,

বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

বাঁশখালীতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্মরণ সভায় বাঁধা…

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলি বিনিময় ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর প্রয়াত সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাঁশখালী উপজেলা আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উপজেলার পৌরসদরস্থ জলদী গ্রীণ পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করে। এতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলে আসার পথে বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কের পাইরাং দেলা মিয়া মার্কেটস্থ এলাকায় আসার পথে এমপি সমর্থকের লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে র‌্যাডিকেট দেয়। এ সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে প্রায় দেড় ঘন্টা যাবৎ প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় প্রধান সড়কে প্রায় ঘন্টা দুই ঘন্টার মত গাড়ী চলাচল করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ৫ টার পর অনুষ্ঠানস্থলে এই খবরটি পৌছলে লিটন সমর্থিত কর্মীরা মিছিলসহকারে লাঠিসোটা নিয়ে তারাও দেলা মিয়া মার্কেটে জড়ো হয়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পরবর্তীতে ছেঁড়া গুলিও ছোঁড়া হয়। এতে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। তাদের মধ্যে বাঁশখালী হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি হয়ে তার মধ্যে গুরুতর আহত বৈলছড়ি ইউনিয়নের মেম্বার মোঃ জামাল উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বাকীরা গুনাগরী আধুনিক হাসপাতাল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অপর দিকে, এমপি সমর্থিত আহত হলেও তারা ব্যক্তিগত ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আওয়ামীলীগ নেতা লিটনকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসে। এ সময় লিটন সমর্থিত কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরবর্তীতে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন, সাবেক পৌর মেয়র শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী, পুকুরিয়া সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, জাহেদ আকবর জেবু, জসীম উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, করিম ভান্ডারী, খোরশেদ পাশাসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় আবদুল্লাহ কবির লিটন এমপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কিভাবে আওয়ামীলীগ করেও যিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ জেলার আওয়ামীলীগের অভিভাবক এবং সাংসদ ছিলেন সেই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণ সভা বানচাল করার সাহস পেলেন। আপনি সাবধান হয়ে যান। আপনি হয়তো বোবার স্বর্গে বাস করছেন। আগামীতে এ ধরনের কিছু করার চেষ্টা করা হলে দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ও গুলিবিদ্ধ বৈলছড়ি ইউনিয়নের মেম্বার জামাল উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হলেও বাঁশখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর আহত ব্যক্তিরা হলেন, শীলকূপের আহমদ হোছন (৪৫), সাইফুল্লাহ মোঃ ফাহিম (১৭), মাইনুদ্দীন (২৭), আবদুল্লাহ (১৭), অমিত চৌধুরী (২৮), হোছাইন আহমদ (৩০), সাইফুল ইসলাম (১৮), মামুনুর রশীদ (৩৭), মিখন দেব (২২), মোঃ আনোয়ার (২৮) ও গোপাল দাশ (৫০), শতদল বড়ুয়া, মিশু, জাবেদ মনি, সাইফুল্লাহ, মিটু, হারুন সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীর আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত.........