,

পিস টিভি বাংলাদেশেও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত

imagesসংবাদ সবসময় ডেস্ক :

ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকায় স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলাকারী দুই জঙ্গি বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন, এমন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ভারতের পর বাংলাদেশেও পিস টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (১০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্তের পরই সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, এ কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়। গুলশান হামলার ক্ষত না শুকাতেই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের মাঠের কাছে ফের সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা কমিটির ওই ‘বিশেষ’ বৈঠক হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী।

জাকির নায়েক পরিচালিত মুম্বাইভিত্তিক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিষ্ঠান হল এই পিস টিভি। এ টিভিতে ধর্ম নিয়ে আলোচনায় ইসলামের যে ব্যাখ্যা তিনি দেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটেন, আমেরিকায় চ্যানেলটি নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশেও।

এদিকে এ ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয় আগামীকাল (সোমবার) পুরো বিষয় পরীক্ষা করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে টেলিভিশনের মালিক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ তথ্য জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘পিসি টিভি বহুত ক্ষেত্রে মসুলমান সমাজের কোরান, সুন্নাহ, হাদিস, বাংলাদেশের সংবিধান, দেশজ সংস্কৃতি, রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না’।

গত ১ জুলাই গুলশানে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় জড়িতদের মধ্যে অন্তত দুজন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জাকির নায়েককে নিয়মিত অনুসরণ করত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জাকির নায়েকের বিষয়ে উদ্যোগী হয় ভারত সরকার। গুলশান হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।

গুলশানে হামলাকারীদের মতো ভূস্বর্গ কাশ্মীরে নিহত জঙ্গিনেতা বুরহান ওয়ানিও ছিল জাকির নায়েকের ভক্ত। আর এর প্রমাণ মিলেছে ওয়ানির করা শেষ টুইটে।

গত শুক্রবার (৮ জুলাই) কাশ্মীরে সেনার হাতে মৃত্যু হয় ২২ বছরের বুরহানের। সে দিনই টুইটারে বুরহান লিখেছিল, ‘জাকির নায়েককে সমর্থন করুন নইলে এমন সময় আসবে যখন কোরান পাঠ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।’ ওই কথাই ছিল বুরহানের শেষ টুইট। বুরহান ভাই নামে ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট চালাত সে।

এদিকে শুধু চ্যানেল বন্ধ করে দেয়াই নয়, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে নয়াদিল্লি। তার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ কথা ভাবছে ভারত। জাকিরের বিপুল জনসমর্থনের বিষয়টি মাথায় রেখে আটঘাট বেঁধে এগোচ্ছে দেশটির সরকার। আর তাই জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্তে ৯টি দল গঠন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ হওয়া নিয়ে শনিবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এই টিভিটি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রণালয়ের অফিস খুললেই কাজ শুরু হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের স্ট্যান্ড আমরা স্পষ্ট করব।’

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী বলতে অস্বীকার করেছিলেন জাকির নায়েক। তার বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বহু তরুণ জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মতামত.........