,

চিকিৎসকের অবহেলায় ভোলা সদর হাসপাতালে শিশু মৃত্যু

indexfghএস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি :
ভোলা সদর হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সঠিক চিকিৎসা না দেয়া, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার দাবী চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ভোলার বোরহানউদ্দিনের বাসিন্দা মোঃ হোসেনের ১ বছর ২ মাসের শিশু নাতি মোঃ জয়ন ডায়েরিয়া ও বমি জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২০ জুলাই সকালে ভোলা সদর হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আব্দুল কাদেরের পরামর্শে ভর্তি করান। তখন ডাক্তার নার্সদেরকে নির্দেশ দেন শিশু জয়নকে খাবার স্যালাইন খাওয়ানো এবং আইবি স্যালাইন পুস করতে। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর বিকেল ৪টার দিকে জয়ন আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তখন দিশেহারা হয়ে নানা হোসেন ডাক্তার খুজতে থাকেন। কিন্তু হাসপাতালের কোথাও ডাক্তার খুজে না পেয়ে নার্সদেরকে ডাক্তারের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে ডাক্তার নেই, ডাক্তার আগামীকাল সকাল ১০টায় আসবে।
তখন নার্সরা ডাবের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দিলে তিনি ৪/৫টি ডাবের পানি পান করান শিশু নাতি জয়নকে। এভাবে কোন রকমে রাত অতিবাহিত করেন তিনি। পরদিন ২১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে জয়নের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। তখনও নার্সরা ডাক্তার না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বলে, যেহেতু ডাক্তার নাই, সেহেতু আপনারা শিশুটিকে বরিশাল নিয়ে যান। এমতাবস্থায় উপায়ন্তর না দেখে তিনি (নানা হোসেন) শিশু নাতিকে দ্রুত বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে সকাল ১০টার দিকে ভর্তি করান।
এরপর সেখানকার ডাক্তাররা শিশু জয়নের বেশ কয়েকটি মেডিকেল টেষ্ট করতে দেন। মেডিকেল রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা বলেন, রোগীর শরীরে অতিরিক্ত স্যালাইন প্রবেশ করার কারণে রক্ত পানি হয়ে গেছে। এই রোগীকে এখন আর বাঁচানো সম্ভব হবে না। তার কিছুক্ষণ পরেই শিশু জয়নের মৃত্যু হয়। এভাবে শিশু জয়নের অকাল মৃত্যুর জন্য তিনি ভোলার ডাক্তার ও নার্সদের দায়িত্ব অবহেলা এবং সঠিক চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এজন্য তিনি ভোলা পৌর মেয়র, জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য ভোলা-২ এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবরে এ ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন।
উক্ত বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডাক্তার ফরিদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ঢাকায় রয়েছেন। ভোলায় এসে ফাইল না দেখে কিছুই বলা যাবে না এমন মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ডাক্তার কি রোগীকে বরিশালে রেফার করেছে, কি কারণে করেছে, নাকি রোগীরা নিজেই বরিশালে গেছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

মতামত.........