,

জঙ্গিবাদ রোধে উদ্যোগ, চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট যাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে * ডিজিটাল তদারকির জন্য চালু ইএমএস সিস্টেম।

BG-2-EMS-service-opening20160718165033আবদুল আউয়াল জনি, সংবাদ সবসময় :

চট্টগ্রামের সুনির্দিষ্ট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরী ও জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ১৪টি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে নজরদারির জন্য। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে রিপোর্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানোরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে- যা আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন চালু করেছে ইএমএস (অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)। জেলা প্রশাসন অফিসে বসেই সিস্টেমের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

hsc
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জঙ্গি তৎপরতা কিংবা বিপথগামিতা আছে কিনা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা- যেমন জাতীয় সঙ্গীত সঠিকভাবে পরিবেশন হয় কিনা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় কিনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গিবাদে কেউ জড়িত আছে কিনা এবং কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নিখোঁজ আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা। চট্টগ্রাম জেলায় কলেজ রয়েছে ৫০টি, মাদ্রাসা ১১৩টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩০টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৯২টি ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কিন্ডারগার্টেন ও এতিমখানা) রয়েছে ৪২টি। এর বাইরেও রয়েছে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 160719031212_bangladesh_school_640x360_bbc_nocredit

জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ঢাকার গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাই জড়িত- এমন তথ্য বের হয়ে আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, জেলা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এবং জেলার প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মাধ্যমে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবে। একই সঙ্গে পরিদর্শন করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যে চিত্র পাওয়া যাবে তা হুবহু জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। সোমবার এ সংক্রান্ত চিঠি চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি-বেরসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও পরিদর্শন শুরু করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি করতে অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) নামের বিশেষ একটি সিস্টেম চালু করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্থানের সুনির্দিষ্ট সময়ও জানা যাবে। তাছাড়া সন্তান ঠিকমতো বা সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে গেল কিনা তা জানতে পারবেন অভিভাবকরা। ইএমএসের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থাপনা, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আলাদা তালিকা, শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ প্রগ্রেস রিপোর্ট তৈরির ব্যবস্থা, ফলাফল তৈরি ও প্রকাশের ব্যবস্থা, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় হাজিরা এসএমএস সিস্টেম, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যাবতীয় তথ্য যেমন হাজিরা, ফলাফল, বাড়ির কাজ, বকেয়া ইত্যাদিসহ স্টুডেন্ট পোর্টাল এবং শিক্ষক পোর্টালসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রায় সব মডিউল থাকবে। প্রাথমিকভাবে নগরীর ৯টি সরকারি স্কুলকে এই সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিুবুর রহমান সংবাদ সবসময়কে বলেন, সব উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি শুরু করেছেন। শিগগির পরিদর্শন রিপোর্ট প্রদান করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ব্যবহার করবে ইএমএস : অনলাইনে এ তদারকি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কেবল একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস স্থাপন করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। যাতে ডিজিটাল আইডি কার্ড ও আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) দেয়ার উভয় সিস্টেমই চালু থাকবে। এর মধ্যে যেকোনো একটি পদ্ধতিতে (আইডি কার্ড অথবা আঙ্গুলের ছাপ) বায়োমেট্রিক ডিভাইসে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। আর এর যেকোনো একটি পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক ডিভাইসে উপস্থিতি বা প্রস্থান নিশ্চিত করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব তথ্য অনলাইনে সন্নিবেশ হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বা কোনো ব্যক্তিকেই অনলাইনে কোনো ধরনের তথ্য ইনপুট দেয়ার (আপলোড করার) প্রয়োজন পড়বে না- যা সিস্টেমটির সবচেয়ে বড় সুবিধা বলে মনে করেন এটি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মতামত.........