,

তুরস্কে ব্যার্থ সেনা অভ্যুত্থান ও বাঙালি শিক্ষার্থীরা………. মুক্তমত

13695035_1750073878572526_1184785339_nমুক্তমত: লাবিব ফয়সাল,কোনিয়া তুরস্ক থেকে :

১৫ জুলাই আকস্মিক সেনা অভ্যুত্থানে কেঁপে ওঠে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুল। তুরস্কে বাংলাদেশিদের সংখ্যাটা কম নয়। তবে এখানে প্রবাসী শ্রমিকের তুলনায় শিক্ষার্থীরাই বেশি। আর এই শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ থাকেন রাজধানী আঙ্কারার বিভিন্ন শহরে।

সেই রাতের অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আঙ্কারায় অবস্থানরত ছাব্বির আহমেদ বলেন, রাত ৯টার পর থেকেই আঙ্কারার আকাশে যুদ্ধবিমান ঘোরাঘুরি করতে দেখি আমরা। তখনো আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। রাত ১০টা নাগাদ প্রত্যেকটি প্রধান সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয় বিদ্রোহীরা। আমার হলের পাশেই ছিল সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সদর দপ্তর। থেমে থেমেই গুলির শব্দ আসছিল সেই সব স্থাপনা থেকে। এ সময় আমরা অনেক আতঙ্কিত ছিলাম। আমাদের সঙ্গে আরও বিদেশিরা ছিলেন। তারাও অনেক আতঙ্কিত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বক্তব্যের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এ সময় সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।13695053_1750073875239193_1536234125_n
অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ডাকে রাস্তায় তাঁর সমর্থকেরা

কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইস্তাম্বুলে অবস্থানরত আবদুল্লাহ মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে বিগত দিনের সন্ত্রাসী হামলা ভেবেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তুর্কি বন্ধুদের কাছ থেকে সেনা অভ্যুত্থানের কথা জানতে পারি। সময় তখন দশটার কিছু বেশি। বিদ্রোহী সেনারা তুরস্কের ইউরোপ অংশ ইস্তাম্বুলের সংযোগ সেতু বন্ধ করে দেয়। তখনো থেকে থেকে আমরা গুলির শব্দ শুনছিলাম। এর কিছু পরেই ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দখলে নেয় এবং সকল ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করে। এ সময় আমাদের মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছিল। আমরা কেউই ঘরের বাইরে বের হতে পারিনি।

ইস্তাম্বুলের মূল স্থাপনাগুলো বিদ্রোহীদের হাতে থাকলেও তাণ্ডব বেশি চলে আঙ্কারায়। মূলত পার্লামেন্ট ভবনসহ সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আঙ্কারাতেই। আর বিদ্রোহীরা বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর টহল দিচ্ছিল সে সব এলাকা।

এ সব কাছ থেকে দেখা কানিজ ফাতিমা বলেন, আমাদের ঘর থেকে খুব স্পষ্ট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু রাত ১১টার কিছু পরে সাউন্ড গ্রেনেডে কেঁপে ওঠে আমাদের রুম। কাছেই ফেটে ছিল সেটি। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন বাঙালি ছিল। আমরা ভিত অবস্থায় জানালা দরজা বন্ধ করে দোয়া পড়ছিলাম। রাত দুইটা পর্যন্ত থেকে থেকে গুলি ও বোমার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এমন বিভীষিকাময় সময়ের অভিজ্ঞতা এই প্রথম আমাদের। তবে সর্বশেষ তথ্য মতে হতাহতের মধ্যে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক নেই।

এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তুরস্কে বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাঙালিদের সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আর যেকোনো লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো সমস্যায় হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে।
দূতাবাস হটলাইন: +৯০৫০৬৩৬৪৩১৭৩, +৯০৫৩১৬৮০১১৯০ ও +৯০৫৩০৭৬৩৫৯১১।

*লেখক তুরস্কের কোনিয়ায় সেলজুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখা লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত এর কোন দায়ভার সংবাদ সবসবসময় কতৃপক্ষ বহন করবেনা, লেখকের মতের সাথে সংবাদ সবসবসময় কতৃপক্ষের মতের মিল নাও থাকতে পারে…………

মতামত.........