,

জীবনের শেষ চিঠির গল্প, আবু বকর সিদ্দিক

13578554_267305193635589_1801324819_nজীবনের শেষ চিঠির গল্প…………………………..
 
সৈকত তার গ্রামের হাইস্কুলে লেখা পড়া করত, ছাত্র হিসাবে খুবই ভাল ছিল, হঠাৎ একদিন বর্ষাকালে মামার বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছিল মায়ের সাথে, সৈকতের এক মামাত ভাই ছিল তারই সম বয়েসী, সে ও হাইস্কুলে লেখা পড়ার করে, সৈকতকে একদিন সকাল বেলা তার মামাত ভাই বলব চল আজ আমাদের হাইস্কুলে। মামাত ভাইয়ের সাথে স্কুলে চলে গেল সৈকত, স্কুলের লেখা পড়ার পরিবেশ দেখে সৈকতের কাছে খুবই ভাল লেগেছে,, স্কুল ছুটির পরে সৈকত এবং তার মামাত ভাই বাড়ীতে চলে আসল, রাতে খাওয়া দাওয়ার পরে সবাই গল্পের আডডা বসল, এমন সময় সৈকত তার মাকে বলে উঠল মা এখানকার হাইস্কুলের লেখা পড়ার পরিবেশ খুবই ভাল, সৈকতের মা বললেন আমি ও ঐহাইস্কুল থেকে লেখা পড়া করেছি এখন ও আমার অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ঐ স্কুলে লেখা পড়া করান, তোর কি ইচ্ছে ঐ স্কুলে লেখা পড়া করতে? সৈকত বলল আমি এই স্কুলে লেখা পড়া করতে চাই, সৈকত তখন ক্লাস এইটের ছাত্র, পরদিন সকাল বেলা সৈকতের মা, এবং তার মামাতু ভাই সহ স্কুলে চলে গেলেন, সৈকত ঐ স্কুলে ভর্তি হয়ে গেল, সৈকত মনোযোগ দিয়ে ভাল ভাবে লেখা পড়া শুরু করল, ক্লাস এইটের ফাইনাল পরীক্ষায় এক নাম্বারে পাশ করল, সৈকতের লেখা পড়ার মনোযোগ দেখে স্কুলের শিক্ষকগন খুবই আনন্দিত।
 
আর এ দিকে সৈকতের এক ক্লাসমেট ছাত্রী ছিল মোহনা, সে সৈকতকে মনে, মনে ভালবাসে মোহনা সবার আগে স্কুলে আসত, আর অপেক্ষা করত কখন সৈকত স্কুলে আসবে……………
 
একদিন মোহনা এবং সৈকত একি সাথে স্কুলে যাচ্ছে, কথা বলতে বলতে মোহনা বলল, সৈকত আমি তোমাকে ভালোবাসি,, সৈকত ও বলল মোহনা আমি ও তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু বলতে সাহস পাই নি, শুরু হলো তাদের ভালোবাসার জীবন,, দুজনই এসএসসি পাশ করল,,
 
দুজন আবার একই কলেজে ভর্তি হল, তাদের কলেজের নতুন জীবন শুরু হল, তাদের ভালোবাসর গভীরতা কেউ বুঝতে পারে নি,, সৈকত আই এস সি পাশ করল, দুর্ভাগ্য মোহনা পাশ করতে পারেনি। সৈকত বি এস সি তে ভর্তি হয়ে গেল, মোহনা দুই বৎসরের পিছনে পরে গেল।
 
একদিন মোহনা সৈকতকে বলব, কলেজ ছুটির পরে আমার জন্য অপেক্ষা করো,, জরুরী আলাপ আছে, কলেজ ছুটির পরে ঠিকই মোহনার জন্য সৈকত অপেক্ষা করতে লাগল কলেজ প্রাঙ্গনে, ছুটির পরে সৈকতের কাছে আসল,, কলেজের কাছে একটি চায়ের ক্যানটিন ছিল, মোহনা বলল ক্যানটিনে চল,, দুজন চলে গেল ক্যানটিনে। সৈকত দুটি চায়ের অর্ডার দিল,, চা পান করতে, করতে মোহনা বলল সৈকত আমার মনে হয় আর আমার লেখা পড়া হবে না, কারন বিয়ের জন্য আমাকে বাধ্য করা হচ্ছে, আগামী শুত্রুবার ছেলে পক্ষ আমাকে দেখতে আসবে,, সৈকত একটা কিছু কর, নয়তো আমাকে সারা জীবনের জন্য হারিয়ে ফেলবে, মোহনার মুখ থেকে কথা শুনার সাথে,সাথে সৈকতের মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পরল।
 
কিছুক্ষণ কথা বলার পর, সৈকত বলল আমি আজই বাড়ী যাচ্ছি মাকে সবকিছু খোলে বলব, তুমি বাড়ীতে যাও চিন্তা করিয় না,, আমি বেচে থাকতে এই পৃথিবীতে কারো সাথে তোমার বিয়ে হতে পারে না। সৈকত রাতে বাড়ীতে গিয়ে মাকে সবকিছু খোলে বলল, কিন্তু সৈকত কোনো ভাবেই তার মাকে রাজি করাতে পারেনি,, সৈকতের মায়ের ইচ্ছে হল, সৈকতের এক খালাত বোন লন্ডনে থাকে, সৈকত ঐ মেয়েকে বিয়ে করবে, তাই মাকে কোনো ভাবেই রাজি করাতে পারলনা সে, পরদিন সৈকত কলেজে এসে মোহনার সাথে দেখা করে সব কিছু বলল শুনে মোহনার মন ভারি হয়ে গেল, মোহনা বলব তাহলে সৈকত তুমি আমাকে বিয়ে করবেনা?
 
সৈকত বলল মোহনা তুমি যদি রাজি হও আমি এই মুহুর্তে তোমাকে নিয়ে কাজী অফিসে বিয়ে করব মোহনা রাজি হয়ে গেল, দুজন মিলে কাজী অফিসে বিয়ে করল,,, সৈকত একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের সংসার শুরু করল, কিছু দিনের ভিতরে বিষয়টি সৈকত এবং মোহনার পরিবারের মধ্যে জানা জানি হয়ে গেল উভয় পক্ষই তাদের বিয়ে মেনে নিল, সৈকত মোহনাকে নিয়ে তাদের বাড়ীতে আসল………….
 
সৈকত বেকার তাই, মনে মনে ভাবছে কি করবে সে এখন? বিয়ের এক বছর পর সে বিয়ের কথা গোপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করল,। তখন তার স্ত্রী মোহনা তিন মাসের অন্তসত্বা,। আর এদিকে সৈকত দুমাসে ট্রেনিংয়ে চলে গেছে ।
 
একদিন রাতে হঠাৎ করে সৈকতের কাছে ফোন আসে তার স্ত্রী রক্তকরণ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাজ্ঞা লড়ছে, সৈকত ফোন পেয়ে উধর্বতন অফিসারের কাছে সবকিছু বলল,কিন্তু তার ছুটি মজ্ঞুর হল না,, সৈকত কোনো উপায় না পেয়ে চাকুরী রিজাইন লেটার দিয়ে সরকারী যা তার কাছে ছিল সব কিছু হস্তান্তর করে চলে আসল। কিন্তু দুঃখের বিষয় মোহনার সাথে আর সৈকতের শেষ কথা হল না। সৈকত আসার আগেই মোহনা চলে গেল না ফেরার দেশে।
 
মোহনার মৃত্যুর আগে সৈকতের কাছে একটি শেষ চিঠি লিখেছিল মোহনার মৃত্যুর পরে সৈকত পাগল হয়েছিল,, কিছুদিন পরে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে,। তখন সৈকত পাড়ি জমায় সাত সমুদ্র তের নদীর উপারে,, আজ ও সৈকত ভুলতে পারেনি তার জীবনের মোহনাকে,, সৈকতের জীবনে আর কোনো দিন সে নতুন করে নতুন কোনা মোহনার আবির্ভাব ঘটাতে চায় না তার হৃদয়ে। আজ ও প্রবাসের প্রতিটি নিরব রাতে মোহনার জীবনের শেষ চিঠি পড়ে আর সৈকতের দুচোখ দিয়ে বন্যা ছাড়াই পানি বয়ে যায়….

মতামত.........