,

বাঁশখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের শিকার হচ্ছে যাত্রীরা

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় বাঁশখালী প্রধান  সড়ক ও উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে….

মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি-

বাঁশখালী স্পেশাল সার্ভিসে প্রতিনিয়ত চলছে যাত্রী হয়রানী প্রতিদিন নানান ভাবে যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বাঁশখালী সর্বশেষ প্রান্ত চকরিয়া টইটং বাজার থেকে সকাল বেলা স্পেশাল সাভির্স ও সুপার সাভির্স নাম দিয়ে ছাড়ে  চট্রগ্রাম শহরের দিকে। স্পেশাল এবং সুপার নাম দিয়ে চলা বাস গুলোতে দেখা যায়। স্পেশাল নয় যেন স্পেশাল ঝামেলা টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। কিছু নতুন গাড়ি থাকলে ও অধিকাংশ পুরাতন বাস গুলো কে রং লাগিয়ে নতুন করে রাস্তায় নামানো হয়েছে। যেমন উপরে ফিটপাট ভিতরে সদরঘাট।

টইটং বাজার থেকে বদ্দারহাট বাস স্টেশেনে যেতে ১.৩০ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা   সময় লাগলে ও  স্পেশাল এবং সুপার নামধারী বাস গুলোতে  লাগে ৩ থেকে ৩.৩০ ঘন্টা। এই বাসের সিটের সাইজ গুলো এতো ছোট যে হাঁটু দুইটাও ঠিক মত রাখতে পারে না যাত্রীরা। কোন রকম কষ্ট করে বসেই যাত্রীরা নিজের গন্তব্যের উদ্দ্যেশ্যে পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, চট্রগ্রাম থেকে আসার সময় অর্ধেক আসলে যদিও স্পেশাল সার্ভিসে সিটের বাইরে যাত্রী নেওয়ার কোন সুযোগ নেই তবুও দাঁড়িয়ে এবং বাসের ছাঁদের উপরে যাত্রী নে ১৫/২০ জনের  উপরে। আর এভাবে প্রতিদিন বাস গুলে শহর থেকে ৪ বার ও বাঁশখালী থেকে ৪ বার গাড়ি আসা যাওয়া করে।

অপর দিকে, শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতু অবশেষে হাইকোটের্র আদেশের পরিপেক্ষিতে গত ২৪ অাগষ্ট থেকে  টোল বন্ধ করা হয়।কিন্তু টোল দেওয়ার অজুহাতে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি সহ নানান অজুহাতে একের পর এক বাঁশখালী সড়কে ভাড়া বৃদ্ধি করে। তেলের দাম কমে যাওয়া এবং তৈলারদ্বীপ ব্রীজের টোল বন্ধ হলে ও এখন ও পযার্প্ত এক টাকা ভাড়া ও কমায় নি। ফলে টোল মুক্ত হলে ও গলাকাটা ভাড়া না কমায় সাধারন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে।দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে ভাড়া বেশী ও যাত্রী হয়রানী হয় বাঁশখালী-আনোয়ারা পিএবি সড়কে। এই পিএবি সড়কে মালিক শ্রমিকদের সাথে অসংখ্যবার ভাড়া কমানো ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে বৈঠক হলেও অদৃশ্য কারনে ভাড়া কমানো হয়নি। বাঁশখালী আনোয়ারা সড়কে ভাড়া কমানোর জন্য সম্পতি বাঁশখালী প্রধান সড়কে পরিবহন ব্যবস্হায় চলমান নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে  বাঁশখালী স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সহ অসংখ্য সাধারন যাত্রীরা জেলা প্রশাসক সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন।

বাঁশখালী সর্বশেষ প্রার্ন্ত পেকুয়া  টইটং বাজার থেকে সকাল বেলা স্পেশাল সাভির্স ও সুপার সাভির্স নাম দিয়ে ছাড়ে  চট্রগ্রাম শহরের দিকে। স্পেশাল এবং সুপার নাম দিয়ে চলা বাস গুলোতে দেখা যায়। স্পেশাল নয় যেন স্পেশাল ঝামেলা টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। কিছু নতুন গাড়ি থাকলে ও অধিকাংশ পুরাতন বাস গুলো কে রং লাগিয়ে নতুন করে রাস্তায় নামানো হয়েছে। নতুন উন্নত মানের  কোন গাড়ি বাঁশখালী এ সড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ দিন আগেও চাম্বল থেকে বড়ঘোনা সকাল বাজার পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৩০টাকা। ঈদুল আজহার দুদিন আগে থেকে বুধবার পর্যন্ত ৩০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৭০ টাকা। টইটং বাজার থেকে পটিয়ার মইজ্যারটেক পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ছিল ১৯০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। গুনাগরি  থেকে বাহারচড়া বশির উল্লাহ মিয়াজির হাট যেতে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকার স্থলে ৬০ টাকা। একইভাবে চাম্বল থেকে ছনুয়া মনুমিয়াজীর বাজার সিএনজি গাড়িতে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকার স্থলে ৭০টাকা। জলদী মিয়ার বাজার  থেকে সরল বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি সিএনজি ভাড়া ৩০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

বাস যাত্রাকালে বাঁশখালী অভিমুখী যাত্রীদের  পুকুরিয়া, সাধনপুর ও জলদী পর্যন্ত ১শ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। নিয়ম রয়েছে নতুন ব্রিজ থেকে জলদী ৩৬ কিলোমিটারে ৪৫ টাকা ভাড়া। কিন্তু শ্রমিকরা ৪৫ টাকার স্থলে রিজার্ভ সাইনবোর্ড বোর্ড লাগিয়ে আদায় করেন ১শ টাকা। এই সড়কে চলাচলরত বাসযাত্রী এম এন আবচার  বলেন, নতুন ব্রিজে বাসে সাইনবোর্ড লাগিয়ে পুকুরিয়া–গুনাগরী পর্যন্ত ৮০/১০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বাস শ্রমিকরা। একই কায়দায় ঈদুল আযহাকে পুজি করে  নতুন ব্রিজ মইজ্যারটেক এলাকা থেকে  নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা বাঁশখালীগামী প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১২০–২০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করে।

চাম্বল ইউনিয়নের মুফতি মাওলানা কেফাইতুল্লাহ বলেন, ছুটিতে বাড়ী ফিরতে প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে বাস ও সিএনজি। এমনকি  প্রতি ঈদেও মৌসুমে যাত্রীদের কাছ থেকে এই ভাড়ার ছেয়ে ২-৩ গুণ ভাড়া আদায় করে চালকরা। অতিরিক্ত ভাড়া না পেলে চালকরা খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রীরা।

বাঁশখলী জলদী মনছুরিয়া বাজার এলাকার শিব্বির আহমদ রানা জানান, উপজেলা সদর ষ্টেশনের গাড়ীতে করে কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ পর্যন্ত যেতে সিএনজি ভাড়া নেয় ১০০টাকা। এই ষ্টেশনের আগে বা পরে থেকে অন্য কোন ষ্টেশনের গাড়ীতে করে গেলে ৫০-৬০ টাকা, বাঁশখালীর মত ভাড়া অন্য কোনো এলাকায় নেই।

জলদীর অটোরিকশার চালক মোঃ কামাল  বলেন, আমরা এই ঈদে উপজেলা সদর  থেকে মইজ্যারটেক জন প্রতি ১৫০ টাকা করে নিয়।তবে দুই একদিন পর থেবে আর নেওয়া হবে না। দুই ঈদে ও হরতালের সময় কিছু টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হয়। জোর করে কারও কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় না।

বাঁশখালী অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি  মো. আব্দুস ছবুর বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর  বুধবার আমরা সিএনজি সমিতির সকল নেতা কর্মীরা বাঁশখালীর সাবেক সংসদ ও মেয়র তার নিজস্ব গ্রামের বাড়িতে এক বৈঠকে  ভাড়া কমানোর সিন্ধান্ত গৃহীত হয়। আমরা চেয়েছিলাম আরো একটু কমাতে, তবে গ্যাসের দাম আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এবং আমাদের সংগঠনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যাত্রীরা যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। তবে ঈদ উপলক্ষে কোনো কোনো চালক হয়ত বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন।পূর্বে আমরা উপজেলা সদর থেকে কর্ণফুলি মইজ্যার টেক পর্যস্ত ভাড়া নিতাম ৭০ টাকা করে  তবে আগামী দুই একদিন পর থেকে ১০ টাকা কমিয়ে ৬০ টাকা নেওয়া হবে।

বাঁশখালী বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারী নিয়ম অনুসারে বাঁশখালী উপজেলা সদর থেকে  সুপার সার্ভিসে ৮০ টাকা স্পেশাল সার্ভিসে ৬৫ টাকা ভাড়া নিয়ে থাকি।এটা তেলের দামের উপর নির্ভর করে সরকারী ভাবে  ভাড়া নির্ধারন করেছি।তৈলারদ্বীপ ব্রীজের টোল বন্ধ হয়েছে। সরকার যদি  ভাড়া কমানোর কোন পদক্ষেপ নেয় তাহলে তা অবশ্যই আমরা ভাড়া টা কমাবো।এখনো পযার্প্ত ভাড়া কমানোর কোন পরিকল্পনা আমাদের নাই।

জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা কাজ্বী চাহেল তস্তুরী  বলেন, পরিবহন নেতাদের ডেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে করে যাত্রীদের কাছ থেকে  কোন প্রকার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া না হয়।

মতামত.........