Narail-02 (01.07.16)সৈয়দ খায়রুল আলম, নড়াইল প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের কাস্টসাগর রাধামদন গোপাল মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস হত্যার ঘটনায় তাঁর গ্রামের বাড়ি নড়াইলের মুশুড়ী গ্রামে চলছে শোকের মাতম। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামজুড়ে শোকের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। হত্যাকান্ডের খবর শুনে আশেপাশের এলাকার আত্মীয় স্বজনরা বাড়িতে ছুটে এসেছেন। প্রতিবেশিরাও সমবেদনা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। অসুস্থ্য বৃদ্ধ মা চারুবালা সরকার নির্বাক হয়ে বসে আছেন। শ্যামানন্দের বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে,নিহত শ্যামানন্দ দাস মুশুরি গ্রামের কিরন সরকারের ছোট ছেলে। বাবা মায়ের দেয়া নাম প্রদ্যোৎ সরকার। দুই বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট প্রদ্যোৎ সরকার বাল্যাকালে ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরপর বিভিন্ন স্থানে সেবায়েতের দায়িত্ব পালন শেষে তিন বছর আগে ঝিনাইদহের কাস্টসাগর রাধামদন গোপাল মঠের দায়িত্ব পালন করেন। অবিবাহিত শ্যামানন্দ দাস মন্দিরের সেবার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন। সময় পেলে মাঝে মধ্যে তিনি বাড়িতে আসতেন। বাড়িতে এসে পরবারের সদস্যদের এবং হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে ধর্মীয় বিষয়য়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন।
নিহতের ভাবী তৃষ্ণা সরকার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফোনে সর্বশেষ কথা হয়েছে। তিনমাস আগে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। তার ভাইয়ের ছেলে বিদেশ থেকে বাড়িতে এসেছে। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য শুক্রবার সকালে শ্যামানন্দের গ্রামের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু জীবিত আর ফেরা হলো না। ভোরে মোবাইলের মাধ্যমে মৃত্যুও খবর পেয়েছি।
নিহতের ভাই বড় ভাই বিশ্বনাথ সরকার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্মযাজকদের হত্যা করা হচ্ছে। পূর্বে সংঘটিত হত্যাকান্ডের বিচার হলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না। এসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে’’। তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন ।

ঝিনাইদহে নিহত সেবায়েত শ্যামানন্দের বাড়ি নড়াইলের মুশুড়ী গ্রামে শোকের মাতম

মতামত.........