নুর উদ্দিন মুরাদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চরপার্বতী ইউনিয়নে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়,উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন ও সরবরাহ করে এ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
এদের মধ্যে অন্যতম সদস্য ক্ষমতাসীন দলের চরপার্বতী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের নন্দু গাইনের বাড়ির ক্ষমতাধর আবুল হাসেম,চরপার্বতি ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য একরামুল হক মিলন, চর পার্বতি ১নং ওয়ার্ডের আবক আলী বাড়ির দুলাল ও আবদুর রহীম বাবুল।
ক্ষমতাধর আবুল হাসেম সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কোন গ্রাহক নাম পরিচয় উদ্ধৃতি করে, কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি,এই প্রতিবেদকের কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, একরামুল হক মিলন,আবদুর রহীম বাবুল ও দুলাল এর নেতৃত্বে হাসেমের নির্দেশে বৈধ গ্যাস সংযোগের নামে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
নাম উদ্ধৃতিতে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতাধর আবুল হাসেম ও সাবেক ইউপি সদস্য একরামুল হক মিলন।
এই সিন্ডিকেট বসুরহাট বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের বসুরহাট শাখার কর্মকর্তা মো.ইউছুপ ও হারুনের সহায়তায় প্রায় ২০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ভূয়া ডিমান্ড নোট এবং ব্যাংক স্লিপ দিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ্য টাকা আদায় করে। বসুরহাট বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের,বসুরহাট শাখার কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাতে, প্রশ্রয়ে,উৎসাহে তাদের অতি নিকটে এ অনিয়ম সংগঠিত হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহীম বাবুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা টাকা সংগ্রহ করে আবুল হাসেম’র কাছে দিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়।
এই ঘটনায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্টিবিউশনের ব্যবস্থাপক মো. আবু সাঈদ সরকার (বিক্রয়) এলাকা বিতরণ কার্যালয়, ফেনী, ৩০ নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৪জন গ্রাহককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় একজন গ্রাহক প্রবাসী এবং একজন বসুরহাট বাজারের বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী। কিন্তু মামলায় ধরা ছোঁয়ার বাহিরে অবৈধ গ্যাস লাইন বিজিডিএসএল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে গ্যাস সম্প্রসারণ ও গ্যাস পাইব লাইন নির্মানের মূল হোতারা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় অনিয়মের মূল হোতাদের কারো নামেই থানায় মামলা দায়ের করেননি কর্তৃপক্ষ। বরং অনিয়মের মূল হোতারা কৌশলে গ্রাহকদের মামলায় ফাঁসিয়ে দেন।
এলাকাবাসী ও প্রাহকদের দাবী অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ প্রেরত দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক,প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় নিরীহ এলাকাবাসী।
এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলে রাব্বি মিয়া মামলার কথা স্বীকার করেন।
গ্যাস সংযোগের নামে কোম্পানীগঞ্জে ৪ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ২৫ লক্ষ টাকা আত্বসাতের অভিযোগ

মতামত.........