,

দোকান ও বাড়ি ভাড়া আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় নগরবাসী

to-let-hous-rentরাজীব চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম :

জীবিকার খোঁজে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধানে, প্রয়োজনের তাগিদে অনেককেই নিজ বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে হয়, তখন প্রয়োজন হয় মাথা গোজার জন্য এক চিলতে ছাদ, তখন ভাড়া বাড়িই একমাত্র ভরসা। ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের সকল জেলা শহর, পৌরসভায় বাসা ভাড়া দেওয়ার প্রচলন রয়েছে, দেশের সিংহভাগ মানুষ ভাড়া বাসার উপর নির্ভরশীল, প্রায়শই ভাড়াটিয়ারা বাড়িওয়ালা কর্তৃক নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হন। যেমন –যখন তখন ভাড়া বৃদ্ধি করা, বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করা সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, বর্তমান সময়ে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দাড়িয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন। ভাড়াটের অধিকার এই আইনে লেখা আছে। এই অধিকার কোনো বাড়িওয়ালা লঙ্ঘন করলে তাঁকে পেতে হবে শাস্তি, আইন অনুযায়ী বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য ভাড়ানিয়ন্ত্রক রয়েছেন, সাধারণত জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতগুলো এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন, কিন্তু আইনের বাস্তবায়নের অভাবে ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ কমছে না।

এক বছর হয়নি ভাড়া বাড়িয়েছে অথচ ঘর ভাড়া নেওয়ার সময় জমিদারের সাথে কথা ছিল দুই বছরের আগে ভাড়া বাড়াবে না এমনই অভিযোগ করেছেন জনৈক এক ভাড়াটিয়া। একদিকে বাড়ি ভাড়া আইনের অসম্পূর্নতা অন্যদিকে যতটুকুন আইন আছে তারও প্রয়োগ নেই। সীমাহীন ভোগান্তিতে থাকা অতিষ্ঠ অধিকার বঞ্চিত এসব মানুষ কোথায় আশ্রয় পাবেন, কার কাছে কষ্টের কথা জানাবেন তা জানেন না।বাড়ির মালিকদের অন্যায়-অনাচার, অগণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক পেশীশক্তির কাছে সাধারন, অসাধারন, নিম্ন আয়, মধ্যআয়ের মানুষ দিশেহারা ।

এভাবেই সমগ্র বাংলাদেশে ভাড়াটিয়ারা জমিদারের কাছে কি যে অপরিসীম হয়রানির স্বীকার হচ্ছে তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না,তারা এও অভিযোগ করেছেন, বছর যেতে না যেতেই ইচ্ছামত ভাড়াবৃদ্ধি, তাছাড়া জমিদারের মুখ থেকে শুনতে হয় অপমানজনক কথাবার্তাও, এ যেন জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা, ভাড়াটিয়ারা এও বলে দুঃখ প্রকাশ করছেন, অনিয়ন্ত্রিত বাড়ি ভাড়া ও জমিদারের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে সরকার এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

উল্লেখ্য যে ২০১৫ সালের ১লা জুলাই হাইকোর্টে এই বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হয়, রায়ে বলা হয়,বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো চিন্হিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ৬ মাসের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করার আদেশ দেওয়া হয় এবং ঐ কমিশনের মাধ্যমে আইনি কাঠামোগত পদ্বতি হওয়া পর্যন্ত কোন ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ বা ভয়ভীতি দেখানো হলে বা কোন অভিযোগ করলে তা যাতে দ্রুত নিস্পত্তি করা হয় এবং ভাড়াটিয়ার সুরক্ষার ব্যবস্থা যাতে নেওয়া হয় ও নিশ্চিত থাকে এজন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে পুর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় রায়ের সুফল ভুক্তভোগীরা পাচ্ছেন না।

নগর গবেষণা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এসেছে, নগরীর শতকরা ৭০ ভাগ মানুষই তাদের আয়ের অন্তত ৬০ শতাংশ ব্যয় করেন বাড়ি ভাড়া খাতে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালে দেশে গড়ে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ দশমিক ৮৫ ভাগ। এর মধ্যে পাকাবাড়িতে ১০ দশমিক ২০ ভাগ। আধাপাকা ১৮ দশমিক ১৮ ভাগ, কাঁচাবাড়ি ১৪ দশমিক ২৯ ভাগ। ক্যাবের জরিপ অনুযায়ী ২০০০ সালে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ দশমিক ০৮, ২০০১ সালে ১৭ দশমিক ৪০, ২০০২ সালে ১৩ দশমিক ৪৯, ২০০৩ সালে ৮ দশমিক ৪০, ২০০৪ সালে ৯ দশমিক ৯৬, ২০০৫ সালে ৭ দশমিক ৮৯, ২০০৬ সালে ১৪ দশমিক ১৪, ২০০৭ সালে ২১ দশমিক ২৮, ২০০৮ সালে ২১ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০০৯ সালে ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০১০ সালে ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, ২০১২ সালের ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ২০১৩ সালে ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ভাড়াটিয়াদের এখন প্রাণের দাবী হাইকোর্টের পুর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ করে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ও দোকান ভাড়া আইন বাস্তবায়ন করে এর সুফল যেন জমিদার এবং ভাড়াটিয়া পায়।

মতামত.........