭টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। বাকিটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একইভাবে উপজেলা পোস্ট মাস্টারের ২১টি পদের মধ্যে ১২টি পদই শূন্য। যেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন।
এ অবস্থায় পোস্ট মাস্টার ছাড়াই চলছে বেশিরভাগ উপজেলা ডাকঘর। স্বাভাবিক কাজেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। সাব পোস্ট মাস্টারের ৫১টি পদের মধ্যে দায়িত্বে আছেন ৪১ জন। এখানেও রয়েছে লোকবল সংকট। সবচেয়ে বেশি লোকবল সংকট রয়েছে পোস্টাল অপারেটর পদে। পোস্টাল অপারেটরের ৬৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। বাকি ৬৪টি পদে কোনো লোকবল নেই। সহকারী পরিদর্শকের ৩৪টি পদের মধ্যে মাত্র ১৪ জন। বাকি ২০টি পদ আছে লোকবল সংকটে। এর পাশাপাশি বড় ধরনের লোকবল সংকট হচ্ছে পোস্টম্যান পদে। যেখানে ১৬৯টি পদের মধ্যে ৫৮টি পদই শূন্য। এছাড়া অফিস সহায়কের ৭টি পদের মধ্যে দায়িত্বে একজনও নেই। তাদের ৭টি পদই শূন্যতায় দখল নিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ডাক বিভাগ সিলেট অঞ্চলে আরো অসংখ্য শূন্যতার মাঝে পোস্ট অফিস হিসাবরক্ষক, ট্রেজারার, শহর পরিদর্শক, কম্পিউটার অপারেটর, গাড়িচালক, হেড পোস্টম্যান, পোস্টাল অপারেটর (সটিং), স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও মেইল ক্যারিয়ার পদ একেবারেই শূন্য রয়েছে। একটি করে পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত কেউ নেই। এমন লোকবল সংকট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে সিলেটের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এগুলো নিয়ে প্রতি মাসেই বিবরণী যায়। কতজন আছে, কতজন নেই তাও জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাসও দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে শূন্য পদ পূরণও হয়।’
শুধু লোকবল সংকটই নয়, আরো নানা সমস্যায় জর্জরিত এখন সিলেটের ডাক বিভাগ। এসব নানা সমস্যা, সংকটের মধ্যে একমাত্র আশার দিক হচ্ছে, কার্যক্রমে কিছুটা গতি আনতে সিলেটের  ডাক মন্ত্রণালয় থেকে ৮-১০টি গাড়ি পাচ্ছে।

মতামত.........