,

নড়াইল হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির জমি রক্ষায় ঢাকায় বিশেষ মতবিনিময় সভা

01সৈয়দ খায়রুল আলম, নড়াইল প্রতিনিধিঃ
হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ি নড়াইল জেলার ঐতিহ্য সম্মান বহন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই জমিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়ল, মেডিকেল কলেজ, শিশুপার্ক, পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার স্বপ্ন দেখে নড়াইলের মানুষ। সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে মোস্তব মন্ডল ও তার সহযোগি ভূমিদস্যুরা কোন রূপ কাগজপত্র না থাকা সত্বেও মূল্যবান জমি জালজালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাস করার চেষ্টায় রত আছে। নড়াইলের সাধারণ মানুষ এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সর্বত্র সোচ্চার থাকবে। আইনী লড়াই ঢাকাস্থ বসবাসরত মানুষের দায়িত্ব নিতে হবে। মাঠ পর্যায় সংগ্রাম কাজ করবে। শনিবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৫টায় ঢাকাস্থ বৃহত্তর যশোর ভবনের এসএম এ আহাদ অিিডটোরিয়াম (২য় তলা) হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির জমি রক্ষায় বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা উরোল্লেখিত কথাগুলি বলেন।

ঢাকাস্থ নড়াইল সমিতির সভাপতি মো: শহীদুল ইলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ৯৪ নড়াইল-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯৪ নড়াইল-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কবীরুল হক মুক্তি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সম্পাদক কমরেড বিমল বিশ্বাস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নড়াইল হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এসএ মতিন এবং হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির জমি জাল-জারিয়াতির মুল বিষয়বস্তু সম্পর্কে উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক নড়াইল জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিদ্দিক আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবীর, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফ মুনির হোসেন, কমিটির অন্যতম সদস্য কাজী ইমাইল হোসেন লিটন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাটভোকেট রজাউল আলম, অ্যাডভোকেট সরদার মাহাবুবুর রহমান, আনঞ্জুমান আরা, অশোক কুমার কুন্ডু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের ছাত্রনেতা মো: তরিকুল ইসলাম, ঢাকাস্থ নড়াইল সমিতির সদস্য ও নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা’র জেলা সভাপতি সৈয়দ খায়রুল আলম, ঢাকাস্থ সমিতির শ্যামল দাশ টিটু, মোতালেব হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মো: আরজ আলী প্রমূখ।DSC09525

সভাটি পরিচালনা করেন ঢাকাস্থ নড়াইল সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসান ইকবাল ( অবসরপ্রাপ্ত লে: কর্ণেল)।

উল্লেখ্য, প্রায় দুইশত বছর পূর্বে নলদীর জমিদার রাজা বিরেন্দ্র চন্দ্র সিংহ এক্সজিকিউটার কুমার অরুণ চন্দ্র সিংহ বাহাদুর দিং অধিনে পত্তনী পদ্মমতি দাসীর নামীয় থাকা দৃষ্ট হইলেও উক্ত জমিতে ক্রমিক উত্তাধিকারী সূত্রে বাবু যিতেন্দ্র নাথ রায় প্রাপ্ত হন। যিতেন্দ্র নাথ দুইপুত্র নলিনী নাথ রায় ও অনাথ বন্ধু রায়কে ওয়ারেশ রেখে মারা যান। নলিনী নাথ রায় অনাথ বন্ধু রায়কে ওয়ারেশ রেখে মৃত্যু বরণ করেন। অনাথ বন্ধু রায় পুত্র আশুতোষ কুমার রায় ও অজিত কুমার রায়কে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেন।

হাটবাড়িয়ার জমিদার আশুতোষ রায় এবং অজিত রায় পিতা অনাথ বন্ধু রায় নড়াইল পৌরসভার ৫৬নং ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা মৌজার খতিয়ান নং ৫৬ (হাল), সেঃ মেঃ ২৪ দাগে ৩.২৯ একর এর মধ্যে দক্ষিণ পার্শ্বদিয়ে ১.৬৪ একর, ২৫ দাগে ০.৫৯ একর এর মধ্যে পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে .৩০ একর, ২৬ দাগে ৩.৭৭ একর এর মধ্যে পশ্চিম পার্শ্বদিয়ে ১.৮৮ একর, ২৭ দাগে ১৫.৬৪ একর এর মধ্যে ৭.৮২ একর, ৪৬ দাগে ০.৪৭ একর এর মধ্যে উত্তরপার্শ্ব দিয়ে .২৪ একর, সর্বমোট ২৩.৭৬ একর জমির মালিক ছিলেন। তন্মধ্যে উপরোল্লেখিত বিবরণ অনুযায়ী ১১.৮৮ একর জমি দাবি করে মস্তোব মন্ডল মোকদ্দোমা করেন।

নড়াইল হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির জমির ঘটনার প্রকৃত অবস্থা এই যে, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জমিদার আশুতোষ রায় এবং অজিত রায় উভয় মালিকগণ কাহারো নিকট জমি রেজিস্ট্রি দলিলমুলে হস্তান্তর না করেই সপরিবারে তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ী নাগরিক প্রাপ্ত হয়ে বসবাস করেন। জমিদারদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি অরক্ষিত থাকায় সরকার দখল গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৫০ সনে জমিদারী উচ্ছেদ ও প্রজাস্বত্ব আইন জারীর পর প্রজাস্বত্ব আইনের বিশেষ বিধান EBSA & T Act ১৯৫০ এর ৯২(২) ধারা মোতাবেক তৎকালিন জেলা প্রশাসক সাহেব উক্ত সম্পত্তি খাস সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ১১/০৫/১৯৬৬ তারিখে ২২৫৪(৪) নং স্মারক মাধ্যমে নড়াইল রাজস্ব অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ প্রদান করেন। যথাযথ তদন্ত পূর্বক 64/XIII/75-76 নম্বর মিসকেসের মাধ্যমে বিষয়ী জমি খাস সম্পত্তি হিসেবে সরকারের তত্ত্বাবধায়নে রহিয়াছে।

জনৈক মস্তোব মন্ডল যশোরের বসবাসরত বাসের স্ট্যাটার হিসেবে কর্মরত থাকিয়া নড়াইল তৎকালিন মুনসেফ আদালতে ঝিনাইদহের তপশীল জমি-জমার “পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি” ভ্যালিড মিসকেস নং- 23/2C/75-76 সৃজন করিয়া তঞ্চকীয় জাল-জালিয়াত কাগজ দেখাইয়া দেওয়ানী ১৩/৮৭ নং মামলা করে। অন্যদিকে ৫২/৯৫ নং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলায় মস্তোব মন্ডল “পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি” এর অন্য একটি ভ্যালিড মিসকেস নম্বর 129/2C-75-76 দিয়ে মামলা দায়ের করেন। যে মিসকেস নম্বরও তঞ্চকীয় ও জাল-জালিয়াতপূর্ণ, যা জেলা প্রশাসক যশোর কর্তৃক বাতিল হইয়াছে। একতরফা বিচারে ০৫/০১/১৯৮৯ তারিখে পরাজিত হন। দেওয়ানী ৫২/৯৫ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করিয়াও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হইয়াছেন। অত:পর ১৩/৮৭ নং মামলার রায়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে ৪৬/৮৯ টাইটেল আপীল ফাইল করেছিলেন। আপীলে সরকার পক্ষ পরাজিত হলে একই বিজ্ঞ আদালতে পুন:স্থাপন প্রার্থনায় ২৬/৯২ নং মিস মোকদ্দোমা দায়ের করেন। মিস মোকদ্দোমা খারিজ হয়। সরকার পক্ষ উচ্চ আদালতে রিভিশন মোকদ্দোমা দাখিল করে। যার নম্বর 94 FM (ফাষ্ট মিসলেনিয়াস)১৬ নং মামলা বিচারাধীন আছে। ৪৬/৮৯ নং মামলার রায় সরকারে বিরুদ্ধে কার্যকর নয় বলে সরকার পক্ষ দেওয়ানী আদালতে ১৭৬/৯৪ মামলা দায়ের করেন। এই মামলা খারিজ হলে মাননীয় জেলা জজ আদালতে ৫৬/৯৬ নং আপীল মামলায় Resjudicata নীতিতে আরজি সংশোধন করে মামলা নিস্পত্তি করার জন্য নিম্ন আদালতকে আদেশ দেন। মোস্তব মন্ডল এই আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগে CR-4723/97. মোস্তব মন্ডলের এই মামলা মাননীয় বিচারপতি লতিফুর রহমান ডিসচার্জ করেন। পুনরায় ১৭৬/৯৪ নং দেওয়ানী মামলা শুরু হলে লোহাগড়া কোর্টে রূপান্তরিত নম্বর দেওয়ানী ৬/২০০৫ মামলা সৃষ্টি হয়।

DSC09561
মোস্তব মন্ডল বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে ৫২/৯৫ নং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত বিভাগ বন্টন মামলার রায় না থাকায় খারিজ করলে মোস্তব মন্ডল বিজ্ঞ সাবজজ আদালতে ৫/৯৫ নং বিভাগ বন্টন মামলা করলে সেই মামলাও লোহাগড়া বিজ্ঞ জজ আদালতে দেওয়ানী ০৫/০৫ নং রূপে বিচার শুরু হয়। অপর দিকে জৈনক জয়নার আবেদীন কর্তৃক দাখিলকৃত ২১৩/১৯৭৮ নং দেওয়ানী মামলাটি বিভিন্ন বিচারিক কার্যক্রম অতিক্রম করে লোহাগড়া সহকারী জজ আদালতে ৭/০৫ নং দেওয়ানী মামলায় পরিনত হয়। মামলা তিনটি যথাক্রমে- ০৫/০৫, ০৬/০৫, ০৭/০৫ একত্রে বিচার শুরু হয়। সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত ০৬/০৫ দেওয়ানী মামলা ইংরেজি ১০/০৩/২০০৫ তারিখে ডিক্রি হয়। অন্য মামলা দইটি খারিজ হয়। এ দিকে মোস্তব মন্ডল ডিক্রির বিরুদ্ধে টাইটেল আপীল ৪০/০৫ এবং ৩৯/০৫ বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে দায়ের করেন। জয়নাল আবেদীনও দেওয়ানী ০৭/০৫ মামলা খারিজের বিরুদ্ধে ৬৬/০৫ টাইটেল আপীল দায়ের করেন। মামলা গুলি একত্রে বিজ্ঞ সাব জজ জনাব এনামুল করিম এর আদালতে ৪০/০৫ ও ৩৯/০৫ আপীল মামলা মঞ্জুর করে মোস্তব মন্ডলের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

সরকার পক্ষ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে টাইটেল আপীল ৩৯/০৫ ও ৪০/০৫ এর বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন যথাক্রমে ১৮৯৭/১৪ ও ১৮৯৮/১৪ দায়ের করলে ইংরেজি ১০/০৮/২০১৫ তারিখ রুল ডিসচার্জ হয়। এদিকে ১৮৯৮/১৪ সিভিল রিভিশনের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ CPLA (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল) ১৯২০/১৬ দায়ের করেন এবং ১৮৯৭/১৪ সিভিল রিভিশন রায়ে বিরুদ্ধে CPLA (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল) প্রক্রিয়াধীন রহিয়াছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট CPLA (সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল) মামলা নং ১৯২০/১৬ ও মহামান্য হাইকোর্টে 94 FM (ফাষ্ট মিসলেনিয়াস)১৬ নং মামলা বিচারাধীন মঞ্জুর করার জন্য আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় অব্যহত রাখতে হবে।

মতামত.........