,

গ্রাম আদালতকে মানুষের আস্থার স্থল বানালেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক

আবদুল আউয়াল জনি, সংবাদ সবসময়ঃ

৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় ফৌজদারী কার্যবিধি এবং দেওয়ানী কার্যবিধির কতিপয় বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬/ (সংশোধন) আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়। উচ্চ আদালতের মামলার জট কমানোর লক্ষ্যে ইউএনডিপি, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গ্রাম আদালত পরিচালিত হয়, গ্রাম আদালতের রেজিস্টার, খাতা, কলম, পেশকারের বেতন সহ বহন করে ইউএনডিপি ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন।

আইন প্রণয়ন করা হলেও দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারেনি, কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে যথাযথ সম্পর্ক না থাকা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালত আইনের সঠিক প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা না থাকা, ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধিন এলাকায় চেয়ারম্যানের শক্তিশালী অবস্থান না থাকা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সদস্যবৃন্দকে যথাযথ ভাবে পরিচালিত করতে না পারা, বিচার প্রার্থীদের কাছথেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সদস্যবৃন্দের অনৈতিক সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টা, অথবা বিচারপ্রার্থী কোন একপক্ষের পক্ষ নিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে অন্যায় বিচারকার্য পরিচালনা সহ নানা বিষয় বের হয়ে আসে, তবে অনেক চেয়ারম্যান চেষ্টা করে চলেছেন গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।

৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালত, সাতকানিয়া চট্টগ্রাম

গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে খোজ নিতে গিয়ে ১২ই এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় পা রাখলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কম্পাউন্ডের সামনে, চোখে পড়ল পরিপাটি ভাবে সাজানো একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন যেন শিল্পির তুলিতে আকা, এই পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক, আঙ্গিনায় ঢুকে বিচার প্রার্থীদের কাছথেকে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করলাম চেয়ারম্যান ও তার গ্রাম আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা সম্পর্কে, বিচার প্রার্থীদের কথা শুনে চমকে গেলাম, তারা জানালেন ৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধিন এলাকার ফৌজদারী কার্যবিধি এবং দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিরোধ ও বিবাদের নিষ্পত্তির জন্য এওচিয়াবাসীকে এখন থানায় অথবা আদালতে যেতে হয়না কারণ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক অতি সহজে ও দ্রুততম সময়ে সকল বিরোধ-বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে মানুষের আস্থার স্থল হিসেবে পরিণত করেছেন।

গ্রাম আদালতের কক্ষে অপেক্ষমান বিচারপ্রার্থীরা

চেয়ারম্যান এর কক্ষের এককোনায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম উনার কর্মকান্ড স্বচক্ষে অবলোকন করার লক্ষ্যে, সকাল সাড়ে ১০টায় কক্ষে প্রবেশ করলেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক, কক্ষে প্রবেশের পর চৌকিদারের মাধ্যমে সচিব, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সদস্যবৃন্দকে ডাকলেন এবং তাদেরকে দেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিভিন্ন শালিশ এর নিষ্পত্তির বিষয়ে খোজ নিলেন, কোন সদস্যকে প্রকল্পের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ২/৪/৭ দিনের আল্টিমেটাম দিলেন।

এরপর গ্রাম আদালতের কক্ষে শুরু হল বিচারকার্য ৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেশকার একে একে বেশকয়েকটি বিরোধ ও বিবাদের বিচার প্রার্থীদের নাম ডাকলেন, চেয়ারম্যান মনযোগ সহকারে অভিযোগ শুনলেন সহজ কিছু বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যকে ১/২/৩ দিনের আল্টিমেটাম দিলেন এবং এরমধ্যেই সমাধান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, অপেক্ষাকৃত কঠিন ও প্রভাবশালী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারকার্যের দায়িত্ব কারো উপরে ন্যাস্ত না করে ২/৩ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারী করার আদেশ দিলেন শেষ হল গ্রাম আদালতের সেদিনের কার্যক্রম।

৬নং এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন চেয়ারম্যান

গ্রাম আদালতকে বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থার স্থল হিসেবে কিভাবে পরিণত করেছেন জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬/ (সংশোধন) আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে, এলাকার মানুষকে সেবা দেওয়ার মন-মানষিকতা ও সৎ সাহস থাকলে সবই সম্ভব, এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আমাকে সবচেয়ে বেশী সহযোগীতা করেছেন এবং নির্ভয়ে কাজ করার সাহস যুগিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী এমপি তাই আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থার স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

মতামত.........