প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শতাধিক পরিবারকে পথে বসিয়েছে সংখ্যালঘূ নেতা দুলাল মাষ্টার

indexএম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা নারায়ন চন্দ্র সিকদারের ছেলে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সিকদার দীর্ঘ দিন যাবত এলাকাবাসীর সাথে প্রতারনা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, নারায়ন চন্দ্র সিকদারের ছেলে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সিকদার একজন সু-চতুর লোক। তিনি এলাকার বিভিন্ন মানুষকে সরকারি ও বে-সরকারি চাকুরী, এস এস সি পরীক্ষায় পাশ র্রিয়ে দেওয়া, জমির প্লট ক্রয় করে দেওয়া, বদলী করে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এমন কি কয়েকজন মহিলাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা। লেবুতলা এলাকার মৃত ধ্রুব কুমার হীরার বিধবা স্ত্রী লীলা রানি হালদারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক তৈরী করে। দুলাল চন্দ্র সিকদার লীলার বাড়ীতে আসা যাওয়া করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সুকৌশলে লীলার কাছ থেকে প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিয়ে না করে কেটে পড়ে। অপর দিকে একই এলাকার মধুলাল চৌধুরীর স্ত্রী কমলা রানী চৌধুরীর কাছ থেকে প্রতারক সু-চতুর দুলাল শিকদার হাতিয়ে নেয় প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা। এ ভাবে দুলাল মাষ্টার কয়েক শত পরিবারকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়াও সে ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল কলেজের ৬/৭ জন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল সরোজমিন ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে ছুটে আসে কয়েক শত মানুষ। তারা একেক জন বলতে থাকে তাদের সাথে দুলাল সিকদারের প্রতারনার গল্প। কমলা রানী চৌধুরী, মধু চৌধুরী, ভারতী রানী, বাঞ্চা রানী, শৈলেন, রামনী বালা, সুমন্ত, পলাশসহ কয়েক শত লোকের সাথে প্রতারনা করে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুলাল চন্দ্র সিকদার।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী লীলা রানি হালদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের কে বলেন, নারায়ন চন্দ্র সিকদারের ছেলে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সিকদার একজন সু-চতুর লোক। সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে আমার সাথে অবৈধ ভাবে শারীরীক সম্পর্ক তৈরী করে। এরপর থেকে সে আমার বাড়ীতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। আমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে আমাকে জমির প্লট কিনে দেওয়ার কথা বলে এবং আমার ছেলেকে ভাল স্কুলে ভর্তি করার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সে আমাকে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার ছেলে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তিনি আরো বলেন আমি দুলাল মাষ্টারের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কমলা রানী চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দুলাল মাষ্টার আমাকে ও আমার পরিবারকে সর্বশান্ত করে ছেড়েছে। আমি বর্তমানে স্বামী-সন্তান নিয়ে খুব অসহায় ভাবে দিনাতিপাত করছি। তিনি আরো বলেন শুধু আমি নই এই এলাকায় এ রকম কয়েক শত পরিবার রয়েছে। যাদেরকে দুলাল মাষ্টার সর্বশান্ত করে পথে বসিয়েছে। আমিসহ এই ভুক্তভোগি পরিবার গুলি দুলাল মাষ্টারের সুষ্ঠ বিচার চাই। তিনি আরো বলেন আমরা প্রধানমন্ত্রীর এলাকার লোক আমরা চাই ওই প্রতারক দুলালের কঠোর শাস্তি হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দু’জন সহকারি শিক্ষক জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল সিকদার একজন প্রতারক। তার কাছে এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না শুধু মাত্র বেতনের সময় এসে বেতন ভাতা তুলে নিয়ে চলে যান। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বা প্রধান শিক্ষক তাকে কিছুই বলেন না। প্রতিদিন তাকে খুজতে বিদ্যালয়ে লোকজন আসে। আমরা জানতে পেরেছি তার কাছে নাকি অনেক লোকজন টাকা পয়সা পাবে। তারা আরো বলেন এমন শিক্ষকের কঠিন বিচার হওয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আলম তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা নারায়ন চন্দ্র সিকদারের পুত্র বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সিকদার একজন সু-চতুর লোক। সে আমার ইউনিয়নের প্রায় ৪ শত পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে সরকারি ও বে-সরকারি চাকুরী দেওয়ার কথা বলে, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এস এস সি পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে, বিভিন্ন লোককে জমির প্লট ক্রয় করে দেওয়ার নামে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। আমি তার এ সব বিষয়ে কয়েকবার এলাকায় সালীশি করেছি। সে তার কর্মরত বিদ্যালয়ে ঠিকমত ক্লাস করেনা। মাঝে মাঝে স্কুলে এসে বেতন ভাতা নিয়ে যায়। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও প্রশাসনের কাছে উক্ত দুলাল মাষ্টারের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে করে তার মাধ্যমে আর কোন পরিবার বা কোন লোক সর্বশান্ত না হয়।

এ ব্যাপারে বাঁশবাড়ীয়া ঝনঝনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সিকদারের ব্যবহিৃত মোবাইল ০১৭১৩-৫৪২৬৬০ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমি অভিযোগ কারিদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছি টাকা দিতে পারছি না। তাই হয়তবা তারা আমার বিরুদ্ধে এ সব কথা বলে বেড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন আমার ভাই-বন্ধুও সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারের আগে একটু ভেবে দেখবেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী পরিবারগুলি ও সাধারন মানুষ দুলাল মাষ্টারের প্রতারনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শতাধিক পরিবারকে পথে বসিয়েছে সংখ্যালঘূ নেতা দুলাল মাষ্টার

মতামত.........