666666এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি :
চরের জীবন মানেই ভিন্নতর এক জগত, যেখানে মূলধারার অনেক কিছুই মেলে না, এখানে বেঁচে থাকা মানে পদে পদে টিকে থাকার লড়াই, প্রতিটি মুহূর্ত কাটে কঠোর সংগ্রামে, এখানকার লড়াই বৈরী প্রকৃতির বিরুদ্ধে, প্রতিদিন লড়াই করেই এখানে থাকতে হয়, ঠিক এমনই চিত্র দেখা যায় মেঘনা বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিনে সাগর মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ উপজেলা মনপুরা, রাক্ষুসী মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে বিলিন হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা।

মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনের ফলে ক্রমশই ছোট হয়ে যাচ্ছে মনপুরা। ফলে প্রতিদিন ভিটে হারা হচ্ছে শত শত মানুষ। নদী ভাঙ্গনের কারনে সহায় সম্বল হারিয়ে ভিটে হারা এসব অসহায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছে নতুন জেগে উঠা চরসহ বেড়িবাঁধের ঢালে কিংবা রাস্তার পাশে। গত বিশ বছরে মেঘনার ক্রমশ ভাঙ্গনের ফলে পূর্বের ৩টি ও বর্তমানে ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার ঘরবাড়ী, ফসলী জমি, গাছ-পালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।555555555555

সরেজমিনে দেখা যায়, ১নং মনপুরা ইউনিয়নের মাঝ গ্রাম, কলাতলী, আন্দির পাড়, মনপুরা মৌজা ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সীতাকুন্ড ও ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামের অধিকাংশ নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। মনপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,আন্দিড় পাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছুয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আন্দির পাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান অনত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। ২নং হাজির হাট ইউনিয়নের সোনার চর, চরজ্ঞান, দাসের হাট গ্রামের অধিকাংশ মেঘনা ভাঙ্গনে নদীর গর্ভে বিলীন। এখানেও দাসের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কৃষ্ণপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাদ্যগুদাম, পোস্ট অফিস, মসজিদ, মন্দির সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলার প্রানকেন্দ্র হাজির হাট বাজার তীব্র ভাঙ্গনের ফলে কয়েকবার স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা সদরকে রক্ষা করার জন্য বর্তমান সরকারের তত্ববধানে ব্লক ড্যাম্পিং এর কাজ চলছে।

বাজার থেকে নদীর দুরত্ব ২/৩শত মিটার। নদী থেকে কয়েক শত মিটার দুরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন বিভাগের কার্যালয়, হাজির হাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মনপুরা থানা এবং হাজির হাট বাজার। এছাড়া ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাষ্টার হাট সংলগ্ন পশ্চিম পাশের মেঘনা তীব্র ভাঙ্গনের ফলে ক্রমশই ছোট হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, উত্তর সাকুচিয়া মাধ্যামিক বিদ্যালয়সহ বহু গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা যে কোন মুহুর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ৪নং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম অধিকাংশ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনে সাকুচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন পুর্ব পাশ থেকে ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে।

উক্ত এলাকার অসহায় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে বেড়ির ঢালে, রাস্তার পাশে। অনেকে মনপুরার চারপাশে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বিভিন্ন চরে, কিংবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

তীব্র ভাঙ্গনের কবলে মেঘনা বেষ্টিত দ্বীপ ভোলার মনপুরা

মতামত.........