,

টানা বর্ষনে প্লাবিত গাইবান্ধার শতাধিক গ্রাম, চরম বিপাকে লোকজন

gaibandha bonna pic  (1)গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

টানা বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-কাটাখালী ও বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সব গুলো নদীর পানি এখন বিপদ সীমা ছুই ছুই করছে । পানি বন্ধি হয়ে পরায় এ সব এলাকার মানুষরা মানবেতর জীবর যাপন করছেন । কেউ কেউ উচ স্থানে বাধে আশ্রায় নিয়েছে আবার অনেই গরূ ছাগল নিয়ে পরেছে চরম বিপাকে ।

প্লাবিত এলাকাগুলো হল যমুনা নদী বেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ঘুড়দহ, জুমারবাড়ী ইউনিয়নের মদনের পাড়া, গারা মারা, পাতিলবাড়ী, দিঘলকান্দি, গুয়াবাড়ী, কালুরপাড়া,আমদির পাড়া, কঠুয়া,গোবিন্ধপর, জটিরপাড়া, থৈকরের পাড়া, জুমারবাড়ী, চিনিরপটল, পালপাড়া, চকপাড়া, পবনতাইর, কুন্ডপাড়া, চানপাড়া,গোবিন্ধি, বাশহাটা, মিয়া পাড়াসহ প্রায় ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে ।

তিস্তা নদী বেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিন শ্রীপুর, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া, হরিপুর ইউনিয়নের হাজারির হাট, চড়িতাবাড়ি, বোছাগাড়ি, হরিপুর খেয়াঘাট ও বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর, বেলকা নবাবগঞ্জ সহ কাপাসিয়া, চন্ডিপুর, তারাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩২টি গ্রাম।gaibandha bonna pic  (2)

ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কাউয়াবাঁধা, পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, চন্দনস্বর, পশ্চিম খাটিয়ামারী, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের তিনথোপা, পাগলার চর, বুলবুলি, দক্ষিণ হরিচন্ডি, উত্তর হরিচন্ডি, ঘাটুয়া, দক্ষিন সন্যাসী, আনন্দবাড়ী, পশ্চিম ডাকাতির চর, আলগার চর, পশ্চিম জিগাবাড়ী, ধলি পাটাধোয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া, কাতলামারী, গলনা, জিয়াডাঙ্গা, ভাজনডাঙ্গা, উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা, কাবিলপুর. রতনপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি, পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম ।

এছাড়াও গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালী ও বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত মহিমাগঞ্জ, রাখাল বুরুজ, রামচন্দ্রপুর, তালুককানুপুর ইউনিয়নের বেশ কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।gaibandha bonna pic  (4)

বন্যায় প্লাবিত হয়ে এসব গ্রামের ফসলি জমি পাট ক্ষেত, সদ্য রোপনকৃত বীজতলা, খদ্য শস্যাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে । শিশুরা লেখা পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কারন রাস্তা ঘাট তলে যাওয়ায় লেখাপড়ার বিঘœ ঘটছে ।

পানিবন্দী এলাকার লোকজন জানান, বন্যায় হাটু ও কোমর পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাচা করে থাকতে হচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও মলমুত্র ত্যাগের সমস্যায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, বন্যা হলেও জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে বিপদ সীমা ছুই ছুই করছে । যে কোন মুহুর্তে বিপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে আবার পানি কমতেও পারে ।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান, গাইবান্ধা জেলার তিনটি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বড় বড় তিনটি নদী তিস্তা যমুনা ও ব্রক্ষ্রপুত্র । উজান থেকে নেমে আশা ঢলে ্ও টানা বর্ষনে সৃষ্ট এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নামের ইতোমধ্যে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে । তালিকা সংগ্রহ করা শেষ হলেই ত্রান পৌছে দেযা হবে ।

মতামত.........