,

নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের সমাধিতে সদর উপজেলা যুবলীগের শ্রদ্ধা নিবেদন

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা:

নরসিংদীর জননন্দিত প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন নরসিংদী সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ। ১নভেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় নরসিংদী নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌর গোরস্তানে।

এসময় নরসিংদী সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাকির হোসেন কমিশনারের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক এস এম সেলিম সিকু সহ প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী নিয়ে মাধবদী থেকে নরসিংদী পৌর গোরস্তানে শহিদ জনবন্ধু মেয়র লোকমানের সমাদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, নরসিংদীর জননন্দিত প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে গত ২০১১সালের ১নভেম্বর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের শাহ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। কলেজ জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে লোকমান হোসেন। পরে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। জনপ্রিয়তার কারণে ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তিনি নরসিংদী পৌরসভার রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র ৮ মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহত মেয়র লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমার এতিম দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামী হারানোর যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। হত্যার বিচারের আশায় দিন গুনতে গুনতে হতাশ হয়ে পড়ছি। স্বামী হত্যার বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই আমি।

লোকমান হত্যা মামলার বাদী ও বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘এ হত্যা মামলার আসামিরা রিমান্ড শুনানির আগেই বের হয়ে গেছে। মামলাকে নস্যাৎ করতে শুরু থেকেই চেষ্টা চলছে। চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তড়িঘড়ি করে। এতে মামলার মূল আসামিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারাজি দিলে তা খারিজ করা হয়। পরে জজ কোর্টে রিভিশন করলেও খারিজ করা হয়। বাধ্য হয়ে আমি হাইকোর্টে গেছি। আমরা শতভাগ আশাবাদী লোকমান হত্যার বিচার নরসিংদীর মাটিতেই হবে।’

মতামত.........