,

চীরনিদ্রায় শায়িত হলেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ইউপি চেয়ারম্যান তরাজুল

13823457_1074052159354711_1263704470_nগোলাম রব্বানী শিপন, (বগুড়া) মহাস্থান প্রতিনিধি:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারাজুল ইসলাম দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে এক টানা ১৬দিন লড়াই করে শনিবার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য গত ৯ জুলাই ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাত বন্দুকধারী দুর্বৃত্তরা তার শয়ন কক্ষের জানালায় গিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার জন্য ডাকাডাকি করে। এসময় চেয়ারম্যানের স্ত্রী জানালা খুলে দিলে দুর্বৃত্তরা চেয়ারম্যান তারাজুলের সঙ্গে কথা বলতে চায়। ডাকার শব্দ শুনে চেয়ারম্যান বিছানা থেকে মাথা উচু করার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুঁড়লে তারাজুল ইসলাম মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ খাজা এনায়েত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেও অবস্থার সুফল না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা অপারেশন করে তার মস্তিষ্ক থেকে গুলি বের করতে ব্যর্থ হলে, এরপর সেখান থেকে লাইফ সাপোর্টে তাকে অাবারোও বগুড়ায় আনা হয়। পরে শহরের কানুচগাড়ী এলাকার তেসলা নিউরো সাইন্স নামের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল টিম তারাজুলের মাথায় সফল অস্ত্রপচার করে গুলি বের করেন। এরপর শনিবার রাত সোয়া ৯টায় অাকস্বিক গুলিবিদ্ধ চেয়ারম্যান তারাজুলের অবস্থা অবনতির দিকে যায়। সেই মুহূর্তে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যার্থ হলে চেয়ারম্যান তারাজুল ইসলাম শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিহত তারাজুলের ময়না তদন্ত শেষ হয়।

তার মৃত্যুর সংবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্ব শোকের ছায়া নেমে আসে। তারপর পূর্বঘোষিত সময় মতে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে সকাল ১১টায় তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরেসেখান থেকে গাবতলী উপজেলা পরিষদ চত্বর, পীরগাছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং নিজ গ্রাম আটবাড়িয়ায় পৃথক পৃথক জানাজার নামাজ শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পুন্ন করা হয়। অার এখানেই তিনি চীরনিদ্রায় সায়ীত হন। তার পিতার নাম মৃত জসমত উল্লাহ মোল্লাহ। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাপলা বেগম বাদী হয়ে গাবতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে অাটক করা হয়নি। গাবতলী মডেল থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, এঘটনায় এখন পর্যন্ত জাহাঙ্গীর এবং হেলাল নামের দুই ব্যক্তিকে অাটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মতামত.........