গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন অপহৃত চিনু মিয়ার স্ত্রী ময়না বেগম
গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন অপহৃত চিনু মিয়ার স্ত্রী ময়না বেগম

সুমন কুমার বর্মন,গাইবান্ধা (সদর) প্রতিনিধি:

প্রশাসনের লোক পরিচয়ে অপহৃত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের ডিস ব্যবসায়ি চিনু মিয়ার তিন সপ্তাহেও কোন সন্ধান মিলছে না। এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি জিডি এবং গোবিন্দগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি শিশু সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী ময়না বেগম, বৃদ্ধ মাতাসহ পরিবার-পরিজন চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে।

শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী ময়না বেগম এক লিখিত বিবৃতিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর কাছে এর প্রতিকার এবং স্বামী চিনু মিয়াকে ফেরত পাওয়ার আকুল আবেদন জানান।
লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ জুলাই ২০১৬ সকাল ১১টায় ডিস বিল আদায়ের জন্য চিনু মিয়া বাড়ি হতে বের হয়ে ছাতারপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে মিজানুরের চায়ের দোকানে বসার সাথে সাথেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বুজরুক বোয়ালিয়া ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত ফজুলল হকের ছেলে মো. মনোয়ারুল ওরফে মোনারুল ও তার সহযোগি বিশ্বনাথপুরের মো. বিদ্যুৎ প্রধান, বিপুল প্রধান, শাহিন প্রধান, আব্দুল ওয়াহেদ প্রধান, আব্দুল আজিজ প্রধান, জহুরুল ইসলাম, শাকপালা গ্রামের তাপস মোহন্তসহ অজ্ঞাত আরও ৪ জন পিস্তুল বের করে চিনু মিয়াকে পেছন থেকে হ্যান্ডকাপ দিয়ে বেঁধে ফেলে। ওই সময় চায়ের স্টলে উপস্থিত থাকা লোকজন চিনু মিয়াকে আটকের কারণ জানতে চাইলে তারা প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মিলছে না।
এব্যাপারে গত ৬ জুলাই ২০১৬ সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নথিভূক্ত না করে একটি কম্পিউটার করা কাগজে ময়না বেগমের স্বাক্ষর নিয়ে তা জিডি করে রাখেন এবং আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। ফলে বাধ্য হয়ে গত ২০ জুলাই ২০১৬ ইং তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধায় একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয় (নং ১৭৪)। আদালতের মামলাটি বর্তমানে ডিবি ওসি গাইবান্ধায় তদন্তধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, চিনু মিয়ার ডান চোখ অন্ধ এবং বাম হাতের কজ্বিতে কাটার দাগ রয়েছে। যা ইতোপূর্বে উল্লেখিত মনোয়ারুল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের হামলার ফলশ্রুতি। এব্যাপারেও আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন চিনুর মা ফাতেমা বেগম, ভাই ফজলুর রহমান, বাবু মিয়া প্রমুখ।

গোবিন্দগঞ্জে অপহৃত চিনু মিয়ার সন্ধান চায় তার অসহায় পরিবার

মতামত.........