,

ঢাকা টেস্টে আশা-নিরাশার দোলাচলে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, সংবাদ সবসময়:

ঢাকা টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষ হয়েছিল স্বস্তি নিয়ে। কিন্তু তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দল উল্টো অস্বস্তিতে। জিততে হলে আরও ৮ উইকেট চাই, অথচ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক খেলছেন আস্থার সঙ্গে। অতিথিদের জয়ের লক্ষ্য ছোট হয়ে আসছে ক্রমশ। হার-জিতের মাঝখানে এ এক অদ্ভূত দোলাচল!

শুধু প্রথম দুই দিন নয়, মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও ছিল টাইগারদের দখলে। তবে দ্বিতীয় সেশনে ম্যাচের মোড় ঘুড়ে যায়। তিন উইকেটে ১৩৩ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টায় দুই উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩৫ রান। কিন্তু পরের ঘণ্টায় অবস্থা হয় ভয়াবহ। তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়া স্বাগতিক দল পরিণত হয় ৮ উইকেটে ১৮৬ রানে। নবম উইকেটে মিরাজ আর শফিউল ২৮ রানের জুটি না গড়লে সংগ্রহটা ২২১ পর্যন্ত যেত না। আর তাহলে ২৬৫ নয়, অস্ট্রেলিয়ার জয়ের লক্ষ্য দাঁড়াত আরও কম।

৫০তম টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করে থামলেও সবার আশা ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে নিরাশ করবেন না তামিম ইকবাল। কিন্তু ৭৮ রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে। তামিমের কিছুক্ষণ পর ফিরে যান সাকিব আল হাসানও। প্রথম ইনিংসে দারুণ খেলা সাকিব আউট হয়েছেন দায়িত্বহীন শটে, মাত্র ৫ রান করে।

দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে হারানোর জোড়া ধাক্কা সামলাতে মুশফিকুর রহিমের দিকে তাকিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু অধিনায়ক বিদায় নিলেন দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে। সাব্বির রহমানের জোরালো ড্রাইভ বোলার নাথান লিওনের হাত ছুঁয়ে ভেঙে দিয়েছে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা মুশফিককে অসহায়ের মতো দেখতে হয়েছে নিজের ‘মৃত্যু’।

অধিনায়কের বিদায়ের সময় রান ছিল ১৮৬। ওই রানেই বিদায় নিয়েছেন সাব্বির ও নাসির হোসেন। স্কোরবোর্ডের চেহারা তাই ১৮৬/৫ থেকে নিমেষেই হয়ে যায় ১৮৬/৮। দ্বিতীয় সেশনে পাঁচ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের বিদায়—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে!

দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দারুণ সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের। সাকিব আর মিরাজের ঘূর্ণি ২৮ রানে তুলে নিয়েছিল ম্যাট রেনশ ও উসমান খাজার মূল্যবান উইকেট। কিন্তু স্টিভেন স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নার যেন দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের সামনে। মুশফিক অনেক চেষ্টা করেও অতিথি অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের জুটি ভাঙতে পারেননি। ৮১ রানের জুটিটা রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে টাইগারদের।

তবে আশা শেষ হয়ে যায়নি এখনও। বাংলাদেশের জন্য প্রেরণা হতে পারে গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট। ২৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বিনা উইকেট ১০০ রান করে ফেলেছিল ইংলিশরা। এরপর মিরাজের ৬ আর সাকিবের ৪ উইকেট শিকার টাইগারদের এনে দিয়েছিল ১০৮ রানের জয়। একই মাঠে আরেকটি অবিস্মরণীয় জয় এনে দিতে পারবেন সাকিব-মিরাজ?

মতামত.........