,

গুলশানে জঙ্গী হামলায় কারা জড়িত, জানতে চান গয়েশ্বর

goyesshor_209610সংবাদ সবসময় ডেস্ক:
গুলশানে জঙ্গী হামলায় কারা জড়িত, জানতে চান গয়েশ্বর, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পর উগ্রবাদ ঠেকাতে জাতীয় ঐক্যের যে ডাক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন তাতে সাড়া না দিয়ে উল্টো সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা সমালোচনা করায় জনমনে এ সন্দেহ দেখা দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এমনকি সরকারের লোকজন এতে জড়িত কি না সে ব্যাপারে মানুষের সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (১৫ জুলাই)দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় নাগরিক সংসদ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নিঃশর্ত জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মুখ বন্ধ ছিল। দুই-তিনদিন জামায়াত-শিবির-বিএনপির নামও বলেনি। ১০ দিন রিহার্সেল দিয়ে মাঠে নামলেন নাসিম-ইনুরা। সবার ভাষা এক ও অভিন্ন। বলতে শুরু করলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদী। মানুষের কাছে এটা চরম বিরক্তিকর, এমনকি যে লোক বিএনপি করে না তার কাছেও বিরক্তিকর।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘আপনি কি এই ঘটনা মোকাবেলা করবেন, এ ব্যাপারে আপনার কি কোনো আন্তরিকতা আছে, নাকি এটাকে সামনে রেখে খুঁজে খুঁজে বিরোধী দলের লোকদেরকে নিঃশেষ করবেন? এটা আজ জাতির কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় দেশবাসী আজ আতঙ্কিত। জাতির এই দুঃসময়েও সরকারের দাম্ভিকতার শেষ নেই। অথচ ওই ঘটনায় সাধারণ লোক বলেন, এটি একটি নাটক। এটি সরকারই করেছে, কয়দিন পরপরই করবে। আমরা (দেশবাসী) এটি নিয়ে ব্যস্ত থাকব। আর উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমৃত্যু রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতির এই দুঃসময়ে আজকে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) দাম্ভিকতা মানায় না। খোলা হাতে মানুষের কাছে আপনার হাত পাতা দরকার। বলা দরকার- আমি যা করছি ভুল করছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনারা আসুন, আজকে দেশের এই দুর্যোগে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এটিই আপনার জন্য একমাত্র পথ। কারণ, আপনাকে রাষ্ট্র দায়িত্ব দেয়নি, দায়িত্ব দিলেও ক্ষমতা দেয়নি।’

গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে সরকার আমাদের সঙ্গে না বসতেই পারে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য যদি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন হয়, তাহলে তারা তাদের পছন্দের লোকদের নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন। আর আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যারা যারা নামতে চায় তারাও নামুক। ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে থেকেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। এজন্য গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো উন্মুক্ত করা দরকার। আমার কাজটা করতে আমাকে কোনো ধরনের বাধা দেয়া যাবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগাম বলেছেন, আরো ঘটনা ঘটানোর সম্ভাবনা আছে। হ্যাঁ, ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তো আছে। যদি (আপনি) ঘটান, তাহলে তো ঘটবে। আর সম্ভাবনা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে ঘটনা মোকাবেলা করার জন্য আপনি কী উদ্যোগ নিলেন, সেটা তো বললেন না। দেশবাসী তা জানতে চায়।’

জাতীয় নাগরিক সংসদের সভাপতি খালেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

মতামত.........