,

বাঁশখালীতে প্রকাশ্যে চলছে কার্ভাড ভ্যানে অবৈধ গ্যাস বিক্রি, প্রশাসন নিরব

যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা।

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

বাঁশখালী উপজেলার পিএবি প্রধান সড়কের বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া পুরাতন ব্রীক ফিল্ড সংলগ্ন মাঠের পাশে বিক্রি করা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস। এই গ্যাস সিএনজি অটোরিকশায় দেওয়া হচ্ছে।কোনো নিয়ম নীতি ছাড়া প্রকাশ্যে চলছে সিএনজি গ্যাস ব্যবসা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে অনুমোদনবিহীন অবৈধ গ্যাস ব্যবসা। এভাবে খোলা আকাশের নিচে গ্যাস বিক্রি করায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আবার বড়ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সরেজমিনে পরিদর্শনে কালে দেখা যায়, বাঁশখালী প্রধান সড়ক চেচুরিয়া ব্রীক ফিল্ড সংলগ্ন রাস্তার পাশেই মাটি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে ব্যবহার উপযোগী অবৈধ গ্যাস ব্যবসার স্থান। সেখানে প্রতিদিন ১-২ টি কার্ভাভ ভ্যানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে গ্যাস। এই কাভার্ড ভ্যান থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে প্রধান সড়ক জুড়ে সিএনজিগুলো গ্যাস নিচ্ছে। এতে করে পুরো সড়ক যানযটের সৃষ্টি হয়।এমনিতে রাস্তা সরু হওয়ায় দুটি গাড়ি একসাথে ক্রস করতে কষ্ট হয় তারমধ্যে আবার সিএনজির দীর্ঘ লাইন হওয়ার ফলে রাস্তা সংক্রীন্তায় যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংঙ্খা করা হচ্ছে।

ট্রাকে করে সিলিন্ডার যুক্ত গ্যাস সিএনজি চালিত ছোট-বড় গাড়িগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত গ্যাস বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র সহ রাজনৈতিক লেবাজধারী নেতা। তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় ট্রাকে করে জনগণের জানমালের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রয় করছে এসব গ্যাস। এতে জড়ো হতে থাকে গ্যাস নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের সিএনজি চালিত গাড়ি । এভাবে খুব সহজ এবং অবৈধ পন্থায় গ্যাস বিক্রয় চলছে এই অসাধু চক্রের ।
ট্রাকের উপরে সংরক্ষিত গ্যাস ভর্তি বিশাল সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ হলে যেকোন মুর্হুতে ঘটতে পারে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা।

জানা যায়, সুদূর চট্টগ্রাম শহর থেকে বড় বড় সিলিন্ডার যুক্ত ট্রাকে করে বাঁশখালী ৬ নং বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া হাবিবের দোকান এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় নামধারী যুবলীগ নেতা দিপেশ চক্রবর্তী কালুর নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট গ্লোরি এ্যাগ্রো প্রডাক্টস কামালপুর, হবিগঞ্জ এর উৎপাদিত (CBG) গ্যাসের নাম ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উক্ত নব নির্মিত মিনি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করছেন।

গ্লোরি এ্যাগ্রো প্রডাক্টসের ইস্টিকার লাগানো লেখা নামে (চট্টমেট্রো-ট ১১.৬৬০০),(চট্টমেট্রো১১-৭১৫২) দুইটি বিশাল আকৃতির কাভার্ডভ্যান গাড়ি ওই পাম্পে এসে অবস্থান নেয়। কাভার্ডভ্যানের ভেতরে মাল বহনের স্থানে সারি সারি ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার। সকাল ৯ টা থেকে এই কাভার্ডভ্যানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে গভীর রাত পযর্ন্ত অবাধি তা চলতে থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনজি পাম্পের এককর্মী জানান, কাভার্ডভ্যানে গ্যাস ভরতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। ওই কাভার্ডভ্যানে এক সাথে এক লাখ টাকার ওপরে গ্যাস সরবরাহ করা করা হয়।

অবৈধভাবে কাভার্ড ভ্যানে রাখা সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বিক্রি করছে। প্রশাসন এই সব দেখেও না দেখের মত ভান করে।সে মিনি স্টেশন বানিয়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে সিএনজি চালিত বিভিন্ন গাড়িতে গ্যাস বিক্রি করছে। বিগত ৭/৮ মাস পূর্বে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায়ের পর এসব অবৈধ গ্যাস ব্যবসা বন্ধ করে দেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে আদালতের রায়ের কথা বলে জনবহুল এলাকায় দিন দুপুরে প্রকাশ্যে এসব অবৈধ গ্যাস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।বিগত ৭-৮ মাস পূর্বে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উপজেলার বেশ কয়েক স্পটে এসব ব্যবসা বন্ধ করলেও ইদানিং আবারো এই সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পূনরায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবসা চালিয়ে যেতে প্রশাসন ও গুটি কয়েক অসাধু সাংবাদিকেও নিয়মিত ও মাসিক হিসেবে মাসোহারা দিতে হচ্ছে তাকে। খোলা মেলা ভাবে এভাবে গ্যাস বিক্রির কারণে বর্তমানে এলাকাটি চরম ঝুকিঁর মধ্যে পড়েছে। ট্রাকের ওপর করে এভাবে গ্যাস ব্যবসা করতে তাঁদের হাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রানালয়ের কোন ধরণের অনুমতিপত্র নেই। এমনকি পরিবেশ ছাড়পত্র বা ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্রও নেই। এরপরও অতিলাভের আশায় ঝুকিপূর্ন এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীরা জানান, প্রশাসন ও সর্বসাধারণের দৃষ্টি আড়াল করতে ওই গ্লোরি এ্যাগ্রো প্রডাক্টস (CBG) কোম্পানির নামে দুইটি গ্যাসের সিলিন্ডার-ভর্তি ট্রাক দিনের পুরো সময় ত্রিপল মোড়ানো অবস্থায় রাখে। ফলে যে কেউ ট্রাকের ভেতর কি আছে তা সহজে অনুমান করতে পারে না। ট্রাক ভর্তি সিলিন্ডার থেকে যেভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এধরণের অবৈধ এবং ঝুকিপূর্ন গ্যাস বিক্রিতে কোন লাইসেন্স নেই। এই অবৈধ গ্যাস ব্যবসার মাধ্যমে এসব ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে কোটিপতি বনে গেলেও জনগণের জানমাল তাদের কাছে যেন কিছুই না। জনবসতি পূর্ণ এলাকায় এসব ট্রাকে ভর্তি সিলিন্ডার গ্যাস দুর্ঘটনা বশতঃ বিষ্ফোরণ ঘটলে অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ
হবে জনগণের । আর এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার নেবে কে? সম্প্রতি চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণ হয়ে অকালেই প্রাণ গেছে অনেকের। সুতরাং বাঁশখালীতেও এই ধরনের অবৈধ ব্যবসায়ীরা নিতে পারে অনেকের তাজা প্রাণ।

উল্লেখ্য, গত ৮/১০ দিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বাধা ছাড়া অবৈধ পন্থায় এই গ্যাস বিক্রয় চলছে। সরকার সারা দেশে সিএনজি গ্যাস ফিলিং ষ্টেশন গুলোতে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রয় বন্ধের নির্দেশা দিলেও এই ষ্টেশনে ২৪ ঘন্টা গ্যাস বিক্রয় হয়।

ভাসমান ফিলিং এই ষ্টেশনে প্রতি পয়েন্ট গ্যাসের মূল্য ধরা হয় দ্বিগুণ অর্থাৎ ২ টাকা ৪০ পয়সা। প্রতি সিএনজি অটোরিক্সা গাড়িতে ২৩০থেকে ২৫০ পয়েন্ট, তবে ডাবল সিএনজিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ পয়েন্ট গ্যাস মজুদ করা যায়। শহরের তুলনায় এখানে গ্যাসের দাম একটু বেশি। তবে স্হানীয় সিএনজি ড্রাইভার দের জন্য এটা সুবিধাজনক বলে তারা জানান।

প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হয় বলে এভাবেই দ্বিগুণ দাম ধরে ভাসমান সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলো অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রয় করে যাচ্ছে। এছাড়া সারা দেশে সিএনজি গ্যাস ফিলিং ষ্টেশন গুলোতে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রয় বন্ধ থাকে সরকারি নির্দেশে। অথচ এসব ভাসমান ষ্টেশনে ২৪ ঘন্টা গ্যাস বিক্রয় হয়।

অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অন্যতম দিপশে চক্রবর্তী কালুর সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমরা সিবিজি গ্যাস বিক্রিয় করতে পারব, কারন আমাদের আদালতের রায় আছে,সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা প্রসাশন কে দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ের কপি এ প্রতিবেদন কে দিতে বল্লে আজকাল ক্ষেপন করে, কোন ধরনের আদালতের রায়ের কপি আজ পযর্ন্ত দেখাতে পারেন নি।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন,এ ধরনের খোলা গ্যাস বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ।তবে এখন ও পযর্ন্ত কেউ কোন কাগজ পত্র আমাকে দেন নি।কোন আদালতের রায়ের কপি ও আসেন নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম কর্ণফুলি গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম ) এ.জে.এম সালাউদ্দীন সরওয়ার বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ জানাই নি,আদালতে কোন কপি ও আমাদের কাছে আসেনি।তবে ভাসমান গ্যাস বিক্রয় বন্ধে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও
থানার (ওসি)র কাছে শিগ্ররই চিঠি দেওয়া হবে ।গত বছর ও আমরা ৬/৭টি গাড়িকে জরিমানা করেছি। অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে শীগ্রই এসব অবৈধ গ্যাস ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মতামত.........