,

বাঁশখালীতে স্বর্ণ ছিনতাইকারী পার্টির দুই সদস্যকে গণধোলাই, সিএনজি জব্দ

সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ…

মুহাম্মদ মিজান বীন তাহের, বাঁশখালী প্রতিনিধি :

দেশে অনেক ধরনের প্রতারক চক্র রয়েছে। এমনই এক প্রতারক চক্রের সন্ধান মিললো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। রবিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌর সদরের মিয়ার বাজার এলাকায় রাবেয়া বেগম স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মলম পার্টির খপ্পরে পড়েন। ওই মহিলার সাহসিকতায় মলম পার্টির ২ সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় মলম পার্টির ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সা আটক করে তারা।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার পুঁইছড়ি ইউপি’র পশ্চিম পুঁইছড়ি গ্রামের হাকিম আলীর পুত্র মোঃ আজিজ (৩৫), একই উপজেলার চাম্বল ইউপি’র পশ্চিম চাম্বল বারলিয়া পাড়া গ্রামের মৃত আলী আহমদের পুত্র আনু মিয়া (৪৫) ও মৃত আবদুল কাদেরের পুত্র রেজাউল করিম।

এ ঘটনায় বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন আটক ওই স্বর্ণ ছিনতাইকারী মলম পার্টির ৩ সদস্যকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মলম পার্টির মূলহোতাদের সন্ধান পেয়েছে দাবী করেন। সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের আটক অভিযান চলছে। তাছাড়া আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালীপুর ইউপি’র ব্রা‏হ্মন দিঘীর পাড় এলাকার নজির আহমদের স্ত্রী রাবেয়া বেগম সিএনজি অটো রিক্সা যোগে জলদী পৌর সদরে মেয়ের শ্বাশুর বাড়ীতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। সিএনজি অটোরিক্সায় ছদ্মবেশী প্রতারক চক্রের ৪সদস্যও যাত্রী হিসেবে ওই সিএনজিতে ছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তায় একটি ব্যাগ কুড়ে পেয়েছে প্রতারক চক্রের সদস্য। ওই মহিলার সামনে ব্যাগ খুলে দেখতে পায় তারা একটি স্বর্ণের বার ও ২শ টাকা। হঠাৎ করে প্রতারক চক্রের এক সদস্য বলে উঠলো আমার কাছে যদি টাকা থাকতো আমি এগুলো ক্রয় করে নিতাম। দুর্ভাগ্য বশতঃ ওই সদস্য নিতে না পারায় আপসোস করছিলেন। প্রতারক চক্রের এমন ভঙ্গিতে আকৃষ্ট করে ওই মহিলাকে। তখন অজান্তে ওই মহিলা নিজে ক্রয় করতে ইচ্ছুক এমন ইচ্ছা পোষন করেন প্রতারক চক্রের কাছে। তখনই মহিলার কাছে টাকা না থাকায় কানের দুল ও গলার লকেটের বিনিময়ে এই স্বর্ণের বার দেবে বলে জানায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সাথে সাথে ওই মহিলা তার পরিধিয় স্বর্ণালংকার খুলে দেয় প্রতারক চক্রকে। স্বর্ণালংকার পাওয়ার সাথে সাথে প্রতারক চক্রের সদস্যরা সিএনজি অটোরিক্সা বেপোরোয়া গতিতে টান দিলে ওই মহিলা দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে ধরে এবং শোর চিৎকার শুরু করে। মহিলার শোর চিৎকারে স্থানীয় জনগণ ওই সিএনজি অটোরিক্সাকে আটকে দিয়ে গাড়িতে থাকা ৪ প্রতারক সদস্যের মধ্যে ২ সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দিলেও বাকী ২ জন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ গিয়ে আটক দুই প্রতারককে সহ সিএনজি অটোরিক্সাটি থানায় নিয়ে আসেন এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো এক ছিনতাইকারী দলের সদস্যকে আটক করে পুলিশ। থানা পুলিশ এই চক্রের সদস্যদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

মতামত.........