,

নগর বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা চাই, প্রথম বর্ষপূর্তিতে মেয়র আ জ ম নাছির

Ctg-Nasir-(1)রাজীব চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির ‍উদ্দীন বলেছেন, প্রাচ্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম নগরী ঐতিহাসিক ভাবে ১৩’শ বছর বয়সী নগরী। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়নে এই নগরী তার সোনালী অতীত হারিয়ে যেতে বসেছে। নগরের দায়িত্ব যখন আপনারা আমাকে অর্পন করেছেন, তখন এই নগরকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমি চেষ্টা করছি। ঐতিহাসিক এই নগরী বিনির্মাণে আমি সর্বশ্রেণির পরামর্শ-সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন আপনাদের যেকোন ইতিবাচক মতামত,পরামর্শ আমার ফেসবুক পেজ, ম্যাসেজে বা যোগাযোগের মাধ্যমে অবগত করবেন। তিনি বলেন, আমার এই উদ্যোগ, প্রচেষ্টার প্রশংসা যেমন থাকবে তেমনি সমালোচনার জন্যও আমি প্রস্তুত। কারো সমালোচনার আমি রাগান্বিত প্রত্যুত্তর দিয়েছি এমন নজির কেউ দিতে পারবে না। যে পরিস্থিতিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছি তা মোটামুটি সবাই অবগত আছেন। বিগত সময় আর আমার দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মূল্যায়নের ভার আপনাদের উপরই দিলাম। সিটি কর্পোরেশনের পূর্বের জনবল দিয়েই কিন্তু আমি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় বেড়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক উন্নয়ন, খাল খনন, নালা-নর্দমা সংস্কার, এলইডি আলোকায়নসহ সামগ্রিক উন্নয়ন সূচক বিগত সময়ের তুলনায় এই এক বছরে আপনারা মূল্যায়ন করুন।
25864
সিটি মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের লক্ষ্যে দিনের পরিবর্তে রাতে ময়লা আবর্জনা অপসারণ এবং এ উদ্যোগ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি জনসাধারণ এখনো সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ময়লা ফেলার ঘোষণাকে সচেতন ভাবে গ্রহণে সক্ষম হননি।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আনুমানিক আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মদুনাঘাট থেকে পতেঙ্গা নেভাল একাডেমী পর্যন্ত বেড়িবাঁধ, রাস্তা নির্মাণ এবং এই সংশ্লিষ্ট এলাকার ২৬টি খালের মুখে স্লুইচ গেইট উইথ পাম্প হাউস নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যাশা করছি আগামী বছরে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না- গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কর আদায় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা সমালোচনা,উস্কানিমূলক প্রচার প্রচারনা দেখা গেছে। অথচ কর ধার্য বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের উপর। সিটি কর্পোরেশন সরকার নির্ধারিত কর আদায়ের এখতিয়ার রাখে মাত্র। উপরন্তু সরকার এবার আলোকায়নে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতে ৮ শতাংশ কর ধার্য করেছে। অথচ আমি নগরবাসীর কাছ থেকে এই বর্ধিত বা আরোপিত কর আদায় করছি না। কিন্তু এ বিষয়ে যারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা চালিয়েছেন তারা সুস্থ মস্তিস্কে স্বইচ্ছায় এটা করেছেন। শাক দিয়ে তো আর মাছ ঢাকা যায় না।
13672365_839578176179040_465445013_n
জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিগত সময়ে ৪ কোটি ব্যয়ে জাতিসংঘ পার্কে অপরিকল্পিত ভাবে জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণ করা হয়েছে; গভীরতা বেশি হওয়ায় এই সুইমিং পুলে সাঁতার শিখতে গিয়ে দুই জন মারাও গেছে। আমার পরিকল্পনা এখানে কৃত্রিম লেক, ওয়াকওয়ে, বিনোদন কেন্দ্র সমেত আধুনিকায়ন করার জন্য আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিবদ্ধ করেছিলাম। এখানে তো সিটি কর্পোরেশনের টাকা ব্যয়ে সেটা করা হয়নি; উপরন্তু পার্ক আধুনিকায়ন শেষে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু কি উদ্দেশ্যে বা কেন একটি গণমাধ্যম জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে তা বোধগম্য নয়। আমি গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা, সম্মান আর জবাবদিহিতা রেখে বলছি, একটি পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য নগর বিনির্মাণে আপনাদের সহযোগিতা আমি চাই। আপনাদের ইতিবাচক সমালোচনা আমাকে কাজে অনুপ্রেরণা এবং সাহস যোগাবে।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কোরান আর সুন্নাহ’র আলোকে পবিত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। প্রিয় নবীজী তো কাউকে ভয় দেখিয়ে, জোর করে ইসলাম কায়েম করেননি বা তিনি মহান আল্লাহতা’লার কাছেও দুনিয়ার সকলকে ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত করতে চাননি। তাহলে যারা ইসলাম কায়েম করার নামে মানুষ হত্যা, বিশ্ব ব্যাপী নৈরাজ্য সহিংসতা ছড়াচ্ছে তারা কি আল্লাহ’র পথেই এসব করছে? নাকি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বীয় স্বার্থ হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমাদেরকে সম্মিলিত ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সমাজের সকল শ্রেণিপেশার সচেতন অংশগ্রহণ-সহযোগিতায় চিরশান্তির বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হবে।
সুধী সমাবেশে নগর বিনির্মাণে সমাজের নানা শ্রেণিপেশার বিশিষ্টজনরা তাদের স্ব স্ব মতামত,পরামর্শ ব্যক্ত করেছেন। সমাবেশে ৪১ ওয়ার্ড কাউন্সিলর,সংরক্ষিত কাউন্সিলরবৃন্দ,চসিক শীর্ষ কর্মকর্তা,বিভাগীয় প্রধানসহ অপরাপর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত.........