,

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল ও হত্যাকান্ডে বিব্রত আওয়ামীলীগ

সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটে ধারাবাহিকভাবে খুনাখুনিতে মত্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গত সাত বছরে ছাত্রলীগের আট কর্মী খুন হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত সোমবার খুন হয়েছেন ছাত্রলীগকর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ। ছাত্রলীগের এই খুনোখুনিতে বিব্রত তাদের অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগ। এদিকে, গত বুধবার দিবাগত রাতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
আওয়ামীলীগ দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সামনে দুটি বড় নির্বাচন রয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং বছরের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচন দুটির আগে ছাত্রলীগের এই খুনাখুনির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণার তৈরী করবে। এতে নির্বাচনী রাজনীতিতে সিলেটে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আওয়ামী লীগ।
সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ছাত্রলীগ নিজেরাই নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত হচ্ছে।কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধকেও সংগঠনের ওপর চাপানো হচ্ছে। গণমাধ্যমে এসব অপকর্মের ঘটনা প্রকাশ হওয়ায় অভিভাবক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের এসব কর্মকান্ড-সার্বিকভাবে রাজনীতির ওপর, দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। তবে অনেক খুনের সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পর্ক নেই। পেছনে খুঁজলে দেখা যায়, ব্যক্তিগত বিরোধে খুন হয়। কিন্তু সেগুলোতে রাজনৈতিক রঙ মাখানো হয়।’
ছাত্রলীগের এসব কর্মকান্ড ‘শক্তভাবে দেখা উচিত’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সামনে দুটি বড় নির্বাচন রয়েছে। তার আগে এসব কর্মকান্ড-অবশ্যই নেতিবাচক। এসবের পেছনে কোন নেতার ইন্ধন থাকলে জনগণ অবশ্যই বিচার করবে।’
জানা যায়, গেল সোমবার ওমর হত্যাকান্ডের আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নগরীর শিবগঞ্জে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রলীগকর্মী জাকারিয়া মো. মাসুম। গত ১৭ জুলাই সিলেটের বিয়ানীবাজার কলেজে দলীয় কর্মীদের গুলিতে খুন হন ছাত্রলীগকর্মী খালেদ আহমদ লিটু। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি গ্রুপিং রাজনীতির বলি হন ছাত্রলীগকর্মী হাবিবুর রহমান। ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট মদন মোহন কলেজে দলীয় ক্যাডারদের ছুরিকাঘাতে খুন ছাত্রলীগকর্মী আব্দুল আলী। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই নগরীর কালীবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ড দখল নিয়ে খুন স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী আব্দুল্লাহ। ওই বছরের ২০ নভেম্বর শাবিতে হল দখলকে কেন্দ্র করে খুন ছাত্রলীগকর্মী সুমন চন্দ্র দাস। ২০১০ সালের ১২ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে খুন উদয়েন্দু সিংহ পলাশ।
এছাড়া ২০১৬ সালের মে দিবসে নগরীর শামীমাবাদে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় নিহত হন শ্রমিক ইসলাম হোসেন। ওই বছরের ১০ জুলাই পাঠানটুলা এলাকায় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলায় খুন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল্লাহ অন্তর। এছাড়া গেল বছরের আগস্টে জিন্দাবাজারে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে খুন করেন তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুলেমান।

মতামত.........