,

পদ্মায় বাড়ছে পানি ভয়াবহ ভাঙ্গনে আতংকে কয়েক লাখ মানুষ

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভাঙ্গন এলাকা সংস্কার না করার অভিযোগ
imagesহাবিব আহমেদ, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়তে শুরু করেছে রাজশাহীর পদ্মানদীর পানি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে রাজশাহীর নদী তীরবর্তি কয়েকটি গ্রাম। গত কয়েক বছরে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গনের কারণে এবার শঙ্কায় দিন পার করছেন পদ্মাপাড়ের বসবাস করা কয়েক লাখ মানুষ।

জানা গেছে, গত বছরের ভাঙ্গনস্থলে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ওইসব এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুরুতেই ভাঙ্গন দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। রাত হলেও তারা শুনতে পাচ্ছেন পদ্মানদীর গর্জন। একই সাথে শহর রক্ষা বাঁধ এবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে নদী ভাঙ্গনের জন্য দায়ি করা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রেমতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার করে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান পদ্মায় পানির উচ্চতা প্রায় ২০ সেন্টিমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মা নদীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পদ্মা তার যৌবন ফিরে পাবে। শুকিয়ে যাওয়া প্রমত্মা পদ্মা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। ইতিমধ্যে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর পানি বাড়ার সাথে সাথে রাতের ঘুম হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষের। শঙ্কায় প্রতিটা মুহূর্ত কাটাতে হচ্ছে তাদের। এসব এলাকার বাসিন্দাদের মনে অজানা আতংক সর্বগ্রাসী পদ্মা হয়তো এবার তাদের কাল হয়ে আসছে। এবার কতজনকে নিজের বসত ভিটা হারাতে হবে কে জানে।

দেখা গেছে, পবার হরিপুর ইউনিয়নের খানপুর, হাড়–পুর, নবগঙ্গা, চর খিদিরপুরসহ কেসবপুর পুলিশ ফাঁড়ির দক্ষিণ এলাকার পদ্মার ধারে শুরুতে ব্যাপক ভাঙ্গন হয়েছে। গত বছর যেসব এলাকা ভেঙ্গে গেছে সেসব এলাকায় কোন সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে এবার শুরুতেই ভাঙ্গন এলাকায় পুনরায় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বসতবাড়ি থেকে মাত্র ১শ’ গজের মধ্যে নদীর দূরত্ব রয়েছে। এতে এসব এলাকার মানুষ বেশি আতংকের মধ্যে রয়েছে। গত দুই বছরে এসব এলাকা থেকে হারিয়ে গেছে অনেক বসতবাড়ি, মসজিদ, স্কুলসহ ফসলি জমি। বড় আকারের ভাঙ্গন শুরুর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড লাখ লাখ টাকা ব্যয় করলেও কোন কাজে লাগেনি। পদ্মা নদীর তীরবর্তি এলাকায় বসবাস করা লোকজনের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড শুষ্ক মৌসুমে ভাঙ্গন এলাকার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় না। এর ফলে পানি বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে ভাঙ্গন।

বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী মুর্তুজার সাথে কথা বলা হলে তিনি সংবাদ সবসময়কে বলেন, নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে আমার দপ্তর থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। ভাঙ্গণের বিষয়গুলো দেখেন পাউবোর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মকলেসুর রহমান।

মতামত.........