কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও-

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের ভোপলা গ্রামে আবাদি কৃষি জমি নষ্ট করে তৈরী হয়েছে নতুন একটি ইটভাটা। ইট উৎপাদনে ইতিমধ্যে সকল প্রকার কার্যক্রম শেষ করেছেন ভাটা ব্যবসায়ীরা।

আরো অবৈধভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন অনেক ইটভাটা। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরব ভুমিকা পালন করা হচ্ছে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষি জমির উপড় যেন ইটভাটা তৈরি করতে না পারে এ বিষয়ে দ্রুত জেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান নেয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও সদরসহ ৫টি উপজেলায় প্রায় ৭০টি ইটভাটা ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে। আগামী মৌসুমের জন্য আরো গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। আর গড়ে উঠা পুরাতন ইটভাটাগুলোর বেশিরভাগই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। তবু প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ইট তৈরি করে যাচ্ছে ভাটা মালিকরা। এর উপর আবার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জেলায় নতুন করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। অবৈধভাবে কৃষি জমিতে যেনো ইটভাটা তৈরি করতে না পারে সেকারনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন উপজেলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে অভিযোগ করেন। কৃষি জমির উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

আর এ রকম অবৈধ ইট ভাটা তৈরী করতে গিয়ে দখল করা হয়েছে প্রায় হাজার হাজার একর আবাদী কৃষি জমি এছাড়াও নষ্ট হচ্ছে ভাটার চারপাশে বেশ কিছু বাড়ি ঘর। অল্প কিছু দিনের মধ্যে ভাটা গুলো চালু হলে আশপাশের পরিবেশের উপর মারাত্বক খারাপ প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভুগী এলাকাবাসী। তাদের মতে ভাটা চালু হলে আশেপাশের হাজার হাজার একক ফসলি জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তারা অবিলম্বে এই ইট ভাটা গুলি বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রসাশনের কাছে।

বুধবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের ভোপলা গ্রামে একটি ইট ভাটাটিতে ইট তৈরীর কাজ চলছে দেধারছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে এই ভাটার ইট পোড়ানো কাজ। আর ভাটার সামনে বিশাল খড়ির স্তুপ দেখে বোঝায় যায় পরিবেশের উপর কি পরিমান ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে।

ভোপলা গ্রামের ইউসুফ আলী জানান, আমাদের প্রধান পেশাই হলো কৃষি। আর এভাবে ইট ভাটাটি শুরু হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। ইট ভাটার কারনে আমাদের ফসলি জমিগুলোতে আর ধান হবে না। একই গ্রামের রবিউল জানান, ইট ভাটার জন্য প্রায় ৪ একর জমি ইতিমধ্যে ভাটা নষ্ট করেছে। আমরা চাইনা এমন ক্ষতিকারক একটি ইটভাটা আমাদের এখানে কার্যক্রম চালাক। আমরা চাই ফসলি জমি নষ্ট না করে এ রকম ইট ভাটা গুলো প্রসাশন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে বন্ধ করুক। না হলে আমরা মানববন্ধনসহ বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

এ ব্যাপারে বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বণি আমিন জানান, ভাটাটির ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কতৃপক্ষ আমার কাছে এসেছিল। আমরা আপাতত ভাটাটির ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছি। যে কাউকে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া আমাদের দায়িত্ব তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর। পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে সেটা জেলা প্রশাসন দেখবে।

ওই ওয়ার্ডের মেম্বার দুলাল হোসেন জানান, আমরা ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষকে ভাটা না করতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা তা এ বিষয়ে কোন কর্ণপাত করেনি।

ইট ভাটার মালিক মানিক হোসেন জানান, আমরা ভাটার অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছি। আজকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে সকল প্রকার কাজ শেষ করে ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করবো। বিনা অনুমোদনে এমন ইটভাটার ফলে হাজার হাজার একর আবাদি কৃষি জমি ও বাড়িঘর নষ্ট হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক জানান, জেলায় সবাই আমাদের মতই করে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। তাদের বেশিরভাগেরই কোন অনুমোদন নাই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি এই জেলায় আসা পর্যন্ত দুটি ইট ভাটার অনুমোদন দিয়েছি যার মধ্যে একটির মালিক বাবলু অন্যটি পীরগঞ্জের এক ব্যক্তির।

তিনি আরো বলেন যারা নতুন নতুন ইট ভাটা তৈরী করছে আর বলছে প্রসাশনের অনুমতি নিয়েছি নিছক এটি একটি মিথ্যা কথা। তবে আমরা খুব শিঘ্রই ইট ভাটার মালিক সমিতিকে ডাকবো এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়াসহ এ ধরনের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালাবো ও আইনগত ব্যবস্থা নিব। আইন-কানুনের বাহিরে কোন কর্মকান্ড মেনে নেয়া হবে না।

দেখার কেউ নেই, ঠাকুরগাঁওয়ে হাজার হাজার কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা

মতামত.........