বান্দরবানের মেঘলা এলাকায় সওজ বিভাগের পুরাতন সড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত শতাধিক ঘরের একাংশ দেখা যাচ্ছে।
বান্দরবানের মেঘলা এলাকায় সওজ বিভাগের পুরাতন সড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত শতাধিক ঘরের একাংশ দেখা যাচ্ছে।

ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরী আরাফাত, বান্দরবান প্রতিনিধি:

অবশেষে পর্যটন কেন্দ্র মেঘলা এলাকায় অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত দোকানপাটসহ স্থাপনাসমুহ উচ্ছেদের নোাটিশ প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। নিজখরচে স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দেয়া ৩দিনের নোটিশের মেয়াদও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবুও অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাসমুহ দিব্যি রয়েই গেছে। এখনও গ্রহণ করা হয়নি আইনগত ব্যবস্থা।
জেলা সওজ বিভাগ তাদের পুরানো সড়কের ওপর ও জায়গায় নির্মিত শতাধিক ঘর-বাড়িসহ স্থাপনা উচ্ছেদে কোন নোটিশ এখনও প্রদান করেনি। কিন্তু লাল মার্কা দিয়ে তালিকা প্রণয়ন করেছে অবৈধ দখলদারদের। জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগের জায়গার ওপর স্থানপা নির্মাণ বিষয়ে অবৈধ দখলদার সম্পর্কে কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সম্প্রতি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর পরই জেলা প্রশাসনের টনক নড়ে,দেয়া হয় উচ্ছেদ নোটিশও। জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এ নোটিশ ইস্যু করেন।

অবশ্য দুই মাস আগে একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি অনুমতিপত্রে মেঘলা এলাকায় দোকানপাট নির্মিাণের জন্য ১৫দিন সময় বেঁধে দিয়ে ২৬জনের নামে চিঠি প্রদান করা হয়েছিল। ওই সময় এলাকায় সৃষ্টি হয় জনঅসন্তোষ এবং নানান প্রশ্ন। অমুমতি প্রাপ্তদের অনেকেই ইতিমধ্যে পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করে গাছপালা কেটে সেখানে দোকানপাট গড়ে তুলেছে। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর টনক নড়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের উচ্চ মহলের। ফলে গত ১৭ জুলাই উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করে জেলা প্রশাসন পুর্বে দোকান নির্মাণের অনুমতি প্রাপ্তদের কাছে। নিজ খরচেই নির্মিত দোকান উচ্ছেদ করে ফেলার শেষ তারিখ ছিল গত ২০ জুলাই। এ ঘটনায় প্রশাসনের বাণিজ্যিক চেতনা এবং হয়রানিমুলক আচরণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মেঘলা এলাকার হাসিনা বেগম ও মহিউদ্দিনসহ ১০/১২জন বাসিন্দা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার ওপর মেঘলা এলাকার পুরাতন সওজ বিভাগের বিশাল সড়কপথ জুড়েই দুইপাশে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে শতাধিক অবৈধ ঘর-বাড়ি ও দোকানপাট। এসব স্থাপনা বেচা-বিক্রিও হচ্ছে। এসব স্থাপনার বেড়ায় ইংরেজি হরফে ‘আরএইচডি’ লিখেই দায় সেরেছে সওজ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা।
জেলা সওজ বিভাগে কর্মরর্ত মীর্জা নামের এক কর্মকর্তা মেঘলা-রেইচা পর্যন্ত পুরাতন এ সড়কের দুইপাশে স্থাপনা নির্মাণের জন্যে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। ওই কর্মকর্তা কেরানিহাট এলাকায় আরও শতাধিক দোকানপাট নির্মাণের কথিত অনুমতি প্রদান করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে সওজ কর্মকর্তা মীর্জা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খুব শিঘ্রই মেঘলা এলাকায় সওজ বিভাগের পুরাতন সড়ক দখল করে নির্মিত শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তবে উচ্ছেদকরণ বিষয়ে সওজ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুমকিতে দখলদাররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলেও এলাকা পরিদর্শনকালে জানা গেছে।
অপরদিকে ওই এলাকার কিছু লোক প্রশাসন, সুজ বিভাগ ও সাংবাদিকদের কথিত ম্যানেজ করার নামে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে অর্থ আদা য়কের তহবিল তৈরিতে লিপ্ত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযাগ উঠেছে। এ বিষয়টি সাংবাদিক নেতারা জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের নিকট অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া সত্বেও, বান্দরবান মেঘলা পর্যটন এলাকা বেদখল !

মতামত.........